google

Loading

facebook

CHITIKA

Sofiul is The Best.....................

এই মুহূর্তে বাংলাদেশ দলের সেরা পেসার কে- প্রশ্ন করা হলে বেশির ভাগেরই উত্তর হবে শফিউল ইসলাম সুহাস। জাতীয় দলের হয়ে ৪ঠা জানুয়ারি ২০১০ এ ওডিআই ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অভিষেক হওয়া শফিউলের চোখে এখন শুধুই বিশ্বকাপ। ক্যারিয়ারে ২৩টি ওডিআই ম্যাচে ৩২টি উইকেট আর ৫ টেস্টে ৭টি উইকেট শিকারী এই পেসার আইসিসির উদীয়মান ক্রিকেটারের খ্যাতি পেয়ে গেছেন। বগুড়ার ছেলে শফিউল ইসলাম স্বপ্নেও কল্পনা করেননি তিনি ২০১১-এর বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবেন। তাই বিশ্বকাপ বলতেই তার চোখে-মুখে অন্য রকম একটি পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেল। অভিষেক থেকে গত ২৭শে জানুয়ারি মাত্র ১ বছর ২৪ দিনেই বিশ্বকাপ? সামপ্রতিক সময়ে তার পারফরমেন্স বোলিং অ্যাকশন সব মিলিয়ে শফিউল এখন জাতীয় দলের তারকা। এসব নিয়ে কথা হয় জাতীয় দলের এই উদীয়মান পেসারের সঙ্গে।মানবজমিন: ২০১১ বিশ্বকাপ তো আপনার প্রথম বিশ্বকাপ, কেমন লাগছে?শফিউল ইসলাম: এটা তো আমার কাছে স্বপ্ন ছাড়া আর কিছু না। আমি তো কল্পনাও করিনি বিশ্বকাপ খেলবো। এই মুহূর্তে আমার দিন-রাত, ধ্যান-জ্ঞান কেবলই বিশ্বকাপ। আমি যখন খেলা শুরু করি তখনও ভাবিনি বিশ্বকাপ খেলবো।মানবজমিন: এ যাবৎ খেলা ২৩ ওয়ানডে ম্যাচে কোন ব্যাটসম্যানকে বল করা আপনার কাছে কঠিন মনে হয়েছে?শফিউল ইসলাম: এমন কাউকে আমি পাইনি। যখন যে ভাল খেলেছে তাকেই আমার কঠিন মনে হয়েছে। তবে শচীনের বিরুদ্ধে আমি টেস্টে বল করেছি। ওডিআই ম্যাচে শচীনের বিপক্ষে বল করা হয়নি। এবার বিশ্বকাপে সে আশা পূর্ণ হবে।মানবজমিন: কোন ম্যাচটি বেশি স্মরণীয়?শফিউল ইসলাম: ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ড সফরে সিরিজের প্রথম ওডিআই ম্যাচ। ওই দিন আমি ৬৮ রানে ৪ উইকেট শিকার করি।মানবজমিন: বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী তিনটি দল ভারত, ইংল্যান্ড ও ওয়েস্টইন্ডিজ। এ তিন দলের কোন ব্যাটসম্যানকে নিয়ে আপনার বিশেষ কোন পরিকল্পনা আছে কি?শফিউল ইসলাম: ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে একাধিক অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান আছে। আমি ভাবছি, লম্বা লাইনআপের ভারতকে নিয়ে। ভারত এ উপমহাদেশের দল। ওরা বাংলাদেশের কন্ডিশনের পেস ও স্পিন খেলে অভ্যস্ত। তাই ওদের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা তো থাকবেই।মানবজমিন: ওডিআই ম্যাচে অভিষেক বছরে ২৩ ম্যাচে ৩২ উইকেট শিকার করে আইসিসি বর্ষসেরা তৃতীয় উইকেট শিকারী হয়েছেন। বিশ্বকাপে এই খ্যাতিটা কি আপনাকে চাপে ফেলবে বলে মনে করেন?শফিউল ইসলাম: না, আমি তা মনে করি না। যা হয়েছে তা শুধু ঘটে যাওয়া ঘটনা। এখন যা হবে তা সবই নতুন। বিশ্বকাপ নিয়ে আমি আলাদাভাবে ভাবছি। বিশ্বকাপে আমি যে পারফরমেন্স করবো সেটা পুরো বিশ্ব দেখবে। চাপ নিয়ে কখনও ভাল খেলা যায় না।মানবজমিন: আপনি তো জাতীয় দলের পেসারদের মধ্যে এই মুহূর্তে সেরা। আপনার বর্তমান জীবন-যাপনে কোন সমস্যা হয় কি?শফিউল ইসলাম: না, তা কেন হবে? আমি আগের মতোই আছি এবং সে রকমই থাকতে চাই। সাধারণ জীবন-যাপনই আমার পছন্দ।মানবজমিন: আন্তর্জাতিক বোলারদের মধ্যে আপনি কাকে মডেল হিসাবে ফলো করেন?শফিউল ইসলাম: ব্রেট লি, শোয়েব আক্তার ও অবশ্যই মাশরাফি ভাই।মানবজমিন: বিশ্বকাপে আপনার পরিকল্পনা কি?শফিউল ইসলাম: আমি ২০১১ বিশ্বকাপটাকে স্মরণীয় করে রাখতে চাই। যাতে করে এদেশের মানুষ আমাকে মনে রাখে। এবং আমি আগামী দিনের ক্রিকেটারদের কাছে অনুকরণীয় কিছু করে যেতে চাই।মানবজমিন: একটি ব্যক্তিগত প্রশ্ন। প্রেম করেন বলে শোনা যায়। সেটা কবে থেকে এবং কার সঙ্গে?শফিউল ইসলাম: এক জনকে ভালবাসি। সে বগুড়ায় থাকে। তার নাম বলা যাবে না। সম্পর্ক ৬ বছরের।

শাহাদাতের মতো প্রত্যাবর্তন হতে পারত মাশরাফিরও ?

প্রত্যাবর্তনের মঞ্চটা সাজানো ছিল দুজনের জন্যই। বীরদর্পে তাতে অধিষ্ঠিত হলেন শাহাদাত হোসেন, তাঁকে ঘিরে অলক্ষ্যে বয়ে যাওয়া চিরন্তন দীর্ঘশ্বাসটিকে আরেকটু উসকে দিয়ে। কিন্তু বীরের বেশে ফেরা হলো না মাশরাফি বিন মর্তুজার। অনেক সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষটা হলো অনেক আক্ষেপ নিয়ে। অথচ ভাগ্যের একটু পরশ পেলে কত ভিন্ন রকমই না হতে পারত!
মাশরাফির সঙ্গে ভাগ্যের বৈরিতার এই গল্প তো নতুন না। বারবার ভাগ্য তাঁর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, কিন্তু এর মুখাপেক্ষী না থেকে নিজেই গড়ে নেন নিজের ভাগ্য। তাই তো ইনজুরির পর ইনজুরিতে তাঁকে বাতিলের খাতায় ফেলে দিলেও তিনি ফুরিয়ে যান না। বরং মাঠের পারফরম্যান্সে প্রমাণ করেন নিজের অপরিহার্যতা। কালও করেছেন, অন্তত শুরুর দিকটায়। ১৩ এপ্রিল ২০১১ সালের পর প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে নেমে মাশরাফির শুরুটা ছিল দারুণ। না, চটকদার কিছু নয়। বলে গতির ঝড় তোলেননি কিংবা সুইং-বাউন্সে খাবি খাওয়াননি প্রতিপক্ষকে। তবে ঠিক লাইন-নিশানায় বল ফেলে ঠিকই চাপে রেখেছিলেন মোহাম্মদ হাফিজ, নাসির জামশেদদের।

ইনিংসের প্রথম ওভারেই অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম বল তুলে দিয়েছিলেন মাশরাফির হাতে। ওই ওভারে রান বলতে কেবল একটি ওয়াইড। পরের ওভারে এক রান, আর তার পরের দুই ওভারে দুটি করে রান। ইনিংসে নিজের পঞ্চম ওভারে এসে প্রথম বাউন্ডারির শিকার হন। প্রথম স্পেলে সেটিই শেষ ওভার। ৫-০-১৩-০ স্পেলটি জাদুঘরে রাখার মতো নয় ঠিকই, কিন্তু নিজেকে ফেরার লড়াইয়ে থাকা এক সৈনিকের বিবেচনায় দুর্দান্তই বলতে হবে।

কিন্তু এই যে প্রতিশ্রুতি, সেটির পূর্ণ প্রতিফলন আর থাকেনি ইনিংস শেষে। ১৯তম ওভারে ছয় বলের জন্য ফিরে দেন ১০ রান, ৪১তম ওভারে আরো চার। তখনো পর্যন্ত মাশরাফির বোলিং ফিগার যথেষ্ট ভদ্রস্থ : ৭-০-২৭-০। কিন্তু ৪৫তম ওভারে শেষ স্পেলে ফিরে পাকিস্তানের রানফোয়ারায় বাঁধ দিতে আর পারেননি। দুর্ভাগ্যই। উমর গুলের ব্যাট ছুঁয়ে যাওয়া বল অন্তত বার দুয়েক পড়েছে 'নোম্যানস ল্যান্ড'-এ। এই গুলই শেষ ওভারে হয়ে যায় মাশরাফির হন্তারক। টানা তিন বলে দুটি চার এবং এক ছক্কায় বিবর্ণ করে দেন তাঁর বোলিং ফিগার। শেষ বলে তাঁকে বোল্ড করাটা হয়ে থাকে মাশরাফির কেবলই সান্ত্বনা। ১০-০-৫৫-১ বোলিং ফিগার সে কথাই বলবে!

আর শাহাদাত? টেস্ট বোলারের তকমা গায়ে সেঁটে যাওয়ায় বছর দুয়েক ধরেই ওয়ানডেতে ব্রাত্য তিনি। রঙিন পোশাকে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিলেন ২০১০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ক্রাইস্টচার্চে। কাল ফিরে দেখালেন ভেতরের আগুনটা একেবারে নিভে যায়নি। প্রথম স্পেলে তিন ওভারে ১৮ রান দেওয়ার পর অবশ্য তেমনটা মনে হয়নি। মনে হলো দ্বিতীয় স্পেলে ফেরার পর। টানা তিন ওভারে ৩ উইকেট। প্রথমে বিপজ্জনক ইউনিস খান, এরপর সেঞ্চুরির সুবাস পাওয়া মোহাম্মদ হাফিজ, তারপর প্রতিশ্রুতিশীল আসাদ শফিক শাহাদাতের শিকার। এতেই মেরুদণ্ড গুঁড়িয়ে যায় পাকিস্তানের। তিন শ'র স্বপ্ন দেখা দলটি তো শেষ দিকে আড়াই শ ছুঁতেই ধুঁকছিল।

অর্ধযুগ আগের একটা সময়ে বাংলাদেশের নতুন বলের দুই ভরসা ছিলেন এই দুজন। মাশরাফি ও শাহাদাত। একজনের ইনজুরি, অন্যজনের খামখেয়ালিপনায় কক্ষচ্যুত হয়ে যায় এই জুটি। কাল পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের ফেরার মঞ্চে প্রতিশ্রুতি ছড়িয়েছেন এ দুজন। বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে আরেকটি ঘটনা কাল ঘটল বহু দিন পর। ঘরের মাঠে তিন বছরেরও বেশি সময় পর একাদশে তিন পেসার নিয়ে খেলল স্বাগতিকরা। ২০০৯ সালের ২৩ জানুয়ারি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে সর্বশেষ তিন পেসার খেলিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর দেশের মাটিতে ২০০৯ সালে পাঁচটি, ২০১০ সালে ১৫টি এবং ২০১১ সালে ১৫টি ওয়ানডে খেলে তারা। কিন্তু স্পিনবান্ধব উইকেটে এর কোনোটিতেই তিন পেসার খেলায়নি। বেশির ভাগ সময় দুই এবং কখনো-সখনো একজন স্পেশালিস্ট পেসারও ছিলেন একাদশে। কাল মাশরাফি-শাহাদাতের পাশাপাশি শফিউল ইসলামও ছিলেন। কিন্তু ৮ ওভারে ৪৯ রান দিয়ে সেটির যথার্থতা প্রমাণ করতে পারলেন কই শফিউল!
 

বাংলাদেশের জয়ে বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার অভিনন্দন

 বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিজয়ে বাংলাদেশ দলের খোলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া। বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান শুক্রবার রাতে  এ তথ্য জানান। তিনি জানান, বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা আগামী ম্যাচগুলোতেও ভালো খেলে জয়ের এ ধারা অব্যাহত রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। সেইসঙ্গে খালেদা জিয়া বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।

বাংলাদেশের জয়ে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিজয়ে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাসহ বাংলাদেশ ক্রিকেট দল সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য জানান। তিনি জানান, বিশ্বকাপের আগামী ম্যাচগুলোতেও বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা এই সাফল্য ধরে রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবার চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে এই ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ২ দুইকেটে পরাজিত করে বাংলাদেশ।

ভাগ্যে নয়, খেলেই জিতেছি: সংবাদ সম্মেলনে সাকিব

সংবাদ সম্মেলনে এসে সাকিব আল হাসান বললেন, ভাগ্যের জোরে নয়, ভালো খেলেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে সাকিব এও স্বীকার করলেন, আট উইকেট হারানোর পর দলের এই বিজয় তার কাছেও অবিশ্বাস্য মনে হয়েছে। "এটা দারুণ এক জয়, আমি ভাবতেও পরিনি যে শেষ পর্যন্ত আমরাই জিতব। এটা আমার কাছেও অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে।" চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে প্রথম ইনিংসে ৪৯ ওভার ৪ বলে ২২৫ রানেই ইংল্যান্ডকে বেঁধে ফেলে বাংলাদেশের বোলাররা। সাকিব বলেন, "ইংল্যান্ড ২২৫ রান করার পর আমার মনে হয়েছিল, জয় সম্ভব।" কিন্তু জবাব দিতে নেমে এক পর্যায়ে ৮ উইকেট হারিয়ে সহজ ম্যাচটাও কঠিন করে ফেলে টাইগাররা। তবে শেষ পর্যন্ত ৪৯ ওভারে দলতে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন শফিউল ইসলাম ও মাহামুদুল্লাহ রিয়াদ। হাতে তখনো দুটি উইকেট। শ্বাসরুদ্ধকর এই জয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্নও বাঁচিয়ে রাখলেন তারা। ম্যাচ শেষে সাকিব বললেন, সহযোদ্ধাদের প্রতি বিশ্বাস ছিল তার। "আজ সবাই ভালো খেলেছে। আজ আমরা দেখিয়েছি, যে কোনো পরিস্থিতিতে জয় বের করে আনতে পারি আমরা।" এই অভাবিত জয়ে ভুলগুলোর কথা ভোলেননি ওয়ানডেতে বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার। বাংলাদেশের ইনিংসের রান আউটগুলোর দিকে আঙুল তুলে সাকিব বলেন, "আমাদের ভুলগুলো সংশোধন করতে হবে।" ওই আউটগুলোই বাংলাদেশ দলকে হারিয়ে দিতে বসেছিল। ইংলিশ অধিনায়ক এন্ড্রু স্ট্রাউস অবশ্য মনে করেন, টসে হেরেই আসলে ম্যাচ হেরেছে তার দল। টসে জিতলে আগে ব্যাট করতেন জানিয়ে তিনি বলেন, "এই উইকেটে দ্রুত রান তোলা কঠিন। খুবই স্লো উইকেট এটা।" মাঠের শিশিরও ইংল্যান্ড দলকে ভুগিয়েছে বলে জানান তিনি। তবে স্ট্রাউস মনে করেন, বাংলাদেশের বিপক্ষে হারলেও বিশ্বকাপ জয়ের আশা পুরোপুরি নিভে যায়নি ইংল্যান্ডের। "আমরা এখনো ছিটকে পড়িনি। আমাদের পারফরম্যান্সও পড়ে যায়নি।" বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬০ রান করে ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন ইমরুল কায়েস। তবে তার মতে, বাংলাদেশের ইনিংসের শেষ দিকে ব্যাট করতে নেমে দলকে জয়ের পথ দেখানো পেসার শফিউল ইসলামও ম্যান অব দ্য ম্যাচ হতে পারতেন। বল হাতেও ৪৮ রানে ১ উইকেট নিয়েছেন তিনি। কায়েস বলেন, "আমি সারাক্ষণই চেষ্টা করে গেছি ইনিংসটাকে লম্বা করতে; আর অন্যদের সঙ্গ দিতে।"

আনন্দে উত্তাল রাতের চট্টগ্রাম

মাঝে এক ম্যাচে শোচনীয় পরাজয়, তারপর আবারও জেগে উঠলো রাজপথ। শ্বাসরুদ্ধকর এক ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টাইগারদের ২ উইকেটে জয়ের পর বাঁধভাঙা আনন্দে মেতেছে রাতের চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামবাসীর সঙ্গে আনন্দের বন্যায় ভাসলো পুরো দেশ। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের ইনিংসের ৪৯তম ওভারের শেষ বলে  মহ্মুদুল্লাহের  চার রান নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো এলাকা। অথচ ঠিক ৪৫ মিনিট আগেই দলে দলে স্টেডিয়াম ছেড়ে চলে যাচ্ছিলেন হতাশ দর্শকরা। আনন্দের খবরে স্টেডিয়ামে ফিরতে দেরি হয়নি তাদের। রাত সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকায় শুধু মিছিল আর মিছিল। বিজয় বহরের প্রথম মিছিলটি বের হয় স্টেডিয়ামের মিডিয়াবক্স সংলগ্ন সেনবাড়ি সড়কের জেলে পাড়া থেকে। বিভিন্ন বয়সী নারী পুরুষ ঢোল আর কাসার ঘণ্টা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন বিজয় উদযাপনে। তাদেরই দুজন বিনু রানী দাশ ও নিরু বালা দাশ ভোঁ দৌড়ে পৌঁছে যান স্টেডিয়ামের পশ্চিম ফটকে। বিনু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "আমাদের আঙ্গিনায় খেলে বাংলাদেশ জিতল, তাই খুব খুশি হয়েছি।" শ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দিরের ঢোল আর কাঁসর ঘণ্টা নিয়ে মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন ষাটোর্ধ্ব সুরজা রানী দাশ। তিনি বলেন, 'সব মঙ্গল কামনায় ঢোল কাঁসা বাজানো আমাদের ধর্মীয় রীতি। তাই বাজাচ্ছি।" এই বাদ্যের সঙ্গে রাজপথ জুড়ে ছিল মাঠ ফেরত দর্শকদের উন্মাতাল নাচ। দেশের জয়ে আত্মহারা সায়েম স্টেডিয়ামের পূর্ব ফটকে দাঁড়িয়ে বললেন, "বাংলাদেশ দল জিতুক আর হারুক, আমরা তাদের সাথেই আছি।" এলাকার শিশুদের বিজয় উদযাপনের হাতিয়ার ছিল কুড়িয়ে পাওয়া ভুভুজেলা। সকালে স্টেডিয়ামে আসা দর্শকরা ভুভুজেলা নিয়ে ভেতরে ঢুকতে পারেননি। সেগুলো দখল করে রাতে পুরো স্টেডিয়াম এলাকা সরব করে তোলে তারা। আধ ঘণ্টার মধ্যে শহরের জিইসি মোড়, এনায়েতবাজার, চেরাগী পাহাড় মোড়, সিআরবি, ওয়াসার মোড়, টাইগার পাসসহ পুরো চট্টগ্রাম যেন মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়। সিআরবি, জিইসি মোড় ও হালিশহরের বিডিআর মাঠ এলাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ ১০টি মোড়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে বড় পর্দায় খেলা দেখানো হয়। বিডিআর মাঠ এলাকার দর্শক মো. মামুনুর রশিদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এখানে শুধুই বিজয় মিছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে পরাজয়ের পর দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল। এমন জয়ের পর দ্বিতীয় রাউন্ড মনে হয় নিশ্চিত। খেলা দেখার আনন্দ থেকে বাদ যাননি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও। স্টেডিয়ামে রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদেরও বিজয়ের পর উল্লাস করতে দেখা গেছে। এপিবিএন'র সদস্য মইনুল, কিশোর, মিনহারা খেলার আপডেট শুনছিলেন দমকল বাহিনীর গাড়িতে থাকা রেডিওতে। বাংলাদেশ দলের চার উইকেট পড়ার পর হতাশ হয়েছিলেন তারাও। তবে বিজয়ের পর সবাইকে মিলেমিশে আনন্দ করেত দেখা গেছে। শুধু নগরীতে নয় জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও আনন্দ মিছিল বের হয়েছে। আনোয়া উপজেলার কাফকো আবাসিক এলাকার শিক্ষার্থী ইসমত জাহান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এখানে বিজয় মিছিল বের হয়েছে। কলোনির সব বয়সী মানুষ আনন্দ করছে। নগরীর জিইসি এলাকায় হোটেল পেনিনসুলায় রয়েছেন বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা। উল্লসিত জনতা তাদের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের দর্শক-সমর্থকদের কাছে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। 
সুত্র :  বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

স্পিন জাদুতেই কপুকাথ অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের বাহিনী !!!!!

বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে ইংলিশ অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের ভয় ছিল টাইগার স্পিনারদের নিয়ে । ম্যাচের আগের দিন তাই তিনি বলেছিলেন, নিজেদের কন্ডিশনে বাংলাদেশের স্পিনাররা খুবই ভয়ঙ্কর । তার কথা যে ঠিক ছিল তার প্রমাণ ইংলিশদের সংগ্রহ ২২৫ । এটাকে বড় কোনো স্কোর বলা যায় না । বিশ্বকাপে আগের তিন ম্যাচে জ্বলে উঠতে না পারলেও চতুর্থ ম্যাচে ঠিকই জ্বলে উঠলেন রাজ্জাক-সাকিব-নাঈম-রিয়াদরা। ইংল্যান্ডের ১০ উইকেটের মধ্যে সাতটিই শিকার করেছেন লাল-সবুজদের স্পিনাররা । গতকাল চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশের স্পিনারদের দাপটে দাঁড়াতেই পারেননি ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা । টাইগারদের চার স্পিনারের মারাত্মক বোলিংয়ে শেষ পর্যন্ত তারা ৪৯.৪ ওভারে ২২৫ রানেই গুটিয়ে যান । প্রিয়রকে ফিরিয়ে দিয়ে বল হাতে বাংলাদেশের স্পিন জাদুকর আবদুর রাজ্জাক ইংল্যান্ডের পতন শুরু করেন। আর পেসার রুবেলের বলে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ পল কলিংউডকে রানআউট করার মধ্য দিয়ে শেষ করেন ইংলিশ ইনিংসের । অবশ্য টাইগার পেসাররাও দুটি উইকেট নিয়ে স্বল্প পুঁজিতে ইংল্যান্ডকে বেঁধে রাখায় সহায়তা করেন । নাঈম ২৯ রানে, রাজ্জাক ৩২ রানে ও অধিনায়ক সাকিব ৪৯ রানে দুটি করে উইকেট পেলেও রিয়াদ ৩০ রানে পান একটি উইকেট । অপরদিকে পেসার শফিউল ও রুবেল ৪৩ ও ৪০ রানে পান একটি করে উইকেট। বাংলাদেশের জন্য টার্গেট ২২৫ কিছুই না, তবে প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড তাই জয় সহজে ভাবা অসম্বভ বাংলাদেশ বাটিং জিনিয়াস তামিম ঘরের মাটিতে ভালো কিছু করার আভাস দিলেন তিনি ২৬ বলে করেন ৩৮ রান ,তার পর জুনাইদ এর চিরচেনা রানআউট,মিডল অর্ডার এর পরিবর্তন করে দেয়া হলো দায়ত্ব রকিবুলের কাদে কিন্তু আবারও বার্থ,রানের খাতা না খুলেই সাজঘরে এখন বাংলাদেশের দরকার একটা পার্টনারসিপ দায় সাকিব ও ইমরুলের কাধে জুটি হলো ও বটে সাকিব ৫৮ বলে ৩২ রান করে সুয়ানের বলে বল্ড হন তারপর আর এক সেট বাট্সমান ইমরুল ১০০ বলে মাচ সেরা ৬০ করে রানআউট এর শিকার হন তখনও বাংলাদেশ অনিস্চয়্তায়,তার পরের কাহিনী সবসময়ের মুস্ফ্রিক,নায়ীম ও রাজ্জাকের এর আসা যাওয়া , এই অবস্তায় দলের কান্ডারী মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও তার সঙ্গে বোলার শফিউল জয়ের জন্য দরকার ৫৮ রান ৬২ বলে সফিউলের মারমুখী ২৪ বলে ২৪ ও মাহমুদুল্লাহ এর ৪২ বলে ২১ বাংলাদেশের বাটিং পাওযার প্লে কাজে লাগিয়ে ৬ বল বাকি থাকতেই জয় ছিনিয়ে নেয় বাংলাদেশ

অবশেষে গর্জে উটেছে টাইগারা !!!!!!!

সমুদ্র তীরে ঢেউয়ের গর্জন শুনতে পাওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু ইংলিশ ক্রিকেটাররা শুনল টাইগারদের বোলিংয়ের গর্জন। সাকিবদের দাপুটে বোলিংয়ে ছিন্নভিন্ন হলো ইংলিশ দুর্গ। ৪৯.৪ ওভারে মাত্র ২২৫ রানেই অলআউট স্ট্রাউস বাহিনী। অবশ্য গতকাল চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের শুরুটা হয়েছিল অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের টস জয় দিয়ে। ভাগ্যবান অধিনায়কই বটে সাকিব। বিশ্বকাপের চার ম্যাচেই তিনি জিতেছেন টস। এটা একটা রেকর্ড হয়ে গেল কিনা তা নিয়ে গবেষণা হতে পারে।এদিকে রাত ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত টাইগাররা ব্যাটিংয়েও ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছিল। তারা ২৮ ওভারে ৩ উইকেটে সংগ্রহ করে ১৩৫ রান। ওপেনার ইমরুল কায়েস ৯১ বল খেলে তার সপ্তম ওয়ানডে ফিফটি পূর্ণ করেন। তিনি ৫১ রানে এবং অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ২০ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। শেষমেষ টাইগাররা যদি বোলিং-ফিল্ডিংয়ের মতো তাদের ব্যাটিং নৈপূণ্য বজায় রাখতে পারে জয় হাতছাড়া হবে না। আর না হলে বোলিং-ফিল্ডিংয়ের সাফল্যটাই সমর্থকদের কাছে 'বড় সান্ত্বনা' হয়ে থাকবে।এর আগে টসে জিতে সাকিব উইকেটের কথা চিন্তা করে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। অধিনায়কের সিদ্ধান্তকে সফল করেন বোলাররা। পরিষ্কার করে বললে স্পিনাররা। কেননা কাল নাঈম, সাকিব, রাজ্জাক ও মাহমুদুল্লাহ চার স্পিনারই নিয়েছেন সাতটি উইকেট। শুরুটাও করেছিলেন স্পিনাররাই। রাজ্জাক ইংলিশদের প্রথম উইকেটটি (প্রিয়র) তুলে নিয়ে শুরুটা করে দেন। এদিকে রুবেল তার প্রথম স্পেলে তিন ওভার বল করে কোনো উইকেট না পেলেও মাত্র পাঁচ রান দিয়েছেন। বিশ্বকাপে বোলারদের আতঙ্ক ইংলিশ অধিনায়ক স্টাউসকে রান না দেওয়াই বড় সাফল্য। তবে ইংলিশ দূর্গে প্রথম আঘাতটাও তো করেন পেসার রুবেলই। ৩২ রানে স্টাম্পিং হয়ে যান ইংলিশ ওপেনার ম্যাট প্রিয়র। এক্ষেত্রে চমৎকার বুদ্ধিমত্ত্বার পরিচয় দিয়েছেন মুশফিকুর রহিম।নাঈম ইসলামের দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে স্টাউস স্লিপে জুনায়েদের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে বিদায় নিলে পুরো স্টেডিয়াম আনন্দে ভাসে। সাগর পাড়ে শুরু হয় উৎসবের জোয়ার। সাগর পাড়ে এই কারণে যে আসলে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামটাই সাগরের কোল ঘেঁষে।প্রথম তিন ম্যাচে স্পিন জাদুকর রাজ্জাক সেভাবে জ্বলে উঠতে না পারায় সমালোচনা হচ্ছিল। র‌্যাঙ্কিংয়ে ছয় ধাপ পিছিয়ে রাজ্জাক নিজেই যেন ভালো করার জন্য ছটফট করছিলেন। কাল ৩২ রানে ২ উইকেট নিয়ে কিছুটা হলেও শান্তনা পেয়েছেন তিনি। রান দেওয়ার ক্ষেত্রে নাঈম ইসলাম কালও ছিলেন বেশ হিসাবি। ২৯ রানে তিনি নিয়েছেন ২ উইকেট। দুই উইকেট নিয়েছেন সাকিবও। রুবেল, শফিউল, মাহমুদুল্লাহও বাদ যাননি। তারা একটি করে উইকেট পেয়েছেন।ম্যাচ শুরুর আগেই স্ট্রাউস বাংলাদেশের স্পিন নিয়ে বেশ চিন্তায় ছিলেন। সেই স্পিন যাদুর কারণেই ইংলিশদের বেধে রাখা গেল ২২৫ রানে। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম জোনাথন ট্রট ও ইয়ান মর্কেল। মাত্র ৫৩ রানে ইংল্যান্ডের তিন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফিরলেও তারা দুজন মিলে চতুর্থ উইকেট জুটিতে ২২ ওভারে ১০৯ রান করেন। ট্রট ও মর্কেল যতক্ষণ উইকেটে ছিলেন মনে হচ্ছিল যেন একটা বড় ইনিংসের দিকেই যাচ্ছে ইংল্যান্ড। কিন্তু মর্কেল ৬৩ ও ট্রট ৬৭ রানে আউট হয়ে যাওয়ার পর বাকিরা কেউ উইকেটে সেট হতে পারেননি। লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা একের পর এক আউট হয়েছেন। মাত্র ৩০ রানে ইংল্যান্ডের শেষ ৫ ব্যাটসম্যান আউট হন।

টাইগাররা আবারো তাদের সামর্থের প্রমাণ দিল।

টাইগাররা আবারো তাদের সামর্থের প্রমাণ দিল। শ্বাসরুদ্ধকর এক জয় উপহার দিল টাইগারের দল। আশা জাগানু ম্যাচে উন্থান পতন যে কতবার হয়েছে তার হিসাব নেই। কখনো জেতার আশা দর্শকদের আনন্দের সাগরে ভাসিয়েছে। আবার কখনো পরাজয়ের ভয় দর্শকদের কাঁদিয়েছে। ২২৬ রানের টার্গেট নিয়ে মাঠে নেমে কান্না- হাসির এই খেলায় ইনিংসের শুরুতে ইংল্যান্ড বোলাদের তুলোধুনা করেন মারকুটে ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল। তার ব্যাটেই জয়ের স্বপ্ন দেখে ১৬ কোটি মানুষ। এরপরের স্মৃতি অতটা সুখকর নয়। আসা যাওয়ার মিছিলে জুনায়েদ, রাকিবুল হাসান নাম লেখালেও ইমরুল কায়েস এক বিরোচিত ইনিংস খেলেন। জয়ের ভিতটা তিনি অনেকটা মজবুত করেই সাজঘরে ফিরেন। অধিনায়ক সাকিব একটা বড় স্কোর খেলার চেষ্টা করলেও মানসিক চাপে তা আর হয়ে উঠেনি। মুশফিকুর রহিমও ক্রিজে টিকতে পারনি বেশিক্ষণ। যাদের কথা না বললেই নয় ম্যাচ জয়ের নায়ক হিসেবে আবির্ভূত হন রিয়াদ আর আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয়ের নায়ক শফিউল ইসলাম। তারা দুজনেই জয়ের আশার আলো আস্তে আস্তে ফোটাতে থাকেন। মুখে হাসি ফুটতে থাকে গ্যালারিতে থাকা দর্শকদেরও। অবশেষে তারা ২ উইকেটে জয় উপহার দিয়েই খেলা শেষ করেন। বাংলাদেশের পক্ষে ইমরুল কায়েস সর্বোচ্চ ৬০ রান করেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর বোর্ড
তামিম ৩৮, ইমরুল কায়েস ৬০, জুনায়েদ সিদ্দিকী ১২, রাকিবুল হাসান ০, সাকিব ৩২, মুশফিক ৬, মাহমুদুল্লা অপরাজিত ২১, নাঈম ইসলাম ০, রাজ্জাক ১, শফিউল অপরাজিত ২৪।

টাইগারদের অগ্নিপরীক্ষা ও জীবন মরণ যুদ্দ

আজ বাংলাদেশের অগ্নিপরীক্ষা। এটা নয় যে, বাংলাদেশ কোনো দিন ইংল্যান্ডকে হারায়নি অথবা হারানোর ক্ষমতা রাখে না। অগ্নিপরীক্ষা বললাম এই জন্য যে, এ ম্যাচের জয়-পরাজয়ের মধ্যেই লুকিয়ে আছে বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনালে উন্নীত হওয়া না হওয়ার ব্যাপারটি।আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে হারের পর দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে নতুন করে জীবন ফিরে পান ইংলিশরা কোয়ার্টার ফাইনাল কোয়ালিফিকেশন দৌড়ে। ১৭১ রানের টার্গেট ডিফেন্ড করে ম্যাচ জেতার পেছনে প্রয়োজন অদম্য মনোবল এবং অতীব ভালো বোলিং ও ফিল্ডিং। পুরোটাই প্রদর্শিত হয়েছিল ইংলিশদের পারফরম্যান্সে। প্রথমবারের মতো ঝলসে উঠেছিলেন অ্যান্ডারসন এবং স্টুয়ার্ট ব্রড।বাংলাদেশের সঙ্গে অবশ্য তাদের দলে আজ থাকছেন না কেভিন পিটারসন ও স্টুয়ার্ট ব্রড। দুজনই যথাক্রমে অসুস্থ এবং আহত হয়ে যাওয়ায় থাকছেন না এ ম্যাচে। ভালো খবর অবশ্যই টাইগারদের জন্য, কেভিন পিটারসেনের স্থলে মর্গান যোগ দিয়েছেন ইংল্যান্ড দলে। অত্যন্ত মারকুটে ব্যাটসম্যান তিনি। নিশ্চয়ই তাদের ব্যাটিংশক্তি বৃদ্ধি করবে।

প্রিয় পাঠক, বাংলাদেশ দল তাদের আগের ম্যাচের 'Nightmare' থেকে ভালোভাবে বেরিয়ে আসতে পারবে কি না? দলে কোনো পরিবর্তন আসছে কি না? টস জিতে ব্যাটিং না বোলিং?- এসব প্রশ্নই ক্রিকেটপাগল জনমনে কয়েকদিন যাবৎ ঘুরপাক খাচ্ছে। যা কিছুই ঘটুক না কেন বাংলাদেশের প্রত্যেকটি খেলোয়াড়কে তাদের স্ব স্ব অবস্থান থেকে শ্রেষ্ঠ খেলাটাই খেলতে হবে। চট্টগ্রামের পিচ ধরে নেওয়া যায় ঢিমেতালেরই হবে। যদি আগে ব্যাটিং করতে হয় তবে প্রথম দশটি পাওয়ার প্লে ওভারে বাড়তি রান না এলেও উইকেট খোয়ানো বিপজ্জনক হতে পারে। বলার অপেক্ষা রাখে না, এ সময় বলের অবস্থা থাকবে চকচকে ও শক্ত। বলে সুইং হবে অনেক। সে কারণেই অ্যান্ডারসনের নেতৃত্বে ইংলিশ ফাস্টবোলাররা উইকেট থেকে কিছুটা বাড়তি বাউন্স এবং পেস আদায় করবেন। যেহেতু বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা এ ধরনের বলে খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। কাজেই আমি মনে করি, কোনো রকম ঝুঁকি নেওয়া ঠিক হবে না। পুরো ৫০ ওভার মাথায় রেখেই ব্যাট করতে হবে। 'ডরষষ নব ঃযব পধষষ ড়ভ যব যড়ঁ' ২৫০ ঊর্ধ্ব রানের টার্গেট অবশ্যই ডিফেন্ড করার মতো স্কোর হবে বলে আমার ধারণা। বাংলাদেশের স্পিনারদের কাজটি কিছুটা কঠিন হবে এ ম্যাচে। এ জন্য যে, প্রতিষ্ঠিত বাঁহাতি স্পিনার সাকিব ও রাজ্জাককে বেশির ভাগ সময়ই বল করতে হবে বেশির ভাগ বাঁহাতি ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের বিরুদ্ধে। দলে অফস্পিনারদের একটি বিশেষ ভূমিকা থাকা প্রয়োজন নিশ্চয়ই অনুভব করবেন অধিনায়ক সাকিব।'All said and done' টাইগারদের মনোবল সমুন্নত রেখে ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিংয়ে তাদের শ্রেষ্ঠত্ব দেখাতে পারলেই আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশ জয় ছিনিয়ে মাঠ ছাড়তে পারবে।

টস নিয়ে ভাবছে না বাংলাদেশ !!!

তিন ম্যাচের মধ্যে দুটিতে হেরেছে বাংলাদেশ। তাই আজকের ম্যাচটি টাইগারদের জন্য বাঁচা মরার লড়াই। হারলেই বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অনেকটা শেষ হয়ে যাবে। স্বাভাবিকভাবেই একটু বাড়তি চাপের মধ্যে লাল সবুজরা। তবে চাপকে উড়িয়ে দিলেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তিনি বলেন, 'গত দুদিন থেকে আমরা কঠোর অনুশীলন করছি। প্রস্তুতি ভালো। আমরা যদি আমাদের সেরাটা দিতে পারি তাহলে সুযোগ রয়েছে।' গত দুই ম্যাচে ভালো ব্যাটিং করতে না পারার প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, 'আমরা আসলে আমাদের স্বাভাবিক খেলাটাও প্রদর্শন করতে পারিনি। তবে এ ম্যাচে কামব্যাগ করা সম্ভব।' ওয়েস্ট ইন্ডিজে হারের অভিজ্ঞতা এ ম্যাচে কাজ দিবে বলে জানালেন অধিনায়ক। টস সম্পর্কে সাকিব বলেন, 'টস নিয়ে কোনো চিন্তা করছি না। আমাদের টার্গেট ভালো ক্রিকেট খেলা। ব্যাটিং আগে করি বা পরে করি সেটা কোনো ব্যাপার নয়।' গত ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে মাত্র ৫৮ রানে অলআউট হয়ে যাওয়ার বেদনা ভুলতে চান টাইগাররা। তবে দলের সবাই জয়ের জন্য মুখিয়ে আছে বলে জানালেন তিনি। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দলে তেমন কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। বন্দরনগরী মুক্ত আবহাওয়ায় ফুরফুরে ম্যাজাজেই আছেন টাইগাররা। প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড বলেই যত ভয় দর্শকদের মনে। তবে সাকিব ইংল্যান্ডকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেন, 'ইংল্যান্ড অনেক ভালো দল। বিশেষ করে ইয়ান মর্গান অনেক ভলো খেলোয়াড়। তবে সেটা নিয়ে আমরা ভাবছি না। আমি মনে করি ভালো ক্রিকেট খেললে আমাদের ভালো জয় পাওয়া চাঞ্জ আছে।' সাকিব ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স সম্পর্কে বলেন, 'আমি পারফরম্যান্স নিয়ে খুশি। তবে এখনো কিছু জায়গা আছে। সেখানে উন্নতি করতে হবে।'

জয় ছাড়া সাকিবরা আজ কিছুই ভাবছেন না

স্বপ্ন আর বাস্তবতার দোলাচলে আজ মাঠে নামছেন সাকিবরা। জিতলে স্বপ্নের বিশ্বকাপ বাংলাদেশে জেগে উঠবে নতুন রূপে। হারলে আর একটি স্বপ্নের মৃত্যু। কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে টাইগারদের। আশাহত হবে ১৬ কোটি মানুষ। তাই আজ বাঁচামরার লড়াইয়ে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে নামছে বাংলাদেশ। যদিও বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে ইংল্যান্ড থাকবে এগিয়ে। ইংলিশরা চার ম্যাচে পাঁচ পয়েন্ট পেয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে। আর বাংলাদেশ তিন ম্যাচের দুইটিতে হেরে ধুঁকছে। তবে আজকের ম্যাচে জয় ছাড়া কিছুই ভাবছে না টাইগাররা। তাদের বড় অনুপ্রেরণা দর্শক ও স্পিন। স্পিনই পারে বাংলাদেশকে উদ্ধার করতে।বেশ কিছুদিন থেকে ভালো ক্রিকেট খেলছে বাংলাদেশ। কিন্তু গত ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে অপ্রত্যাশিতভাবে ৫৮ রানে অলআউট হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে 'আনপ্রেডিকটেবল' শব্দটি। বাংলাদেশ কখন ভালো করবে আর কখন ভেঙে পড়বে বলার উপায় নেই। এ কারণেই ভয় পাচ্ছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যান্ডু স্ট্রাউস। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'দেশের মাটিতে বাংলাদেশ খুবই ভয়ঙ্কর দল। তারা স্পিনে খুবই ভালো। বাঁহাতি স্পিনারদের বল মোকাবিলা করাই কঠিন। তবে আমরা জয়ের জন্যই মাঠে নামব।' জয়ের জন্য মুখিয়ে রয়েছেন টাইগাররাও। স্বাভাবিক পারফরম্যান্স দেখাতে পারলেই হারানো সম্ভব বলে মনে করেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'কৌশল ভালো ক্রিকেট খেলা। দলের সবাই মানসিকভাবে চাঙ্গা আছেন। যেহেতু দেশের মাটিতে খেলা, তাই সেরাটা দিতে পারলে ইংল্যান্ডকে হারানো সম্ভব।'আজকের ম্যাচে পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুব কম। টাইগাররা সবাই সুস্থ আছেন। তবে ইনজুরিতে পড়েছেন ইংল্যান্ডের পেস বোলার স্টুয়ার্ড ব্রড। গত ম্যাচে ব্রডের চমৎকার বোলিংয়েই দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড। সে ম্যাচে চার উইকেট নিয়ে প্রোটিয়াসদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিলেন তিনি। তাই দুর্দান্ত এই বোলারকে হারিয়ে চিন্তার রেখা পড়েছে স্ট্রাউসের কপালে। পিটারসেনের পর ব্রডের ইনজুরিকে দর্শকরা ইংল্যান্ডের জন্য অশনি সংকেত হিসেবে দেখছেন। তবে ব্রডের পরিবর্তে আসা ট্রেমলেটও ভালো করবেন বলে জানালেন ইংলিশ অধিনায়ক। তবে স্ট্রাউসের ভয় তামিমকে নিয়ে। কেন না চট্টগ্রামের মাঠ যেন তামিমের জন্য উর্বর ভূমি। তাছাড়া জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ব্যাটসম্যানও তিনি। তবে ঘরের মাঠে এখন কোনো সেঞ্চুরি করতে পারেননি তিনি। কিন্তু এই ভেন্যুতে সর্বশেষ ম্যাচটিতে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ৯৬ বলে ৯৫ রানের দুর্দান্ত একটি ইনিংস খেলেছেন তিনি। তাই আজ সেঞ্চুরির জন্য যে তামিম মুুখিয়ে থাকবেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই সংবাদ সম্মেলনে তামিমের কথাই বললেন স্ট্রাউস। 'ও (তামিম) খুবই ভয়ঙ্কর এক ব্যাটসম্যান। একবার মারতে শুরু করলে আটকানোই দায়।'ইংলিশদের প্রধান ভরসা তাদের ব্যাটিং নিয়ে। ফর্মের তুঙ্গে রয়েছেন অধিনায়ক স্ট্রাউস। চার ম্যাচে তিনি ৭০ গড়ে করেছেন ২৮০। যা এই বিশ্বকাপের এখন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। জোনাথন ট্রট ও ইয়ান বেলও রানের মধ্যেই আছেন। তবে চট্টগ্রামের এই ফ্লাড উইকেটে কতটা ভালো করবে তা নির্ভর করবে শফিউল-রাজ্জাকরা বোলিংয়ে কতটা দৃঢ়তা দেখাতে পারেন তার উপর।তিনবারের ফাইনালিস্ট ইংল্যান্ড শিরোপা ক্ষুধা মেটাতেই এবার উপমহাদেশে এসেছে। প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডকে হারিয়েছে ৬ উইকেটে। দ্বিতীয় ম্যাচে এই আসরের অন্যতম ফেভারিটের ভারতের সঙ্গে 'টাই' করে তাদের সামর্থ্য সম্পর্কেও ক্রিকেট বিশ্বকে অবহিত করেছে। শেষ ম্যাচে প্রোটিয়াসদেরকে হারালেও আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে হেরেছে তারা। আর বাংলাদেশের কাছে হেরেছে আয়ারল্যান্ড। তাই আজকের ম্যাচটিতে জয়ের স্বপ্ন দেখছে দেশবাসী। তাছাড়া এই ভেন্যুতে গত দুটি ম্যাচেই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। তাই আশায় বুক বেঁধে আছে ক্রিকেটামোদীরা।

বাংলাদেশের সামনে আনপ্রেডিক্টেবল ইংল্যান্ড

ক্রিকেটের আনপ্রেডিক্টেবল দল হিসাবে ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে পাকিস্তানের। আনপ্রেডিক্টেবল এজন্যই যে, পাকিস্তানিরা সহজেই জেতা ম্যাচে যেমন দেখতে দেখতে হেরে যায়, তেমনি অনেক কঠিন ম্যাচও মুহূর্তেই নিয়ে আসতে পারে নিজেদের করায়ত্তে। অনিশ্চয়তার খেলা ক্রিকেটে নতুন করে আনপ্রেডিক্টেবল হিসাবে দেখা দিয়েছে ক্রিকেটের আতুরঘর ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল। ইংলিশদেরও সাম্প্রতিক পারফরমেন্সে তাদরেকে আনপ্রেডিক্টেবল বললে বোধ হয় ভুল বলা হবে না। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম খেলায় ক্রিকেটে অনেকটা নতুন নেদারল্যান্ডকে পাত্তাই দেয়নি এন্ড্রু স্ট্রাউস-এর বাহিনী। মারদাঙ্গাভাবে খেলে কমলাদের বিরুদ্ধে ৬ উইকেটে জয় তুলে নেয় তারা। তার পরের খেলায় গত দুই মার্চ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ইংল্যান্ডকে দেখলো বিশ্ববাসী। আইরিশদের কাছে ৩ উইকেটে হেরে লজ্জায় মাথা হেট হয়ে গিয়েছিলো তাদের। গতকাল মঙ্গলবার ইংলিশ ক্রিকেট দলের প্রেস কনফারেন্সে সাংবাদিকদের প্রশ্নও ছিলো অনেকটা এমন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মরগান ইংল্যান্ডকে আনপ্রেডিক্টেবল বলেলনি ঠিকই, তবে তাদের দলের সাম্প্রতিক এমন চমক জাগানো পারফরমেন্সের বিষয়টি উপেক্ষাও করতে পারেননি। ইংল্যান্ডের পরবতর্ী খেলায় প্রতিপক্ষ হিসাবে সামনে আসছে বাংলাদেশ। আগামীকালের এ খেলায় নিজ দেশে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোন্ রূপে নামবে ইংল্যান্ড তা এখন দেখার বিষয়। বাংলাদেশের তুলনায় যে কোন হিসাবে ফেবারিট ইংল্যান্ডকে যদি কাল মাঠে ফেবারিট হিসাবেই আবিভর্ূত হতে দেখা যায় তাহলে জয়ের সম্ভাবনাটা কঠিন হয়ে দেখা দিবে স্বাগতিক টাইগারদের জন্য। আর আনপ্রেডিক্টেবল হিসাবে ইংল্যান্ডের ভূমিকা থাকলে বাংলাদেশ জয় পেয়েও যেতে পারে সফরকারীদের আনপ্রেডিক্টেবল খারাপ খেলার বদৌলতে।

ব্যাটিং লাইনে পরিবর্তনের আভাস

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামের পরিসংখ্যান কথা বলছে স্পিনারদের পক্ষে। এই মাঠে বাংলাদেশের সাফল্যও বেশি, ৯টি ম্যাচে ৪টি জিতেছে আর পাঁচটি ম্যাচে হেরেছে। বাংলাদেশের চারটি ম্যাচের জয় এসেছে স্পিনারদের হাত ধরে। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই ম্যাচেও স্পিনারদের কথা প্রাধান্য দিয়ে সাজানো হচ্ছে দলের কম্বিনেশন। শুক্রবারের ম্যাচে বাংলাদেশ দলে দেখা যাবে চারজন স্পিনার এমন সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। আবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের পর দলে অনেক কাটা ছেঁড়া হতে পারে এই সম্ভাবনাও দেখা দিচ্ছে। কোচ জেমি সিডন্স এবার তিনি নিজে সাজাবেন তার সেরা একাদশ। যে একাদশে জায়গা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চিত দোলাচলে দুলছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ব্যাটিংয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর বোলিং দিয়ে পুষিয়ে দিলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচে সবার মত তিনিও বাজে পারফর্ম করেছেন। আর এ কারণে দলের কম্বিনেশন পরিবর্তন করতে তার উপর চালানো হতে পারে খরগ এমন আভাষ পাওয়া যাচ্ছে টিম ম্যানেজম্যান্ট থেকে। শুধু আশরাফুল নন, দলে মিডল অর্ডার পরিবর্তনের কথা ভাবছেন কোচ সিডন্স নিজে। আব্দুর রাজ্জাক, মাহমুদুলস্নাহ রিয়াদ, নাঈম ইসলামের সাথে আরো একজন স্পিনার বাড়ানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। আর সেরা একাদশের সুযোগের তালিকায় ঢুকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সোহরাওয়ার্দী শুভ'র নামটি। গতকাল নেট অনুশীলনে শুভ'র বোলিং প্রাকটিস এবং আলাদা করে ব্যাটিং প্রাকটিস সেই সম্ভাবনাই ফুটে উঠছে। জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের সাথে একবার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। ক্রেইগ কিসওয়েটারের বিধ্বংসী ব্যাটিং তান্তবে ইংলিশরা তোলে ২৮৪ রান। সেই ম্যাচে স্পিনাররাই সফল থাকা সত্ত্বেও ইংলিশদের রানের গতি আটকানো যায়নি। শুভ ছিলেন সেই দলের সদস্য, একটি উইকেটও পেয়েছিলেন। সেই ম্যাচে অফশনাল স্পিনারসহ মোট পাঁচজন স্পিনার নিয়ে মাঠে নেমেছিল টাইগাররা। ব্যতিক্রম ঘটবে না এবারো, তবে মিডল অর্ডার পরিবর্তনের কারণে আশরাফুলের জায়গায় শুভ খেললেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। যেমন ব্যাটিংয়ের চার নম্বর পজিশনে মুশফিকুর রহিমের জায়গায় জুনায়েদ সিদ্দিকিকে খেলানোর সম্ভাবনা রয়েছে। আবার তিন ম্যাচে দলের বাইরে থাকা শাহরিয়ার নাফীসকেও সেরা একাদশে সুযোগ দেয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে টিম মানেজম্যান্টের। যদিও জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে নাফীসের পরিসংখ্যান খুবই দুর্বল। এই মাঠে চারটি ম্যাচে তার সর্বচ্চো ৩৬। কোচ জেমি সিডন্স জানিয়েছেন, 'মিডল অর্ডারে একটা পরিবর্তনের কথা ভাবছি। কাল মোটামুটি ঠিক করে ফেলবো দলের কম্বিনেশন'। কাল মাঠে নামার আগে বাংলাদেশকে বেশ হিসাব কষে মাঠে নামতে হচ্ছে। কোয়ার্টার ফাইনালে যেতে হলে ম্যাচ জেতার কোন বিকল্প রাস্তা নেই তাদের সামনে। কোচ সিডন্সেরও সেটি অজানা নয়, দলের কম্বিনেশনে পরিবর্তন এনে কোচ মাঠে নামাতে চাইছেন একাদশ।

স্ট্রাউসের রণকৌশল

ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্বপ্নে কিছুটা হলেও আঘাত হেনেছে পিটারসনের ইনজুরি। তার ব্যাটিংয়ের ওপর যথেষ্ট আস্থা রাখতেন অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস। পিটারসনের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন মরগান। এ কারণে দলের ব্যাটিং অর্ডার নতুন করে সাজাবেন স্ট্রাউস। এ রণকৌশলের অংশ হিসেবে উদ্বোধনী জুটিতে তার সঙ্গে মাঠে নামতে পারেন উইকেটরক্ষক ম্যাট প্রিয়র। তবে এই কৌশল কতটা কার্যকর হয় সেটাই এখন দেখার পালা।

Sakib Al Hasan Comment

সবচেয়ে খারাপ লাগে, যখন দেখি জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটাররাও আর দশজন সাধারণ দর্শকের মতো কথা বলেন। তাঁরা অনেক বোঝেন, অনেক খেলেছেন, এ রকম পরিস্থিতিতেও অনেকবারই পড়েছেন। তাঁদের কথাগুলোই তাই বেশি হতাশাজনক। একটা জিনিস অন্তত তাঁদের চিন্তা করা উচিত, তাঁরা কী ক্রিকেট খেলে এসেছেন। আমি চাই না কাউকে ছোট করতে। তবে কে কত দূর খেলে এসেছেন, সেটা রেকর্ড ঘাঁটলেই পাওয়া যায়। আমরা জানি, কার কেমন রেকর্ড আছে, কারা কোন ক্রিকেট খেলে এসেছেন, কী ধরনের ক্রিকেট খেলে এসেছেন। এটা স্বীকার করি, তাঁরা ওই সময় শুরু না করলে আমরা হয়তো আজ এই পর্যন্ত আসতে পারতাম না। তবে আমার মনে হয় না, বাংলাদেশে এমন কোনো ক্রিকেটার আছেন, যিনি এ রকম বাজে পরিস্থিতিতে পড়েননি। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর এই প্রথম আমরা এমন একটা পরিস্থিতিতে পড়লাম। আমরা দু-তিন বছরে একদিন যে পরিস্থিতিতে পড়ছি, আমাদের তো মনে হয়, তাঁরা প্রায়ই সে রকম পরিস্থিতিতে পড়তেন! ভালো পরিস্থিতির দেখা পেতেন মাঝেমধ্যে। কাজেই সবারই বোধ হয় একটু বুঝেশুনে কথা বলা উচিত।
Sakib

যত নষ্টের মূল হচ্ছে টস !

দিবা রাত্রির ম্যাচে টস সব সময় অনেক বড় একটা ফ্যাক্টর। টস জিতলে ম্যাচ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। কিন্তু সিদান্ত নিতে ভুল করলেই বিপদ। টসই যেন এখন বাংলাদেশের কাছে যন্ত্রণার বিষয় হয়ে গেছে। গত তিনটি ম্যাচে টসে জিতেছে বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তিন ম্যাচের মধ্যে একটি জয় পেলেও বাকি দুটি ম্যাচে হারার পেছনে অনেকে টসকেই দায়ী করছেন অনেকে। কেননা ভারতের মতো বিশ্ব সেরা ব্যাটিং লাইন আপের বিরুদ্ধে কেন ফিল্ডিং নেওয়া হলো তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। হারার পেছনে একেই প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ। আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয় পাওয়ায় সে ম্যাচে টস নিয়ে কোন সমালোচনা হয়নি। তবে উইকেটের অবস্থা জানার পরও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে কেন প্রথমে ব্যাটিং নেওয়া হলো তা নিয়ে দর্শকদের অভিযোগের শেষ নেই। সাকিবের এ যেন উভয় সঙ্কট। প্রথমে ব্যাটিং নিলেও সমস্যা। ফিল্ডিং নিলেও সমস্যা। আসলে ম্যাচ হারলেই যত সমালোচনা হয়। জিতলে সিদ্ধান্ত যাই হোক তা নিয়ে কেউ টু শব্দও করে না। তাই এখন সাকিবের সামনে একটাই পথ 'জয়'।

একই পরিবার থেকে তিনজনের বিশ্বকাপ খেলা অবিস্মরণীয় এক রেকর্ড !

১১ মার্চ তামিমের বিশেষ একদিনই বলা যায়। কেননা বাংলাদেশের এগ্রেট ক্রিকেটারের কাছে বিশ্বকাপে মাঠে নামাটা নতুন কিছু নয়। ২০০৭ সাল থেকেই তিনি বিশ্বকাপ খেলছেন। এর আগে চাচা আকরাম খান ও বড় ভাই নাফিস ইকবালও বিশ্বকাপে জাতীয় দলের জার্সি পরেছেন। এক পরিবার থেকে তিনজনের বিশ্বকাপ খেলা অবিস্মরণীয় এক রেকর্ড হয়ে আছে। তারপরও তামিমকে ভাগ্যবানই বলতে হয়। এই প্রথম কোনো চট্টগ্রামের ক্রিকেটার নিজের মাঠে প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে নামছেন। চট্টলা নয় পুরো দেশবাসীর প্রত্যাশা নিজের মাটিতে প্রথম বিশ্বকাপে তামিম ইংলিশদের বিরুদ্ধে জ্বলে উঠবেন। আসলে নিজের মাটিতে খেলতে নামলে খেলোয়াড়দের মনোবলই থাকে অন্যরকম। নিজের সমর্থকদের উল্লাস ধ্বনি শুনে খেলোয়াড়রা আরও উজ্জীবিত হয়ে উঠেন। অন্যদিকে আবার অসুবিধাও কম থাকে না। কেননা নিজেদের লোক বলে স্থানীয় দর্শকদের প্রত্যাশা থাকে। ঘরের ছেলে তাদের সামনে সেরা খেলাটাই উপহার দেবেন_ এই বাড়তি চাপে খেলোয়াড়রা নিজের সামর্থ্যটা তুলে ধরতে পারেন না। প্রত্যাশা বেশি বলেই হয়তোবা ১১ মার্চ তামিম একটু টেনশনেও থাকবেন। তবে দেশের স্বার্থে তামিমের ব্যাট জ্বলে উঠতে হবেই। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে তিনটি সেঞ্চুরি পেলেও চট্টগ্রামবাসীরা স্বচক্ষে এখন তা দেখতে পারেননি। গত বছর জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে অনবদ্য ব্যাটিং করলেও দুর্ভাগ্যক্রমে ৯৫ রানে আউট হয়ে যান। বিশ্বকাপে তামিম যদি সেঞ্চুরি পেয়ে যান তাহলে দীর্ঘদিনের জমে থাকা আশাও পূরণ হয়ে যাবে।

ঢাকায় কালোবাজারে বিক্রি হচ্ছে চট্টগ্রামের টিকিট !

বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ১১ মার্চ চট্টগ্রামে মুখোমুখি হচ্ছে। কোয়ার্টার ফাইনাল যেতে বিশ্বকাপ দুই দলের লড়াইটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের প্রতিটি ম্যাচে উপচেপড়া দর্শক সমাগম হয়েছিল। আগামী শুক্রবার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামেও তিলধরনের জায়গা থাকবে না। চট্টগ্রামে খেলা হলেও এ ম্যাচ দেখতে অন্য জেলার ক্রিকেটপ্রেমিরাও ছুটে যাবেন। বিশেষ করে ঢাকার অনেক দর্শকতো হোটেল নিশ্চিত করতে আগে থেকেই চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন। বিশ্বকাপ আয়োজন করে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে যাচ্ছে এ নিয়ে তো চট্টগ্রামে যেন ঈদ উ তসব চলছে।টাইগারদের ম্যাচ জেতা নিয়ে পুরো জাতি টেনশনে রয়েছে। কিন্তু কালোবাজারিদের উল্লাস তুঙ্গে উঠেছে। যারা ব্যাংক থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে পারেননি তারা নিরূপায় হয়ে কালোবাজারিদের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। ২০০, ৪০০ টাকার টিকিট পাঁচ হাজার। ৭০০ টাকার টিকিট ৮/৯ হাজারেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। চট্টগ্রামের টিকিট ঢাকাতেও পাওয়া যাবে। বিসিবি বলছে কালোবাজারে যারা টিকিট বিক্রি করছে তাদের সঙ্গে বোর্ডের কোনো যোগাযোগ নেই। অথচ গতকালই মিরপুরে এক দর্শককে দেখা গেল বোর্ডের জনৈক কর্মকর্তাকে খুঁজতে। হাতে তার স্লিপও ছিল, বললেন তাকে পাঠানো হয়েছে ওই কর্মকর্তার কাছ থেকে টিকিট কিনতে। মানলাম কালোবাজারে টিকিট বিক্রির সঙ্গে বিসিবির কালো যোগাযোগ নেই। কিন্তু দর্শকটির কথা যদি সত্যি হয়ে থাকে তাহলে বিসিবির একজন কর্মকর্তা টিকিট বিক্রি করেন কিভাবে। কেননা বাংলাদেশ-ইংল্যান্ডের ম্যাচের টিকিট পাওয়া যাবে তো টাকার ভাউচার দেখিয়ে। ভাউচার ছাড়া কোনো কর্মকর্তা যদি টিকিট বিক্রি করে থাকেন তা কি কালোবাজারের মধ্যে পড়ে না?

টাইগারদের ম্যাচ জেতার প্রতিজ্ঞা !!!!!!!

কেভিন পিটারসন হার্নিয়ার ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে উড়াল দিয়েছেন আটলান্টিকের তীরে। স্টুয়ার্ট ব্রড ইনজুরির কারণে আগামী শুক্রবারের ম্যাচে নামতে পারছেন না বাংলাদেশের বিপক্ষে। কেভিন পিটারসন সাকিবদের জন্য একটি বড় বাধা ছিলেন। বড় বাধা ছিলেন ব্রড ও। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাত্র ১৫ রান দিয়ে চার উইকেট নিয়ে বেশ ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছিলেন নটিংহ্যামশায়ারের এই পেসার। টাইগারদের বিপক্ষে তিনি খেলবেন না জেনে কি কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন সাকিব আল হাসান? বিশ্বকাপের আশা গ্রুপ পর্বের পরও বাঁচিয়ে রাখতে হলে অবশ্যই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয় ছিনিয়ে আনতে হবে টাইগারদের। সাকিবকে তো আশাবাদী হতেই হবে। তামিম ইকবাল প্রস্তুতি নিয়েছেন বিজয়ের জন্য। অন্যরাও কঠোর অনুশীলনে মেতে আছেন চট্টগ্রামে। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে দশম বিশ্বকাপের ২৮তম ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড। এর আগে এই মাঠে ১১টি ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মাঝে দুটি বাতিল হয়েছে, চারটিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ এবং পাঁচটিতে পরাজিত হয়েছে। ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র ম্যাচটিতে বাংলাদেশ হেরে গিয়েছিল। সুতরাং নিজেদের মাটিতে ইংলিশদের হারানোর ক্ষেত্রে একটি প্রতিশোধপ্রবণতাও কাজ করতে পারে। সেই লক্ষ্যেই তো প্রস্তুতি নিচ্ছেন সাকিবরা।জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ২৫০ এর ওপর যে কোনো রান টপকে যাওয়া কঠিন হবে। বাংলাদেশকে সেই লক্ষ্য সামনে নিয়েই খেলতে হবে। একদিক থেকে সাকিবকে সহায়তা দিতে পারে চট্টলা। এখানে রান টপকে জয় পাওয়ার রেকর্ড খুবই কম। বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ২২১ রানের লক্ষ্য টপকেছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০০৯ সালের নভেম্বরে। মাত্র তিনটি ম্যাচে পরে ব্যাট করা দল জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে এখানে। সাকিব আল হাসানের জন্য পরিসংখ্যানটি বেশ স্বস্তিকর হতে পারে। দশম বিশ্বকাপে এখনো পর্যন্ত টসে অপরাজিত আছেন সাকিব আল হাসান। চট্টগ্রামেও টস জয় করে আগে ব্যাটিং নিয়ে ২৫০ রানের ওপর টার্গেট ছুড়তে পারলেই কেল্লা ফতে! দুর্গ জয় হোক আর না হোক। ম্যাচ তো জয় করা হবে। সাকিবের টস ভাগ্যটা চট্টগ্রামেই কাজে লেগে যেতে পারে। স্টুয়ার্ট ব্রড এখনো আশা করছেন বিশ্বকাপে খেলবেন বলে। যে সামান্য ইনজুরিতে তিনি পড়েছেন তাকে তেমন গুরুত্বই দিচ্ছেন না। 'আমি এখনো বিশ্বাস করি বিশ্বকাপ খেলব বলে।' ব্রডের এই কথাতে বাংলাদেশের জন্য অন্তত ভয়ের কিছু নেই। পিটারসেন বাংলাদেশের বিপক্ষে না খেলায় একটি সুবিধা হয়েছে বটে। তবে এন্ড্রু স্ট্রাউসের দিকেও দৃষ্টি রাখতে হবে। বাংলাদেশের বিপক্ষে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন ইংলিশ অধিনায়কই (প্রায় ৯৭ গড়ে ৫৯২ রান)।চট্টগ্রামে বাংলাদেশ দলকে জয় পেতে হলে আগে ব্যাটিং নিয়ে রান করতে হবে অন্তত ২৫০ কিংবা তার উপরে। তবেই কোয়ার্টার ফাইনালের আশা বেঁচে থাকবে সাকিবদের। ইংলিশদের ইনজুরি বাংলাদেশের জন্য এক ধরনের আশা বটে। তবে সেইসঙ্গে নিজেদের বিশ্বাসটাও থাকতে হবে অনেক উপরে, যার কথা বলেছেন তামিম ইকবাল। 'আমরা চট্টগ্রামে ঢাকার (ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ) কথা মনে রাখতে চাই না।' তামিমের কথাটি আগামী শুক্রবারের জন্য সত্যি হয়ে যাক।

তবু আশাবাদী তামিম !

চলতি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সামনে আরও তিনটি ম্যাচ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ম্যাচ জিতলেই কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার সুযোগ আছে। কোয়ার্টার ফাইনাল খেলা একেবারে অসম্ভব নয় বলে মনে করেন বাংলাদেশ দলের সহ-অধিনায়ক, হার্ডহিটিং ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল। ওয়েস্টইন্ডিজের সঙ্গে হতাশাজনক নৈপুণ্যের কারণে দেশবাসীর প্রত্যাশার উপর যে আঘাত এসেছে তা কাটিয়ে ওঠার জন্য সবার সার্বিক সমর্থন কামনা করেন এই ওপেনার। ইংলিশদের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ম্যাচ খেলতে চট্টগ্রামের আবহাওয়ার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে শনিবার রাতে বন্দরনগরীতে আসে জাতীয় দল। টানা দু’দিন অনুশীলন করেন জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। ওয়েস্টইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৫৮ রানের লজ্জাজনক পরাজয়ের গ্লানি মুছে ফেলে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়াই এখন সাকিববাহিনীর মূল লক্ষ্য। তাই কঠোর অনুশীলনে ব্যস্ত সময় দিনাতিপাত করছেন চলতি এই আসরের কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন দেখানো সাকিব-তামিম-মুসফিকরা। আগামী ১১ মার্চ এই ভেন্যুতেই সফরকারীদের বিপক্ষে মুখোমুখি হবে স্বাগতিকরা। গতকাল অনুশীলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তামিম বলেন, আমরা অতীত নিয়ে ভাবছি না। এখন শুধু ইংল্যান্ড আর নেদারল্যান্ড ম্যাচ নিয়ে চিন্তা। এজন্য হোমওয়ার্ক করছি। সবাই সর্বোচ্চ উজাড় করে দিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছি। শুক্রবার চট্টগ্রামে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে মাঠে নামার আগে হতাশ, বিধ্বস্ত দলটিকেই নতুন করে চাঙ্গা করতে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন দলের সব ক্রিকেটারই। বসে নেই টিম ম্যানেজমেন্ট। ইংল্যান্ডের কাছে দক্ষিণ আফ্রিকার পরাজয় বি গ্রুপ থেকে বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনাল সমীকরণকে অনেকটাই কঠিন করে দিয়েছে। কোয়ার্টার ফাইনালের আশা জিইয়ে রাখতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই আমাদের। কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এমন একটি লড়াইয়ে মাঠে নামার আগে নিজের আত্মবিশ্বাসটাই সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মনে করেন তামিম। তিনি বলেছেন, আমার মনে হয়, কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা একেবারে শেষ হয়ে যায়নি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচের ভুলগুলো শুধরে দলকে নতুন করে গোছানো হচ্ছে। সব বিভাগেই কাজ চলছে। তবে, ব্যাটিং নিয়েই একটু বেশি সিরিয়াস সবাই। তামিম স্বীকার করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল একটি দুঃস্বপ্ন, একটি দুর্ঘটনা। ওই দুঃস্বপ্ন থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে চাই।
সুত্র : আমার দেশ 

সাকিবের বাড়িতে গিয়ে দুঃখ প্রকাশ !

তাঁরা এর আগে হোটেলে গিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন, দুঃখ প্রকাশ করেছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের কাছেও। ওয়েবসাইট ফেসবুকের ‘লেটস সে সরি টু আওয়ার গেস্ট’ গ্রুপের সাত সদস্য সাকিব আল হাসানের মাগুরার বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের কাছে সমবেদনা ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। গতকাল দুপুরে তাঁরা ঢাকা থেকে মাগুরায় আসেন।দলটি অধিনায়ক সাকিব আল হাসানদের বাড়িতে গিয়ে তাঁর মা শিরিন রেজার হাতে ফুলের তোড়া তুলে দেয়। এ সময় সাকিবের বাবা মাশরুর রেজা ও বোন ঋতু উপস্থিত ছিলেন।

চাই ব্যাটিং উইকেট !

একটা ব্যাপার আমাকে খুব ভাবাচ্ছে। সেটা হলো—উইকেট। আমরা যে উইকেট তৈরি করছি, তা থেকে কতটা সুফল পাচ্ছি? আমরা তৈরি করছি স্লো এবং নিচু বাউন্সের উইকেট। চেষ্টা করি এই উইকেটে নিজেরা ২৩০-২৪০ করে পরে স্পিনের জালে প্রতিপক্ষকে আটকে দিতে। কিন্তু ভারত ম্যাচটা বাদে বাকি দুই ম্যাচে আমরা উইকেটের সুবিধা পাইনি। এ অবস্থায় ইংল্যান্ড ম্যাচে ব্যাটিং সহায়ক উইকেট হলেই ভালো হয়। প্রথম ম্যাচে উইকেট তুলনামূলক স্পোর্টিং ছিল। ভারত ৩৭০ করেছে, আমরা করেছিলাম ২৮৩। ভালো স্কোরই বলব। ওইদিন আমরা আগে ব্যাট করে ২৮৩ করলে হয়তো ভারত সহজেই পেরিয়ে যেত। কিন্তু এটা ঠিক, যত বড় দলই হোক, ৩০০-এর কাছাকাছি রান তাড়া করা একটা চাপ। সেই চাপে ভারত পড়তে পারত। পরশু আয়ারল্যান্ডের ২০৭ রান তাড়া করতে নেমেই সেটা তারা বুঝিয়ে দিয়েছে। হ্যাঁ, আয়ারল্যান্ড ম্যাচটা আমরা জিতেছি, কিন্তু ২০৫ করতেই তো আমাদের অনেক কষ্ট হয়েছে। তাহলে স্পিন উইকেট থেকে আমরা কতটা ফায়দা তুলতে পারছি, সেটি ভেবে দেখার বিষয় নয় কি ? ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে আমরা ২৩০-২৪০ করলে কি জিততে পারতাম? হয়তো হ্যাঁ, হয়তো না। এটা ঠিক, ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে সারওয়ান-চন্দরপলের মতো লম্বা ইনিংস খেলার ব্যাটসম্যান আছে। এই রান ওদের কাছে নিরাপদ নয়। কিন্তু ওই যে বললাম, কী ঘটবে কেউ তো আর আগে জানে না। কাজেই আমাদের বোধ হয় ব্যাটিং উইকেটই এখন দরকার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মোটামুটি বড় একটা স্কোর করতে পারলে পরে তো আমাদের হাতে রাজ্জাক-সাকিবের মতো বোলার থাকবে। আমার বিশ্বাস, এরা কেবল আমাদের কন্ডিশনেই নয়, বিশ্বের যেকোনো উইকেটে ভালো বল করতে পারে। রাজ্জাক ওয়েস্ট ইন্ডিজে ভালো করেনি? সাকিব উস্টারশায়ারের হয়ে বল হাতে ব্যাটসম্যানদের ওপর কর্তৃত্ব করেনি? ইংল্যান্ডে আমরা ইংল্যান্ডকে হারাইনি? ওগুলো তো ছিল সিমিং উইকেট। এখানে ওরা পারবে। তা ছাড়া ব্যাটিং উইকেটে বড় রান পেলে অন্য বোলাররাও জ্বলে ওঠার একটা ভিত পেয়ে যায়।আর একটা ব্যাপার আলাদা করে বলব, সাকিব তো আর প্রতিদিন টস জিতবে না। এটা ভাগ্যের ব্যাপার। টস জিতেও দেখা যাচ্ছে, সুফল ঘরে নেই। কিন্তু আল্লাহ না করুন, টস হারলে কী হবে? তখন তো প্রতিপক্ষই সুবিধাটা আরও বেশি করে নেবে। এ কারণেই আবারও বলছি, এখন ব্যাটিং সহায়ক উইকেট হলেই আমাদের জন্য ভালো। যেখানে টার্ন থাকবে না। বড় রান করে রাজ্জাক-সাকিবদের ওপর আস্থা রেখে দেখা যাক না কী হয়। ওরা তো আস্থার প্রতিদান দিয়েছে অনেকবার।

মাশরাফি বিন মুর্তজা লিখছেন প্রথম আলোয়

ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে উদ্দীপ্ত লাল-সবুজ এর বাংলাদেশ !

 চট্টগ্রামের পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) ফারুক আহমেদও বুঝতে পারছেন না, কীভাবে ব্যাপারটা ঘটে গেল। তাঁর অফিস থেকে কোনো নির্দেশনা নেই, তার পরও রাস্তায় চলা সবুজ সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলোর গায়ে হঠাত করেই লাল রং! সব সিএনজির গায়েই বড় বড় লাল ফোঁটা। কোনোটার গায়ে একটা-দুইটা, কোনোটার গায়ে অসংখ্য। লাল-সবুজ মিলে রাস্তা দিয়ে ছুটে চলা একেকটা সিএনজি যেন চলন্ত জাতীয় পতাকা ! শহরের জিইসি মোড় এলাকায় এক অটোরিকশাচালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের পাশে থাকতেই তাঁদের এই উদ্যোগ। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা লাল-সবুজ, জাতীয় দলের জার্সি লাল-সবুজ। সবুজ সিএনজির গায়ে সামান্য লালের উপস্থিতি এনে যদি দেশ আর দলের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করা যায়, ক্ষতি কী ?ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচে বিষম ধাক্কা খাওয়ার পর এভাবে লাল-সবুজে একাত্ম হতে চাইছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলও। লাল-সবুজ পতাকাতলে টিম স্পিরিটের চর্চা বেড়েছে, সে সঙ্গে চলছে অভিনব কিছু করে একঘেয়েমি দূর করার চেষ্টা। কাল অনুশীলনের আগে ওয়ার্মআপ সেশনে যেমন মাঠের মধ্যেই হলো নৌকাবাইচ! সারি বেঁধে মাঠে বসে কাল্পনিক বৈঠা দিয়ে নৌকা বাইল ক্রিকেটাররা। ওয়ার্মআপের ছায়ায় সবাই মিলে কাজ করার অনুশীলন। টিম স্পিরিটের গান আবহসংগীত হয়ে বেজেছে ক্যাচিং প্র্যাকটিসেও। একটু দূরে দূরে দাঁড়িয়ে মাঠের মধ্যে ক্রিকেটারদের দুটি লম্বা সারি। ছোট ছোট থ্রোয়ে বল চলে যাচ্ছে একজনের হাত থেকে আরেকজনের হাতে। এভাবে যে সারির ক্রিকেটাররা আগে ক্যাচ নেওয়া শেষ করবে তারাই জয়ী। আজ ছুটির দিনটাও সবাই একসঙ্গে কাটানোর পরিকল্পনা। সতীর্থদের ভাটিয়ারিতে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পড়েছে সহ-অধিনায়ক তামিম ইকবালের কাঁধে।এই সবকিছুই আসলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫৮ রানে অলআউটের ধাক্কা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা। গত ম্যাচ নিয়ে ঘরে-বাইরে যে রকম সমালোচনা, শ্বাস ফেলারও তো একটা জানালা দরকার! তামিম অবশ্য আশাবাদী, ১১ মার্চ ইংল্যান্ড ম্যাচের আগেই ধাক্কাটা কাটিয়ে উঠবে সবাই, ‘সবাই সাধ্যমতো চেষ্টা করছে বিষয়টা ভুলে যেতে। বলতে পারেন, ৮০-৯০ শতাংশ কাটিয়েও উঠেছে। ১১ মার্চ ভালো কিছু হলে সব ঠিক হয়ে যাবে।’ সঙ্গে দলের হয়ে দর্শক-সমর্থকদের কাছেও একটা অনুরোধ রেখেছেন সাকিব। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের পর টিম বাসে ঢিল পড়েছে, ঢিল পড়েছে সাকিবের মাগুরার বাড়িতেও। তামিমের অনুরোধ, ‘সাকিব দেশের এক নম্বর খেলোয়াড়, বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার। এমন আচরণ তার প্রাপ্য নয়। সবার কাছে অনুরোধ করব, তারা যেন এমন কিছু না করে। একদিন হারব, একদিন জিতব—এটাই স্বাভাবিক। ক্রিকেটে এটা হয়ই। তাই সবার উচিত আমাদের সব সময়ই সমর্থন করা। ভালো সময় এবং খারাপ সময়েও।’তামিমের অনুরোধ সমর্থকেরা রাখবে কি না কে জানে, তবে দেশাত্মবোধের একটা জায়গায় সম্ভবত বাংলাদেশ সহ-অধিনায়কের সঙ্গে সবাই একমতই হবেন। ভারতের সাবেক ব্যাটসম্যান নবজোত সিং সিধু নাকি এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ক্রিকেট সম্পর্কে যাচ্ছেতাই বলেছেন। টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর গত ১০ বছরে বাংলাদেশের ক্রিকেট একদমই এগোয়নি, বাংলাদেশের খেলা দেখতে তাঁর ভালো লাগে না...ইত্যাদি। কাল ভারতীয় সাংবাদিকদের কাছে পেয়ে সিধুকে একহাত ঝাড়লেন তামিম, ‘ও (সিধু) মানসিকভাবে অসুস্থ। ওকে জিজ্ঞেস করুন ১০ বছর আগে ভারত কোথায় ছিল...ওটা বাদ দিন, ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারতের কী অবস্থা হয়েছিল সেটাই জিজ্ঞেস করুন।’ সিধুর কথায় তামিমের রাগ করাটাই স্বাভাবিক। বাংলাদেশের ক্রিকেট গত ১০ বছরে এগিয়েছে কি না, অজ্ঞতার কারণে সেটা কেউ নাই জানতে পারেন। তাই বলে টেলিভিশনে গলা ফাটানোর কী আছে? ভারতীয় সাংবাদিকেরা অবশ্য তামিমকে আশ্বস্ত করলেন, অনুষ্ঠানের আরেক অতিথি সৌরভ গাঙ্গুলী সিধুর কথার প্রতিবাদ করে বাংলাদেশের প্রশংসাই করেছেন।সিএনজির গায়ে লাগা লাল রং থেকে শুরু করে মাঠের ‘নৌকাবাইচ’ আর সিধুকে তামিমের একহাত নেওয়া—দেশাত্মবোধে একাত্ম হওয়ার চেষ্টা কোথায় নেই? ১১ মার্চ জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে এই দেশাত্মবোধে উজ্জীবিত হয়েই ঝাঁপিয়ে পড়তে চায় বাংলাদেশ। ৫৮ রান করাটা যে মোটেও তাদের সামর্থ্যের উদাহরণ নয়, সেটা প্রমাণের চ্যালেঞ্জ হয়ে আসছে ইংল্যান্ড ম্যাচ। লাল-সবুজ দলে এ ম্যাচে আরেকটা নতুনত্বও চোখে পড়তে পারে সবার। ‘নতুন’ ম্যাচে ‘নতুন’ মুখ আনার চিন্তা চলছে থিঙ্ক ট্যাঙ্কে। কালকের আলোচনাটা সিদ্ধান্তের দিকে গড়ালে হয়তো ইংল্যান্ড ম্যাচেই দলে দেখা যাবে শাহরিয়ার নাফীস আর মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দীকে। বাদ যাবেন কারা? গুঞ্জন সত্যি হলে মোহাম্মদ আশরাফুল ও নাঈম ইসলাম।

তামিম দেখছেন অন্য বাংলাদেশ !

এক লাখ টাকা বাজি! তামিম ইকবালের ৩ ওভারে ১৫ রান নিতে হবে রুবেল হোসেনকে। রুবেল কি পারবেন?আরও একটা বাজি। এটাও এক লাখ টাকার। তামিম বলছেন, ইংল্যান্ড দলে ক্রিস ট্রেমলেট আছেন। বাংলাদেশ দলের সঙ্গে লিয়াজোঁ কর্মকর্তা হিসেবে থাকা সাবেক ক্রিকেটার সাইদুল ইসলাম (এফি) বলছেন, নেই। কে জিতবেন এই বাজিতে?প্রথম বাজিটা জিতলেন তামিম। শেষ বলে ১ রান দরকার ছিল। রুবেল ডাউন দ্য উইকেটে গিয়ে বলে তো ব্যাট লাগাতে পারলেনই না, আম্পায়ার সাকিব আল হাসানের সিদ্ধান্তে হয়ে গেলেন স্টাম্পড! পরের বাজিটার ফলাফল নির্ধারণ শেষ পর্যন্ত হয়ে পড়ল চরম বিতর্কিত। খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, ইংল্যান্ড দলের সঙ্গে ট্রেমলেট আছেন, তবে আছেন ১৬তম ক্রিকেটার হিসেবে। তামিমের দাবি, স্ট্যান্ডবাই হিসেবে থাকলেও দলের সঙ্গে তো আছেন ট্রেমলেট। সাইদুলের যুক্তি, ‘ও তো স্ট্যান্ডবাই! দলের সঙ্গে থাকল কী করে?’মজার এসব বাজিটাজি ঘামঝরানো অনুশীলনের ফাঁকে নির্মল বিনোদনেরই বিষয়। নইলে ঘরের মাঠে তামিমের আসল বাজিটা তো ১১ মার্চ! আগের ম্যাচের কলঙ্ক ঘোচানোর তাড়না আছে, আছে চট্টগ্রামবাসীকে বিশ্বকাপে ভালো কিছু উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণের তাগিদ। কেউ যদি বলেন, ইংল্যান্ড ম্যাচের জন্য তামিম এখন অধীর অপেক্ষায় আছেন, খুব কি ভুল বলা হবে?চট্টগ্রামে ইংল্যান্ড বনাম তামিম আবহ দেখেই হয়তো ভারতীয় এক সাংবাদিকের মনে হলো, বাংলাদেশের বাঁহাতি এই ওপেনারের প্রিয় প্রতিপক্ষ বুঝি ইংলিশরা। কথাটা পাড়তেই প্রতিবাদ, ‘না না, আমার বরং ভারতের বিপক্ষেই খেলতে ভালো লাগে।’ ১১ মার্চের ম্যাচ এই প্রস্তাবনার বদল ঘটাতে পারে। চট্টগ্রামের মাঠে এখন পর্যন্ত একটাও সেঞ্চুরি নেই, বিশ্বকাপে সেই অধরাকে ধরার লক্ষ্য তামিমের। লক্ষ্যটা পরের ম্যাচেই পূরণ হয়ে গেলে স্মৃতির মণিকোঠায় ইংল্যান্ডও নিশ্চয়ই আলাদা মর্যাদা পাবে।চট্টগ্রামে খেলতে এলেই একটা প্রশ্ন ঘুরেফিরে আসে। নিজের মাঠ, গ্যালারিতে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবেরা বসে...প্রত্যাশার চাপটা জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসবে না তো তামিমের ঘাড়ে? এসব আলোচনা ব্যাট দিয়ে উড়িয়ে দিতে পারলেই খুশি হতে পারেন তামিম। সেটা যখন সম্ভব নয়, মুখেই বললেন, ‘বাড়তি কোনো চাপের প্রশ্নই ওঠে না; চট্টগ্রামে খেলাটা বরং উপভোগ করি।’ বিশ্বকাপ সেই উপভোগে চড়াচ্ছে নতুন রং, ‘নিজের মাঠে বিশ্বকাপ খেলব...অসাধারণ অভিজ্ঞতা হবে। আমার জন্য এবং চট্টগ্রামবাসীর জন্যও এটা অনেক বড় ব্যাপার। আশা করি, বিশ্বকাপ চট্টগ্রামকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।’বিশ্বকাপের আয়োজন অনেকটাই বদলে দিয়েছে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের চেহারা। মূল ফটক থেকে মাঠ, গ্যালারি—প্রত্যাশিত সময়ের মধ্যে সেজে উঠেছে সবই। এখন শুধু মাঠের উৎসবটা হলেই চট্টগ্রামের বিশ্বকাপ সার্থক হয়। তামিম আশা জাগালেন, ‘গত ম্যাচে কী হয়েছে, তা আমরা ভুলে যেতে চাইছি। আমি নিশ্চিত, কেউই আর আগের ম্যাচটার কথা ভাবছে না। এখন সবাই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পরের ম্যাচের দিকে তাকিয়ে। এখন দলের মানসিক অবস্থা খুবই ভালো। ১১ মার্চ বিশেষ কিছু করতে চাইছে সবাই।’ইংল্যান্ডের জন্য এবারের বিশ্বকাপটা যেন খানাখন্দে ভরা। আজ টাই তো কাল হার, একটা ম্যাচ জিতলেও তো সেটা হারতে হারতে জেতা! তার ওপর বাংলাদেশে আসার আগে হারাতে হয়েছে কেভিন পিটারসেনকে। নিজের মাঠে এমন ইংল্যান্ডকে পেলে কে না খুশি হবে! তবে তামিম বলছেন, ‘কেভিন বিশ্বমানের খেলোয়াড়। সে না থাকলে একদিক দিয়ে ভালোই হবে। অবশ্য, এসব নিয়ে না ভেবে আমরা নিজেদের খেলায় মনোযোগ দিতে চাই। নিজেদের কাজ ঠিকভাবে করতে পারলে বিশ্বের যেকোনো দলকেই যেকোনো সময় হারানো সম্ভব। কার বিপক্ষে খেলছি, সেটি কোনো ব্যাপার নয়; আমরা কেমন খেলছি, সেটাই আসল।’আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জিতলেও এবারের বিশ্বকাপের স্বাদ বাংলাদেশের কাছে এখন পর্যন্ত তিক্তই। পরের তিনটা ম্যাচের অন্তত দুটিতে জিতলে যে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের টিকে থাকার সম্ভাবনা থাকে, সেটা সবাই জানে। কিন্তু এই সম্ভাবনা কতটা বাস্তবসম্মত, সেটাই প্রশ্ন। তবে তামিম আশাবাদী, ‘এটা ঠিক, কোনো কিছুই আমাদের পক্ষে যাচ্ছে না। তবে একটা ভালো ম্যাচই সব বদলে দিতে পারে। আপনারা তখন অন্য বাংলাদেশকেই দেখবেন।’নিজের মাঠের সবুজ ক্যানভাসে কি সেই বাংলাদেশকে তুলে ধরতে পারবেন তামিম? 
সুত্র : প্রথম আলো

চট্টগ্রামে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল

বাংলাদেশের বিপক্ষে গ্র"প পর্বের খেলায় অংশ নিতে সোমবার চট্টগ্রাম পৌঁছেছে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল। খেলা হবে ১১ মার্চ শুক্রবার চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরি বিভাগীয় স্টেডিয়ামে। সোমবার বেলা দুইটায় ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের সদস্যরা বাংলাদেশে বিমানের একটি ফ্লাইটে করে শাহ আমানত আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বিমানবন্দরে ইংল্যান্ড দলের সদস্যদের লালগালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়। বেলা তিনটায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে নগরীর জিইসি মোড়ে অবস্থিত হোটেল পেনিনসুলায় দলটিকে পৌঁছে দেয়া হয়। ইংল্যান্ড দল মঙ্গলবার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুশীলন করবে। এদিকে রোববার থেকেই চট্টগ্রামে অনুশীলন শুরু করেছে বাংলাদেশ দল।

  সুত্র : বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এমসি/এসএনএল/২১২২ ঘ.

বাংলাদেশের সঙ্গে খেলতে পারছেন না পিটারসেন !!!

হার্নিয়া অস্ত্রোপচারের জন্য দেশে ফিরে যাচ্ছেন ইংল্যান্ডের ক্রিকেটার কেভিন পিটারসেন। তার বদলে দলে নেয়া হতে পারে ইয়ন মর্গানকে। এ জন্য ছয় সপ্তাহ পিটারসেনকে দর্শক হয়ে থাকতে হতে পারে। ফলে বিশ্বকাপে আর খেলা হচ্ছে না তার। বাংলাদেশের বিপক্ষেও মাঠে দেখা যাবে না তাকে। ইংল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের খেলা ১১ মার্চ, চট্টগ্রামে। চেন্নাইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে খেলার সময় ব্যথা অনুভব করেন পিটারসেন। খেলায় ৬ রানে জেতে ইংল্যান্ড। পিটারসেন সোমবার সকালে টুইটারে লেখেন, "আমি আজ (সোমবার) রাতে দেশে ফিরে যাচ্ছি। খেলতে পারছি না বিশ্বকাপ ক্রিকেট ও ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে।" একে তিনি খুবই হতাশাজনক বলে বর্ণনা করেন। তবে দেশের মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের আগেই তিনি মাঠে ফেরার মতো সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে। কার্ডিফে এই টেস্ট শুরু হবে ২৬ মে।
চেন্নাইয়ের স্পিন-সহায়ক উইকেটে কেভিন পিটারসেনের অফ-স্পিনের ওপর নির্ভর করা ছাড়া কোনো উপায় ছিল না অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের। ওই বল করার সময়ই ব্যথা অনুভব করেন পিটারসেন। ৮ ওভার বল করে ৩০ রান দেন তিনি। তবে কোনো উইকেট পাননি। বিশ্বকাপে পিটারসেনকে দেখা গেছে নতুন ভূমিকায়। ইনিংসের উদ্বোধন করেন তিনি স্ট্রাউসের সঙ্গে। রান করেন ৩৯, ৩১, ৫৯ ও ২। অস্ট্রেলিয়া সফরে আঙ্গুলে চোট পাওয়ায় বিশ্বকাপ দলের বাইরে রাখা হয়েছিল ইয়ন মর্গানকে।


সুত্র : বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/টিআর/২০০৮ ঘ.

সিডন্স আসলে কী শেখাচ্ছেন?

নাঈমুর রহমান স্টেডিয়ামে যেতে যেতে আমাদের চার উইকেট নেই। ঢুকে সিটে বসতে বসতে আরো দুটো। এই ম্যাচ এমন বিভীষিকা নিয়ে হাজির হবে, ভাবতে পারিনি। সবচেয়ে খারাপ লেগেছে কারো ব্যাটে কোনো প্রতিরোধ দেখলাম না। দরকার হলে চার-পাঁচটা ওভার মেডেন দেব, কিন্তু টিকে থেকে ইনিংস মেরামত করতে হবে আমাকে_এই খেলাটা কেউ খেলল না। উইকেট পড়ছে আর সবাই শট খেলে যাচ্ছে। এটাই হলো একটা টেস্ট দলের ব্যাটিংয়ের সবচেয়ে ন্যক্কারজনক দিক। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটা আমরা হারতে হারতে জিতেছিলাম। এ রকম জয় হলো একটা সতর্কীকরণ। তাতে দলের স্পিরিট বেড়ে যায়, পরের ম্যাচে ফেরে তারা দুরন্ত গতি নিয়ে। আমাদের বেলায় হয়েছে তার উল্টো। কেন এমন হলো তার কোনো ব্যাখ্যা আমি খুঁজে পাই না। হতে পারে উইকেট খুব বাজে হলে, ব্যাটিং করার মতো অবস্থা না থাকলে। হতে পারে কোনো বোলার মারাত্মক বোলিং করলে। দুটোর কোনোটিই কিন্তু ছিল না ওই দিনের ম্যাচে, শুধু ম্যাচের গুরুত্বের কথা ভুলে গিয়ে আমরা রোমাঞ্চকর ক্রিকেট খেলতে গিয়েছিলাম বলেই এই পরিণতি হলো আমাদের।
শুরু থেকেই এই দলের ব্যাটিং অর্ডার আমার অপছন্দ। যেমন মুশফিক কেন চারে খেলবে আর আশরাফুল কেন সাতে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অমন হারের পর এসব কথা বলার কোনো মানে নেই। কারণ দলটার ওপর আসলে আমি ও রকম আস্থা রাখতে পারছিলাম না। তার একটা বড় কারণ এই কোচ। জেমি সিডন্স ক্রিকেট খেলা শেখানোর কাজ বাদ দিয়ে অন্য সব কিছু করছেন। এমন স্বাধীনতা আমরা তাঁকে দিয়েছি কোনো কোনো ক্রিকেটার সম্পর্কে তাঁর মুখে যা আসছে তাই বলে দিচ্ছেন। বলেছেন ক্রিকেট বোর্ডের এবং বোর্ড কর্তাদের নিয়েও। এরপর তাঁর ওপরই আমরা ভরসা রাখছি। বিদেশি কোচ হলে যা হয়, তাঁদের সব কিছুই ভালো। অথচ সর্বময় স্বাধীনতা পেয়ে তাঁরা প্রথমেই করে দল থেকে সিনিয়র খেলোয়াড় ছেঁটে ফেলার কাজটা। কারণ তাঁরা ভালো ক্রিকেটার চান না, চান ছাত্র। যারা সব সময় তাঁকে সালাম দিয়ে চলবে। আবার কিছুদিন আগে থেকে সিডন্সের এ দল নিয়ে নানা অন্তর্কলহের কথা শুনছিলাম। অধিনায়কের ব্যাপারে কানে আসছিল নানা কথা। কামনা করি যেগুলো শুনেছি সেগুলো যেন ভুল হয়। আমার মনে হয়, এখনকার খেলোয়াড়রা নিজেকে নিয়েই বেশি থাকে। আগে দেখতাম, একই দলে চার-পাঁচজন ভালো বন্ধু আছে। তারাই দলের পরিবেশটা অনেক সহজ ও আন্তরিক করে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে অধিনায়কের কাজটা করে দেয় মাঠের বাইরে। এই ধাক্কার পর দলের ভেতর অনেক কাজ করতে হবে সাকিবকে।
আর দলের সবাইকে বলছি, এই ম্যাচের কথা ভুলে গিয়ে নিজেরা যেন ইতিবাচক হয় পরের ম্যাচগুলোর জন্য। ভুলে যেতে হবে দর্শক-সমর্থকদের দুয়োধ্বনির কথা। তারাই আসলে আমাদের ক্রিকেটের জ্বালানি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই পারফরম্যান্সে তারা ক্ষুব্ধ হলেও আবার সামনের ম্যাচে ভালো খেললে তারাই তোমাদের মাথায় তুলে নাচবে। আগের সব যন্ত্রণার কথা ভুলে যাবে এই জাতি!                                          দৈনিক কালের কন্ঠ থেকে কপি করা হয়েছে

সাকিব আর দলের মধ্যে একটা দূরত্ব আছে !!!

খালেদ মাহমুদ আয়ারল্যান্ডের কাছেও আমরা হারতে পারতাম। হারিনি। সেদিনও আমাদের ব্যাটিং বাজে হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষা নিইনি। তাই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এমন উলঙ্গ হয়ে ধরা পড়েছে আমাদের ব্যাটিং।
তাই ম্যাচের আগে আমি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে ভেবেছিলাম আমাদের ব্যাটিংকে। তবে এ রকম বিশ্রী ব্যাটিং হবে, তা কল্পনাতেও ছিল না। গেম প্ল্যান বলে কোনো বস্তু দেখলাম না। সব দলই সাধারণত একটা স্কোরকে টার্গেট ধরেই নামে। আমাদের সেই টার্গেটটা সাধারণত ২৫০-এর ওপরে থাকে। উইকেটের চরিত্র আর নিজেদের প্রায়োগিক দক্ষতায় সেই টার্গেটা ওঠা-নামা করে। পরশু এটা একদম দেখলাম না। ৪/৫ উইকেট পড়ে গেলে যে ১৮০ থেকে ২০০ করার প্ল্যান হয়, সেটা অন্তত স্পষ্ট হয়নি আমাদের ব্যাটিংয়ে। স্কোর বোর্ডে মোটামুটি একটা রান না থাকলে যে পুরো ব্যাপারটা লজ্জাকর হয়ে যায় সেটাও তাদের বোধে আসেনি! অথচ এই দলের নেপথ্যে কাজ করেছে বিশাল এক টিম ম্যানেজমেন্ট। তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন জাগতে বাধ্য। বড় প্রশ্নটা আমাদের কোচ সিডন্সকে নিয়েই। চার বছর ধরে কোচিং করিয়েছেন তিনি বিশ্বকাপে এই লজ্জা উপহার দেওয়ার জন্য! কোচিংয়ের জন্য এত আয়োজনের পর এই ফল! এর জন্য তো কোনো প্রোফাইলধারী কোচের প্রয়োজন নেই, রিকশাওয়ালাকে দায়িত্ব দিলেও এর চেয়ে খারাপ করতে পারবে না।
যদি বলেন ক্রিকেটারদের ওপর প্রত্যাশার চাপের কথা, সেটা আমি মানতে রাজি নই। চাপ ছিল আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে ম্যাচে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচে নয়। আরেকটা কথা হচ্ছে, এই চাপ বিশ্বকাপ জয়ের নয়। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খেলে মানুষের সমর্থনের প্রতিদান দেওয়া। এটুকু নিতে না পারলে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া উচিত নয়। বিশ্বকাপ হলো নিজেকে এবং নিজের দেশকে আলোকিত করার মঞ্চ, যেমনটি করেছে কেভিন ও'ব্রায়েন। সেটাকে কেউ চাপ মনে করলে তার দলে থাকারই দরকার নেই।
এই দল নিয়ে নানা কথা কানে আসছে। আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়ও চলে এসেছে আমাদের অধিনায়কের সঙ্গে দলের অন্যদের দূরত্বের কথা। সেটা হতে পারে সাকিবের পারফরম্যান্স, যা হয়তো বা তাকে আলাদা করে রাখে অন্যদের থেকে। এখানে কিন্তু কোচ জেমি সিডন্সের বিরাট একটা ভূমিকা আছে। যে দু-তিনজন পারফর্ম করে তিনি তাদের নিয়েই নাচেন। প্রশ্রয়ও দেন বিভিন্নভাবে। প্র্যাকটিসে তারা দেরিতে গেলেও কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু যারা ফর্মহীনতায় ভোগে তারা এই কোচের চক্ষুশূল। প্র্যাকটিসে দেরি হলে তো বটেই, নানা ছুঁতোয় তাদের বিপক্ষে অবস্থান নেয় সিডন্স। তার প্রশ্রয়ে আমাদের দলে শৃঙ্খলাটাও একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমাদের দীর্ঘদিনের ক্রিকেট কালচারটা।
অথচ ক্রিকেট দল হয় একটা পরিবারের মতো। সেখানে আন্তরিকতা থাকবে, খারাপ সময়ে একে অন্যের পাশে দাঁড়াবে এবং অবশ্যই এই সহযোগী মনোভাব সঞ্চারের জন্য বড় ভূমিকা নিতে হয় অধিনায়ককে। মাঠে যেমন সে নেতা মাঠের বাইরে তেমন নেতৃত্বগুণ দিয়ে অধিনায়কই একাট্টা করে রাখে ক্রিকেট দলকে। নিজের ভালো পারফরম্যান্সের পরও এখানেই বোধহয় সাকিবের ঘাটতি। তাতে করে চরম দুরবস্থা থেকে দলকে ফেরানোর রাস্তাটাও একটু কঠিন হয়ে গেল।                                                                   দৈনিক কালের কন্ঠ থেকে কপি করা হয়েছে

ক্ষতগুলো খুব স্পষ্ট হয়ে গেল !

আমিনুল ইসলাম বুলবুল দেশবাসীর মতো এই খেলা দেখে আমি মর্মাহত এবং লজ্জিত। তবে এ হারই পারে আমাদের চোখ খুলে দিতে।
ধরে নিচ্ছি আমি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫৮ রান করে আমাদের ৯ উইকেটের হার একটা দুর্ঘটনা। যা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে এই দলে অনেক ক্ষত। যেমন কত রান করার পরিকল্পনা নিয়ে আমরা মাঠে নেমেছিলাম, সেটা আমার কাছে স্পষ্ট নয়। দেখলাম না, একটা কৌশল ফেল মারলে পরের কৌশলটা কী হবে। বুঝলাম না, ব্যাটসম্যানরা আসলে কী উদ্দেশ্য নিয়ে গিয়েছিল ক্রিজে। সব মেলালে একটি টেস্ট দলের সবচেয়ে কুৎসিত ওয়ানডে প্রদর্শনী দেখলাম।
৪ উইকেট পড়ে যাওয়ার পরও বুঝতে পারছিলাম না আমরা ওয়ানডে খেলছিলাম নাকি টোয়েন্টি টোয়েন্টি কিংবা তার চেয়েও ছোট সংস্করণের কোনো ম্যাচ। ৫০ ওভার যে খেলে যাবে তার কোনো প্রতিজ্ঞা ছিল না এই দলের মধ্যে। দেখলাম একেবারে গেম প্ল্যানহীন বাংলাদেশকে। ভরাডুবি তো ব্যাটিংয়ে। অথচ আমাদের কোচিং স্টাফে হেড কোচ নিজেই ব্যাটিং কোচ। তাঁর কাছে আমার প্রশ্ন, এই জায়গায় কেন এত দুর্বলতা? দীর্ঘদিন আপনার উপস্থিতির পরও আমাদের ব্যাটসম্যানরা কেন পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং করতে শিখবে না? ব্যাটিংয়ে কেন থাকবে না পরিকল্পনার ছাপ?
বরং আমার কাছে মনে হয়েছে, এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে দুর্বলতম এবং গোঁজামিল দেওয়া ব্যাটিং লাইন-আপ হলো আমাদের। ব্যাটিংটা হলো তামিম ও ইমরুল রান করবে আর সাপোর্ট দিয়ে যাবে অন্যরা। এ দুজন ছাড়া বাকিদের কোনো দায় নেই ব্যাটিং নিয়ে। বলছেন, আপনার লম্বা ব্যাটিং লাইন-আপ, কিন্তু নাইম ও মাহমুদ উল্লাহর ওপর কতখানি নির্ভর করা যায়! দু-তিনজনকে বাদ দিলে এই দলে ক্ষমতাবান ব্যাটসম্যান কোথায়? অলক কাপালির মতো একজন ব্যাটসস্যান নেই। নেই আফতাবের মতো প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান। টিম ম্যানেজমেন্ট থেকেই শুনেছিলাম, তাকে ফোনে পাওয়া যায় না সব সময়। ক্রিকেট প্রতিভা থাকলে তো তাকে সযত্নে লালন করার কাজ কোচের। আমাদের নাকি স্পিনই বড় শক্তি অথচ দলে কোনো জেনুইন অফ স্পিনার নেই, নেই জেনুইন লেগ স্পিনার। অথচ আমরাই বলে আসছি, দারুণ প্রস্তুতি আমাদের বিশ্বকাপের জন্য। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই লাফ দিয়ে পেঁৗছে গেছি কোয়ার্টার ফাইনালে। কিন্তু এভাবে তো হতে পারে না, একসময় আপনাকে ধাক্কা খেতেই হবে। সেটাই নির্মম হয়ে এসেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচে। তাই টিম ম্যানেজমেন্টকে বলছি, তথাকথিত মাল্টিস্কিল তথ্য ভুলে গিয়ে ব্যাটে-বলের জেনুইন পারফর্মার আনুন দলে।
এই ম্যাচে সাকিবকে দেখেও আমি একটু অবাক হয়েছি। দলের প্রথম দুই বোলারের একজন কিন্তু বল করতে গেছে শেষে। সেটা কেন হবে? সে আবার অধিনায়ক। সুতরাং সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া এবং একই সঙ্গে মোটিভেটর হয়ে ওঠার কাজটা সাকিব ঠিকঠাক করতে না পারলে সামনে সমূহ বিপদ।
সব শঙ্কা ঝেড়ে আমাদের আবার তৈরি হতে হবে। এই ম্যাচের দুঃসহ স্মৃতি ভুলে ডুব দিতে হবে সুখস্মৃতিতে। নিজেদের ভালো ইনিংসগুলোয়। দুঃসময় থেকে বেরিয়ে আসার আরেকটা পরামর্শ হলো, সাবেক তারকাদের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিন। নান্নু ভাই, ফারুক ভাই, হাবিবুল বাশার, সুজন, পাইলটসহ আরো অনেকে আছে যারা এই দলকে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। চরম দুঃসময়ে দলের পাশে থেকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগাতে পারে। সবাইকে দূরে ঠেলে না দিয়ে কাছে টানাই হতে পারে সাফল্যের নতুন ফর্মুলা।
সুত্র :  দৈনিক কালের কন্ঠ

মনে হয়েছে কেউই জানে না তার কী কাজ?

ফারুক আহমেদ খুব মনোকষ্ট নিয়ে লেখাটা শুরু করছি। খেলায় হার-জিত থাকবেই, তাই বলে এমন হার তো কেউ আশা করে না। যে হার ক্রিকেটপাগল পুরো জাতির বিশ্বাসের ভিত নাড়িয়ে দেয়। টেস্ট দল হিসেবে আমাদের সামর্থ্যকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেয়। সুতরাং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই হারের ময়নাতদন্ত খুব জরুরি, নইলে যে ভুলগুলো বারবার করার শঙ্কা থেকে যায়।
এই একটা হারেই যে আমাদের সব স্বপ্ন ভূলণ্ঠিত, তাই এই ম্যাচের পারফরম্যান্স দিয়ে আর কোনো রেটিং করা যায় না। করতে হলে পুরো দলের পাশেই শূন্য বসাতে হয়। আর সেই নেপথ্য কারিগরের জন্য কত বরাদ্দ হবে তা আমার জানা নেই। এই একটি ম্যাচ সব শেষ করে দিয়েছে। ভীষণ ক্ষতি হয়েছে আমাদের রানরেটে, তারপর আত্মবিশ্বাস গিয়ে ঠেকেছে তলানিতে। বলতে গেলে মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে এখন আমাদের কোয়ার্টার ফাইনাল স্বপ্ন।
টস জিতে আমরা ভালো সিদ্ধান্তই নিয়েছিলাম। এখন মনে হচ্ছে হেরে গেলেই বোধহয় আরো ভালো হতো, তখন তারা ব্যাটিং নিত। পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে যদি আমাদের পারফরম্যান্সটা আরেকটু ভালো হতো। এটা হেঁয়ালি, এ হারের জ্বালা সহ্য করতে না পেরেই মনে এমন চিন্তার উদয়। আবার এই দলের ব্যাটিং অর্ডার আর গেম প্ল্যান দেখলে তো এর চেয়ে ভালো কিছু আশা করতে পারি না। অস্ট্রেলিয়া, ভারত কিংবা অন্য দলগুলোর দিকে তাকালে দেখব, তাদের সব খেলোয়াড় জানে কার কাছ থেকে দল কী চায়। কার কখন কী কাজ হবে। কিন্তু আমাদের দলের খেলা দেখে মনে হয়েছে তারা কিছুই জানে না, কোন পরিস্থিতিতে কার কিভাবে খেলতে হবে, এটা তাদের ব্যাটিংয়ে প্রতিফলিত হয়নি। ব্যাটিং অর্ডারে যেমন আশরাফুলের সাত নম্বরে খেলাটা কোনোভাবেই মানা যায় না। দলে তার অন্তর্ভুক্তি নিয়ে তর্ক হতে পারে, প্রশ্ন উঠতে পারে। কিন্তু দলে সুযোগ পেলে তার জায়গা অবশ্যই সাত নয়, ওখানে নামিয়ে কোনো ব্যাটসম্যানকে ফর্মে ফেরানো যায় না। আবার রকিবুলের বেলায় দেখুন, সে হতে পারে চার নম্বরের উপযুক্ত ব্যাটসম্যান, খেলাটা ধরবে। দলের বিপদে ১০০ বলে ৫০ করলেও কোনো ক্ষতি নেই। সে নামে ৬ নম্বরে। মনে হয় তাকে কোনোরকমে দলে রেখে ম্যাচ খেলার সুযোগ দেওয়াটাই আমাদের কোচের মুখ্য উদ্দেশ্য।
আসলে ব্যাটিং আমাদের বড় এক সমস্যা। গত ৮ মাস আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি, কিন্তু ২৮০ রান করেছি সেদিন বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে। আর কটা ম্যাচে আমরা এ রকম করতে পেরেছি? পারিনি। আমরা ২৩০-২৪০ কিংবা ২০০-এরও কম রান করেছি, তারপর বোলিং দিয়ে ম্যাচ জিতেছি। জয়ের কারণে আর আলো পড়েনি আমাদের দুর্বল ব্যাটিংয়ের দিকে। আলো যখন পড়েছে তখন সব শেষ এবং মূল কোচ সিডন্সকেই নিতে হবে সব দায়। কারণ ব্যাটিং নিয়েই তাঁর কাজ। মনে হচ্ছে, তিনি বোঝাতে পারছেন না অথবা আমাদের ক্রিকেটাররা তাঁকে বুঝতে পারছে না।
অথচ এই কোচ অন্য সব কিছু খুব ভালো পারে। অশোভন ও অসংলগ্ন কথাবার্তায় ওস্তাদ তিনি। বিশ্বকাপের ১৫ জনের দল ঘোষণা করেই বলেছিলেন শাহরিয়ার নাফীস ও আশরাফুলকে নেওয়া হচ্ছে ব্যাক-আপ হিসেবে। মানে তাঁর একাদশ তৈরি, অন্যরা খারাপ করলে তারা সুযোগ পাবে। এখানেই তো তিনি একটা বিভেদ তৈরি করে দিলেন দলের মধ্যে। শুনেছি, দলের ভেতরও আছে কলহ। কোচ হয় দলকে ছায়া দেওয়ার জন্য, সুন্দরভাবে চালিত করার জন্য, সেখানে তাঁর নীতি বিভাজন। এমন কোচের শিক্ষায় তো অধিনায়কও প্রশ্রয় পাবে, উৎসাহিত হবে অন্তর্কোন্দলে।
তারপরও বলি, সব এখনো শেষ হয়ে যায়নি। আগামী ম্যাচের আগের ছয় দিনের বিরতি। ফেরা যায় ভালো ক্রিকেট খেলার প্রতিজ্ঞা নিয়ে। আমাদের স্বপ্নের পথটা বেশ কঠিন হয়ে গেলেও আগামী ম্যাচগুলো স্বাগতিক দর্শকদের জন্য উপভোগ্য করে তোলার প্রত্যয় নিয়েই ফিরে আসুক বাংলাদেশ।
 দৈনিক কালের কন্ঠ থেকে কপি করা হয়েছে

ভক্তরা ক্ষমা চাইলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ।

ক্রিকেট দলের ৫৮ রানের লজ্জাও মাথা পেতে নেওয়া যায়। তাই বলে কোনো একজনের ছোড়া একটা ঢিলের কলঙ্ক ও পুরো জাতিকে  বহন  করতে হবে ! ক্রিস গেইলের টুইটারের মাধ্যমে বিশ্বের গণমাধ্যমগুলোতে খবরটা যেভাবে প্রচার  হয়েছে, তা কাটা গায়ে লবন  ছরানু  হয়েই এসেছে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমী মানুষের জন্য। ফয়সাল, ফাহিম, পারভেজ আর তাঁদের বন্ধুরা মিলে তাই কিছু একটা করতে চেয়েছেন। "লেট সে সরি টু আওয়ার গেস্ট" ফেইসবুকের মাধ্যমে এই অনুরোধ বা আমন্ত্রণটা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন তাঁরা ম্যাচের দিন রাতেই। কাল সকালে সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েই তরুণদের ২০-৩০ জনের একটা দল ফুল হাতে হাজির শেরাটন হোটেলের গেটে। বাংলাদেশের ক্রিকেটের যাতে ক্ষতি না হয়, দেশের পর্যটন সম্ভাবনাটুকু যাতে মুছে না যায় মনের ভেতর এমন একটা আকুতিই সবার।ঢাকা ছাড়ার আগে ক্যারিবীয়রা তাই আরো একটা অভিজ্ঞতা নিয়ে গেলেন। যাতে সন্ত্রাসী হামলার শঙ্কা নেই, বিরূপ আচরণের বিড়ম্বনা নেই_আছে প্রাণঢালা ভালোবাসা আর বন্ধুত্ব, আবারও জেনে গেলেন বাংলাদেশিদের আতিথেয়তার গল্পটাও মিথ্যে না। এক জনের ভুলে ক্ষমা চাইছে পুরো জাতি ড্যারেন সামিরা তখন লবিতেই, ইংরেজিতে লেখা প্ল্যাকার্ডের ভাষাটা বুঝতেও সমস্যা হওয়ার কথা না। তিনি আমাদের আবেদনটা নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন, আমাদের দিকে তাকিয়ে হাতও নেড়েছেন। সিকিউরিটিকে পাঠিয়ে ফুলের তোড়াটাও নিয়েছেন। আমরা চাই বাংলাদেশ নিয়ে তাঁদের যেন কোনো ভুল ধারণা না থাকে, সারা বিশ্ব যাতে কোনো ভুল বার্তা না পায় ফোনে এভাবেই বলছিলেন ফ্রিল্যান্সার ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করা ফয়সাল মাসুম।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর এদিন হোটেল ছেড়েছে বাংলাদেশ দলও। ক্রিকেটারদের শুভেচ্ছা বা শুভ কামনা জানাতে কেউ আসেননি। আসার কথাও না। নিরাপত্তার ব্যবস্থা দেখে মনে হলো মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নায়করা যেন গণশত্রুতে পরিণত হয়েছেন। টিম বাসে ওঠানো হয়নি ক্রিকেটারদের, তাঁদের তোলা হয়েছে ভারী পর্দা দিয়ে ঘেরা হোটেলের নিজস্ব মিনিবাসে। গ্রিনলাইন স্ক্যানিয়ার বিশাল বাসটা সামনেই থাকল, ডামি হিসেবে।
ক্রিকেটারদের অবস্থাও তাই। আগের সেই ফুরফুরে আমেজটা নেই কোথাও। যাঁর যাঁর মতো করে একে একে গাড়িতে উঠে এসেছেন, কোথায় দল, একেকটা যেন বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। এমন দুঃসময়ে অধিনায়কের ভূমিকাটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাকিব আল হাসানের ভূমিকাটা জরিপ করা কঠিন হলো। লবি পেরিয়ে বড় বাসটার কাছে পৌছে  নিজের ব্যাগেজ গুছিয়ে দিয়ে মিনি বাসটায়ও উঠে পড়লেন কিন্তু কান থেকে ফোন সরালেন না। নিরাপত্তার কড়াকড়ি ছিল, মিডিয়ার ব্যাপারে তো আরো, সাংবাদিকদের এড়াতেই হয়তো এ কৌশল নিয়ে থাকবেন অধিনায়ক। কিন্তু ভুলটা ভাঙল, মোবাইল কানেই সাকিবকে আবার বাস থেকে নেমে কিছুটা দূরে গিয়ে কথা চালিয়ে যেতে দেখে এ কথাগুলো বোধহয় সতীর্থদের সামনেও বলা যাচ্ছিল না। এটা হয়তো একটা বিচ্ছিন্ন ছবি, তবে এটাও তো ঠিক পুরো দলটাকে জাগিয়ে তোলার চ্যালেঞ্জটা এখনই সবচেয়ে বেশি। সবার আগে এসে গাড়িতে ওঠা ওপেনার ইমরুল কায়েস অবশ্য একটা বাজে দিন ছাড়া কালকের ম্যাচটাকে বেশি কিছু ভাবতে নারাজ, এ ম্যাচটার কথা আমরা ভুলে যেতে চাই। চট্টগ্রামে আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। কাল রাতে হোটেলে ফিরে আমি সকাল সকাল ঘুমিয়ে গেছি। যা হওয়ার হয়ে গেছে, এখন সামনে তাকাতে হবে। সবাই আমরা এই মানসিকতা নিয়েই চট্টগ্রাম যাচ্ছি।এ চট্টগ্রাম যাত্রায় হোটেল থেকে টিম বাসে করে বিমানবন্দরে   পৌছেছেন
স্কোয়াডের ১২ জন। মাহমুদ উল্লাহ, শাহরিয়ার নাফীস এবং আবদুর রাজ্জাক বাসায় গিয়েছিলেন, এয়ারপোর্টে দলের সঙ্গে মিলেছেন তাঁরা বাসা থেকেই।

এবার সমর্থকদের 'জুতা মিছিল'

৭ দিন আগে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে জয়ের পর যারা আনন্দ মিছিল নিয়ে রাস্তায় বেরিয়েছিলেন, শুক্রবার তাদের কণ্ঠেই ঝরে পড়লো ক্ষোভ। উইন্ডিজের কাছে বাংলাদেশের লজ্জাজনক হারে এবার জুতা হাতে মিছিল বের করেছেন ভগ্নহৃদয় সমর্থকরা। শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার খেলা হয়েছে মাত্র ৩১ ওভার ১ বল।
প্রথমে ব্যাট করে মাত্র ১৮ ওভার ৫ বলে বাংলাদেশের পালা শেষ হয়ে যায় ৫৮ রানে। বিশ্বকাপে এর চেয়ে কম রানে কখনোই গুটিয়ে যায়নি বাংলাদেশ। একদিনের ক্রিকেটেও। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১২ ওভার ২ বল খেলেই জয়ের লক্ষে পৌঁছে যায়। বাংলাদেশের এই পরাজয়ে নারী-পুরুষ-শিশু সবার কণ্ঠেই ক্ষোভ, হতাশা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার রিকশা চালক ফুলবাবু এর আগের শুক্রবার আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের জয়ের পর রিকশা নিয়েই যোগ দিয়েছিলেন মিছিলে।

বিনা ভাড়ায় চড়িয়েছেন ছাত্রদের। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪১ রানে ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর তিনি আর খেলাই দেখেননি। "ভাইজান কি আর কমু, চারুকলার ভিতরে মাইয়াগো খেলতে দেখছি। মনে অইলো তেনারাও আমাগো দলের চাইতে ভালা খেলে।" শুধু ফুলবাবু নয়, অসংখ্য ক্রিকেটপ্রেমী টিএসসিতে এসেছিলেন বড় পর্দায় খেলা দেখতে। খেলা শুরুর আগে থেকেই কানায় কানায় পরিপূর্ণ ছিল পুরো এলাকা। ক্রিকেটপ্রেমীরা লাল-সবুজের জার্সি আর ভুভুজেলা নিয়ে এসেছিলেন আনন্দ করতে। কিন্তু তাদের আনন্দ মাটি হতে সময় লাগেনি। খেলা শেষ হতে না হতেই ক্ষুব্ধ ক্রিকেটপ্রেমীরা শুরু করেন জুতা মিছিল।

কাগজ জড়ো করে রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন তারা। স্লেগান শোনা যায়, 'ভুয়া, ভুয়া'। 'বাংলাদেশের জান, বাংলাদেশের প্রাণ' সাকিব আল হাসানের পোস্টারও জ্বলতে দেখা যায় এক ক্ষুব্ধ সমর্থকের হাতে। ইসলামী ব্যাংকের সৌজন্যে সোহারাওয়ার্দী উদ্যান গেটের বিলবোর্ডে ঝুলানো বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের একটি বড় জার্সিও ছিড়ে ফেলেন মিছিলকারীরা। যারা বাজি কিনে বিজয় উ rসবের জন্য প্রস্তুত হয়ে ছিলেন, সেই পটকা ফুটিয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে তাদেরকে। সমর্থকদের ভুভুজেলার সুর এদিন হয়ে গেছে বেদনাময়, করুণ। বিক্ষোভকারীদের অধিকাংশই এ লজ্জাজনক হারের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে দুষেছেন।

 হারের পর কাগজে লেখা স্লোগান বুকে ও পিঠে সেঁটে হল থেকে টিএসসি এলাকায় এসেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র মিরাজ। 'বাঘের বাচ্চাগুলো ছুঁচোর বাচ্চা হলো কেন? বিসিবি জবাব দে' কিংবা 'বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের এ অবস্থার জন্য বিসিবিই দায়ী' লেখা পোস্টার ও প্লযাকার্ড দেখা গেছে অনেক ক্রিকেটপ্রেমীর হাতেই। সোহরাওয়ার্দী কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ছাত্র সোহরাব বলেন, বাংলাদেশ খেলোয়াড় বাছাইয়ে চরম ভুল করেছে।

 মাশরাফি, অলক কাপালি, শাহরিয়ার নাফীসের মতো খেলোয়াড়দের বাদ দেওয়া ঠিক হয়নি। আশরাফুলকে দল থেকে এবং সাকিব আল হাসানকে অধিনায়কত্ব থেকে সরানোরও দাবি করেন তিনি। টিএসসিতে বড় পর্দায় খেলা দেখতে আসা নর্দান কলেজের ছাত্র জনি  বলেন, এই হার দুঃখজনক, সেই সঙ্গে লজ্জাজনকও। "বাংলাদেশের কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর রাতের ঘুম হারাম করে দিয়েছে খেলোয়াড়রা।"

ক্ষমা চাইলেন সাকিব

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভালো খেলে জিতেছে। আর খারাপ ব্যাট করায় হার মানতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে লজ্জার এই হারের জন্য দর্শক-সমর্থকদের কাছে ক্ষমাও চান তিনি।
সাকিব বলেন, "ওদের ২৫০ থেকে ২৬০ রানের লক্ষ্য বেঁধে দেয়ার পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু টস জেতা ছাড়া আমাদের আর কিছুই ভালো হয়নি।" প্রত্যাশার চাপে ছিলেন কিনা? এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "গত এক বছর ধরে আমরা ভালো খেলছি। তাই প্রত্যাশার চাপ কিছুটা ছিল। তবে আমরা জানি চাপ কিভাবে সামাল দিতে হয়। আসলে দিনটা আমাদের ছিল না।" তবে বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি বলে মনে করেন সাকিব। বলেন, "আমাদের সুযোগ এখনো শেষ হয়ে যায়নি। জানি, কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা এখন অনেক কঠিন হয়ে গেল। তবে আশা ছাড়ছি না। পরের তিন খেলার মধ্যে দু'টিতে জিততে পারলে আমরা কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পরাবো।" ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অনেক ভুল হয়েছে। ইংল্যান্ডের সঙ্গে খেলার আগে ভুলগুলো শুধরে নেয়ার চেষ্টা করা হবে বলে জানান সাকিব। তিনি দাবি করেন, দলের ব্যাটিং দুর্বল নয়। পরের খেলাগুলোয় নিজেদের উজাড় করে দেয়ার প্রতিশ্র"তি দেন তিনি।

টাইগার না বিড়াল ?


কি করল টাইগাররা! এটাতো হার নয়, রীতিমতো আত্মসমর্পণ! খেলায় জয়-পরাজয় থাকবে স্বাভাবিক কিন্তু এটা কি করল তারা! এভাবে আত্মসমর্পণকে তো বলতে হবে আত্মহত্যা এমন খেলার কথা দেশবাসীর কেউ কল্পনাও করতে পারেননি আয়ারল্যান্ড শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে ধরাশায়ী করলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনালের দিকে এগিয়ে যাবে_এমন বিশ্বাস ১৬ কোটি মানুষের ছিলই প্রত্যাশাটা অস্বাভাবিকও কিছু ছিল না এক সময় ক্যারিবীয়রা যতই অপ্রতিরোধ্য থাকুক না কেন কালের বিবর্তনে সেই দাপট এখন কিন্তু তাদের আর নেই কিন্তু সেই আশায় গুড়েবালি করে দিল টাইগাররাই গতকাল ক্যারিবীয়দের কাছে বিশ্বকাপে নিজেদের গড়া সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড করল তারা শুধু তাই নয় ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশে এটিই সর্বনিম্ন রান
দেশ জুড়ে গতকাল প্রত্যাশা ছিল শুধু জয় আর জয় ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা ক্রিকেটভক্তদের ভাবনায়ও সেটা ছিল ৩৩৮ করার পরও ইংলিশরা আইরিশদের কাছে নাস্তানাবুদ হওয়ার দৃশ্য তারা দেখেছেন কিন্তু নিজের দেশের মাটিতে এমন ব্যাটিং প্রদর্শনী! বৃহস্পতিবার অধিনায়ক সাকিব দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছিলেন, জয় ছাড়া বিকল্প কিছু ভাবছি না এটা সাকিবের নয়, ১৬ কোটি মানুষের আত্মবিশ্বাসেরই প্রতিধ্বনি ছিল আসলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর সামর্থ্য ছিল সাকিবদের প্রতিপক্ষ অধিনায়ক সামিও বলেছিলেন, পরিসংখ্যান যাই হোক না কেন, এবার বাংলাদেশ সত্যিই ভয়ঙ্কর দল ওদের হারাতে হলে দলের সবাইকে ক্যারিয়ারের সেরা খেলাটা খেলতেই হবে যা বলেছেন, মাঠে সামিরা তাই করে দেখালেন তবে ব্যাটসম্যানরা নয়, তাদের বোলাররাই শুধু সেরা খেলাটা খেললেন তাতেই টাইগাররা পরিণত হল নখ দন্ত বিহীন বাঘে যতই সেরা বল হোক তাই বলে বাংলাদেশ মাত্র ৫৮ রানে অলআউট হবে_তা কি মেনে নেওয়ার মতো? ভক্তরা এখনো যেন ঘোরের মধ্যে আছেন ওই ম্যাচ নিয়ে উদ্বোধনী ম্যাচে ভারতের কাছে হারলেও ৩৭০ রানের বিশাল টার্গেটে টাইগাররা যে লড়াইটি উপহার দিয়েছিল তাকে অনেকে বলেছিলেন জয়ের সমান আইরিশদের সঙ্গে ২০৫ করেও বোলিং ম্যাজিকে ম্যাচ জিতে নিয়েছিল টাইগাররা অবস্থায় আত্মবিশ্বাসে টগবগ করে ফুটছিল টাইগাররা শুক্রবার ছুটির দিনে অনেক ক্রিকেটপ্রেমী তাই টিভি সেটের সামনে বসেছিলেন প্রিয় টাইগারদের খেলা দেখতে কিন্তু কি থেকে কি হয়ে গেল রীতিমতো বিভীষিকার একটি ম্যাচ উপহার দিল তারা

ক্রিকেটভক্তদের প্রশ্ন, গতকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ এমন কি এমন জাদুকরী বোলিং করল যে টাইগাররা এমন ফুটা বেলুনের মতো চুপসে গেল? অনেক টাইগারভক্ত পত্রিকা অফিসে গতকাল ফোন করেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা বলেছেন, 'ভাই, হেডলাইনে টাইগার নয়, লেখেন বিড়াল' অনেকের প্রশ্ন, যে নামজাদা ব্যাটসম্যানরা এভাবে আত্মসমর্পণ করলেন তারা কি জবাব দেবেন এখন? টস জিতে সাকিব যখন ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিলেন তখন গ্যালারিতে ছিল কানফাটানো উল্লাস শুরুর আগে দেখে মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ যেন ম্যাচ আজ জিতেই গেছে কারণ সবারই ধারণা ছিল জাদুকরী ব্যাটিং প্রদর্শন করে প্রতিপক্ষকে বিশাল চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবেন তারা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই কি তাদের ডুবাল? 

evsjv‡`‡ki wµ‡KU BwZnv‡m MZKvj wQj j¾vKi w`b| I‡q÷ BwÛ‡Ri wei“‡× wek¦Kv‡ci ¸i“Z¡c~Y© g¨v‡P A‡bK Avkv wQj evsjv‡`k fv‡jv djvdj Ki‡e| MZ g¨v‡P Avqvij¨v‡Ûi wei“‡× AícyuwR wb‡q †evjvi‡`i K…wZ‡Z¡ GK AmvaviY Rq cvq evsjv‡`k| H iv‡Z †Ljvi ci mviv evsjv‡`k Avb‡›` fv‡m| I‡q÷ BwÛ‡Ri wei“‡× GgbUvB cÖZ¨vkv wQj †`kevmxi| wKš‘ n‡q‡Q ïay D‡ëv bq, G‡Kev‡i j¾vq gv_vbZ Kivi gZ| evsjv‡`‡ki wµ‡K‡Ui mKj †MŠie I HwZn¨ MZKvj mvwKe - Zvwggiv ayjvq wgwk‡q w`‡q‡Q| nZvk `kK©iv ivRc‡_ Zv‡`i R¡vjv wgwU‡q‡Qb| G wek¦Kv‡ci me‡P‡q Kg †¯‹vi 58 Ges wek¦Kv‡ci BwZnv‡m PZz_© me©wbgœ †¯‹vi| I‡q÷ BwÛ‡Ri wei“‡× meDB‡KU nvwi‡q G ivb Zy‡j‡Q evsjv‡`k| ‡n‡m ‡L‡jB wR‡Z‡Q K¨vwiexqiv| MZKvj ïµevi Zviv ¯^vMwZK‡`i nvwi‡q‡Q bq DB‡K‡U| R‡qi j‡¶¨ e¨vU Ki‡Z ‡b‡g Lye ‡ewk ‡eM ‡c‡Z nqwb I‡q÷ BwÛR‡K| wµm ‡MB‡ji 36 I W¨v‡ib eªv‡fvi 9 iv‡bi myev‡` ‡QvU j¶¨ Uc‡K hvq W¨v‡ib m¨vwgi `j| gv‡S GKwU DB‡KU nvivq K¨vwiweqiv| I‡cbvi ‡Wfb w¯§_ mivmwi ‡evì nb bvCg Bmjv‡gi e‡j| Gi Av‡M wgicyi ‡k‡ievsjv wµ‡KU ‡÷wWqv‡g Um wR‡Z e¨vwUs‡qi wm×všÍ ‡bq ¯^vMwZK evsjv‡`k| Z‡e e¨vU Ki‡Z ‡b‡g ‡nvuPU Lvq UvBMvi evwnbx| `‡ji I e¨w³MZ k~‡b¨ iv‡b AvDU nb Zvwgg| G wek¦Kv‡ci cª_g n¨vUwUªKg¨vb ‡Kgvi ‡iv‡Pi e‡j w¯­‡c K¨vP †`b gviKz‡U GB e¨vUmg¨vb,Aek¨ cÖwZ g¨v‡P wbqwgZ ivb K‡i `‡ji wfwË M‡o †`b wZwb| Zvwg‡gi ci DB‡K‡Ui †cQ‡b K¨vP ‡`b Bgi“j Kv‡qm| `‡ji ivb ZLb 16| W¨v‡ib mvwgi ej ‡Lj‡eb bv Qvo‡eb wm×všÍ wb‡Z bv cvivq ‡LmvivZ ‡`b Bgi“j (5)| DB‡KUi¶K gykwdKyi iwng GKB ‡evjv‡ii dvu‡` c‡ob e¨w³MZ k~b¨ iv‡b| m¨vwgi ej gvi‡Z wM‡q aiv c‡ob ivgb‡ik mviIqv‡bi nv‡Z| iv‡bi PvKv mPj ivLv Rybv‡q` wmwÏKx I ‡ewk¶Y _vK‡Z cv‡ibwb wµ‡R| ‡Kgv ‡iv‡Pi e‡j GjweWwe­DÕi dvu‡` c‡ob evunvwZ GB ev‡R e¨vUmg¨vb| mvRN‡i ‡divi Av‡Mi PviwU Pv‡ii mvnv‡h¨ 25 ivb K‡ib|my‡jgvb ‡e‡bi e‡j mivmwi ‡evì nb evsjv‡`‡ki AwabvqK mvwKe Avj nvmvb| hvi ‡bZ…‡Z¡ N‡ii gvwU‡Z wbDwRj¨vÛ‡K 4-0 ‡Z evsjv Iqvk K‡i‡Q evsjv‡`k| AjivDÛvi mvwKe wd‡i ‡M‡Qb e¨w³MZ 8 iv‡b| e¨vUmg¨v‡bi hvIqv-Avmvi wgwQ‡j Gi ci ‡hvb ‡`b iwKeyj nvmvb| K¨vwiweq Awabvq‡Ki Z…Zxq wkKvi n‡q `j‡K ‡V‡j ‡`b AviI wec‡`i w`‡K| Aek¨ AvDU nIqvi Av‡M bv‡gi cv‡k ‡hvM K‡i‡Qb 4 ivb| Gici bvCg Bmjvg (1), †gvnv¤§` Avkivdyj 11 I kwdDj Bmjvg 1 iv‡b AvDU n‡j 58 iv‡bB ¸wU‡q hvq evsjv‡`k| দিবা-রাত্রির এই ম্যাচ রাতে গড়ানোর প্রয়োজন হয়নি। দিনের আলো থাকতেই ম্যাচটা নিজেদের করে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশ খেলেছে ১৮. ওভার। আর উইকেটের জয় নিশ্চিত করতে ড্যারেন স্যামির দল খেলেছে ১২. ওভার।

Conduit

Powered by Conduit

adsvert

CHITIKA

clicksor

adsgem