google

Loading

facebook

CHITIKA

অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ সফর স্থগিত করায় হতাশ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বোর্ড প্রধান নাজমুল হাসান বলেছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটের এটি সবচেয়ে দুঃখজনক ঘটনা।

অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশ সফর স্থগিত করায় হতাশ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বোর্ড প্রধান নাজমুল হাসান বলেছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটের এটি সবচেয়ে দুঃখজনক ঘটনা।

ছয়দিন ধরে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, শঙ্কা নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অপেক্ষার পর বৃহস্পতিবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে আসে চূড়ান্ত ঘোষণা। বাংলাদেশ সফর স্থগিত করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।

বিসিবির প্রতিক্রিয়া জানাতে সন্ধ্যায় গুলশানে নিজ বাসভবনে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান। সঙ্গে ছিলেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহবুব আনামসহ বেশ কয়েকজন বোর্ড পরিচালক।

আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নাজমুল হাসান বলেন, “আমরা হতাশ, দুঃখিত ও ব্যথিত। বাংলাদেশের খুব একটা ভালো সময় যাচ্ছিল। এই সময়ে এসে সবচেয়ে দুঃখজনক একটি ঘটনা ঘটল আমাদের ক্রিকেটে। এজন্য আমরা অত্যন্ত ব্যথিত।”

নিরাপত্তার শঙ্কায় বাংলাদেশ সফর বাতিল হলো, এটা মানতেই পারছেন না বিসিবি প্রধান।

“নিরাপত্তাজনিত কারণে সফর স্থগিত করেছে ওরা। এই ধরনের সন্ত্রাসী হামলার হুমকি অনেক দেশেই আছে। কিন্তু তাই বলে খেলা বন্ধ হয়ে যায়নি, সব দেশেই খেলা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, আমরা যে ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তাব করেছিলাম, তাতে ওদের ক্রিকেটারদের বা খেলায় কোনো বিঘ্ন ঘটানোর সুযোগ ছিল না। বাংলাদেশে এটা সম্ভব না। বাংলাদেশের ইতিহাস যদি দেখেন, এই ধরনের ঘটনা কখনও ঘটেনি, ঘটা সম্ভবও না। তারপরও তারা সফর স্থগিত করল।”

বাংলাদেশ সফরে আসা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধি দলকে মাত্র দেড় দিনের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সবগুলো নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা এবং প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সবাই সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে। তারপরও সফর স্থগিতের কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না নাজমুল হাসান।

“এখন পর্যন্ত আমি নিশ্চিত না, কেন তারা সফরটি স্থগিত করল। ওদের যে নিরাপত্তা পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছিল, এটা যে কোনো সিকিউরিটির লোক দেখলেও বুঝতে পারবে তারা কতটা নিরাপদে থাকবে। এই মুহূর্তে এর বাইরে কিছু ভাবা কঠিন।”

নিরাপত্তা পরিদর্শক দল ঢাকায় থাকতে থাকতেই গুলশানে এক ইতালীয় নাগরিকের খুন হওয়া অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন বোর্ড প্রধান।

“তাদের মনোভাব কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে আততায়ীর গুলিতে ইতালীয় নাগরিক মারা যাওয়ার পর। সবগুলো ঘটনা এমন একটা সময়ে ঘটেছে...। এই অ্যালার্টটা দেওয়ার পর আমার যখন নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলাম, তারপর পরই এই ঘটনা ঘটেছে। তারপর অন্য দেশগুলো থেকেও সেই অ্যালার্ট জারি করা। এই সবগুলো বিষয় মিলিয়ে হয়তো ওদের খেলোয়াড়রা ঘাবড়ে গেছে।”

বিসিবি প্রধানের মতে, অস্ট্রেলিয়া না আসায় বঞ্চিত হলো বাংলাদেশের মানুষ, “আমাদের ক্ষতি যে হয়েছে, এই ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। ষোলো কোটি মানুষের দেশ, আমাদের দেশের সবাই মুখিয়ে ছিল কখন অস্ট্রেলিয়া আসবে, সিরিজটা মাঠে কখন গড়াবে। সেদিক থেকে এটা বিরাট ক্ষতি। দর্শকরা বঞ্চিত হলো।”

হতাশায় মুষড়ে না পড়ে স্থগিত এই সিরিজ এখন যত দ্রুত সম্ভব আবার আয়োজনের আশা করছেন বোর্ড প্রধান।

“ওরা সফর বাতিল করেনি, স্থগিত করেছে। ওদের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। ৯ অক্টোবর আইসিসির সভায় যাচ্ছি আমি। ওখানেও এটা নিয়ে ওদের সঙ্গে বিশদভাবে আলোচনা হবে। অচিরেই কিভাবে সিরিজটা আবার আয়োজন করা যায়, সেটা নিয়ে আলোচনা করব। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যে সম্পর্ক আমাদের, তাতে দ্রুতই একটি সময় বের করতে পারব বলে আশাবাদী আমরা।”

Conduit

Powered by Conduit

adsvert

CHITIKA

clicksor

adsgem