google

Loading

facebook

CHITIKA

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৬ ওভারে ১ উইকেটে ৫৯ রান করেছে পাকিস্তান

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৬ ওভারে ১ উইকেটে ৫৯ রান করেছে পাকিস্তান। মিরপুর স্টেডিয়ামে টসে জিতে পাকিস্তান প্রথমে ব্যাট করছে। আহমদ শেহজাদ ৩৪ ও মোহাম্মদ হাফিজ ৩ রান নিয়ে ক্রিজে রয়েছেন।
আহমদ শেহজাদ ও কামরান আকমল জুটি বেশ ভালো সূচনা করেছিল। এই  জুটির অবসান ঘটনা আবদুর রাজ্জাক রাজ। তিনি কামরানকে (৯) বিদায় করেন। ফাইন লেগে জিয়া দুর্দান্ত ক্যাচ লুফে নেন।
টি২০ বিশ্বকাপে টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। মিরপুর স্টেডিয়ামে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এই ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য সম্মান রক্ষার ম্যাচ। আর পাকিস্তান এই ম্যাচে জিততে তাদের সেমিফাইনাল অনেকটাই নিশ্চিত হবে।
দুই দলে যারা রয়েছেন
বাংলাদেশ : তামিম ইকবাল, আনামুল হক, শামসুর রহমান, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহীম, নাসির হোনেস, মাহমুদুল্লাহ, জিয়াউর রহমান, মাশরাফি মর্তুজা, আবদুর রাজ্জাক, আল-আমিন হোসেন।
পাকিস্তান : কামরান আকমল, আহমদ শেহজাদ, মোহাম্মদ হাফিজ, উমর আকমর, শোয়েব মালিক, শোয়েব মাকসুদ, শহিদ আফ্রিদি, সোহেল তানভির, উমর গুল, জুলফিকার বাবর, সাইদ আজমল।

একটি জয়ের জন্য মরিয়া বাংলাদেশ

টি২০ বিশ্বকাপের ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ভারতের কাছে হেরে শুরুটা ভালো না হলেও অন্তত একটি জয়ের জন্য মরিয়া বাংলাদেশ। আজ রবিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। খেলা শুরু হবে সাড়ে ৩টায়।
এ দিকে টানা তিন ম্যাচ জিতে প্রথম দল হিসেবে সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ভারত। গাণিতিক সুযোগ আছে বাকি ৪ দলেরই। তবে এই হিসাব মাথায় না রেখে চাপমুক্ত থেকে খেলতে চায় বাংলাদেশ।
অতিথিদের বোলিং আক্রমণকেই সবচেয়ে বড় বাধা মানছেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।
সাকিব বলেন, ওদের বিপক্ষে রান পাওয়া কঠিন হবে। এই বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা বোলিং লাইনআপ ওদের। টি২০ ফরম্যাটের বিবেচনায় ওদের ব্যাটিংও খারাপ নয়। আমার মনে হয় কঠিন লড়াই-ই হবে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে  ৬টি টি২০ খেলে সবক’টিতে হারলেও বাংলাদেশকে স্বপ্ন দেখাচ্ছে সাম্প্রতিক ওয়ানডে ম্যাচগুলো। হারলেও গত দুটি এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়েছে বাংলাদেশ।
উইকেট নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই স্বাগতিকদের। অভ্যস্ত উইকেট পেলেও দল এবং ব্যক্তিগতভাবে সেরা ক্রিকেট খেলতে না পারাতেই বাংলাদেশের ভুগতে হচ্ছে বলে মনে করেন সাকিব।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের আগের দুটি ম্যাচই ছিল রাতে। রাতের বেলায় ব্যাট করা একটু কঠিনই। দিনের ম্যাচে সে তুলনায় রান পাওয়া সহজ। আগে ব্যাট করলে ১৭০ রানের লক্ষ্য উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান এনামুল হকের।
আগে ব্যাট করলে আমাদের ১৬০/১৭০ রান করতে হবে। এরপর বোলাররা ভালো বল করলে আমাদের যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকবে। আর আগে বল করলে ওদের ১৫০ রানের ভেতর বেধে রাখার চেষ্টা করতে হবে। বিশ্বকাপ আমাদের শেষ হয়ে যায়নি, এখনো অর্জনের সুযোগ আছে। আমাদের সেই চেষ্টাই করতে হবে।
গত এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে এনামুলের শতকে ওয়ানডেতে নিজেদের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছিল বাংলাদেশ। টি২০ সর্বশেষ দেখায়ও সাফল্য পেয়েছিলেন ব্যাটসম্যানরা। সাকিব আল হাসানের ৮৪ রানের ওপর ভর করে ৬ উইকেটে ১৭৫ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছিল বাংলাদেশ।
ব্যাটিং অর্ডার নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ব্যর্থ হওয়ার পর ৩ সাকিব ও চারে মুশফিককে ফেরাতে পারে বাংলাদেশ। দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান একটা ভালো শুরু এনে দিতে পারলে লড়াই করার মতো এনে দেয়ার সামর্থ্য তাদের রয়েছে।
তাছাড়া বাংলাদেশ শিবিরে যখন চাপমুক্ত হওয়ার স্বস্তি তখন অতিথি শিবিরে বাঁচা-মরার লড়াইয়ের চাপ। চার পয়েন্ট নিয়ে শিরোপাধারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ আপতত দুই নম্বরে আছে। সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত করতে হলে প্রতিটি ম্যাচেই জিততে হবে পাকিস্তানকে। অতিথিদের এই চাপই আত্মবিশ্বাস যোগাচ্ছে বাংলাদেশকে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে টাইগারদের ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানেও হতাশার কারণ

ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশ কিছুটা উন্নতি করলেও টি-২০ ম্যাচে কুন্নতির ছোঁয়া লাগেনি বললেই চলে। আর পাকিস্তানের বিপক্ষে ছয়টি টি-২০ ম্যাচের সবগুলোতে হারের প্রসঙ্গ এলে কোনো ক্রিকেটারের ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানও পাওয়া যায় না যা উল্লেখ করার মতো। ফলে সুধু যে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-২০ ম্যাচে বাংলাদেশ দলেরই পরিসংখ্যান খারাপ তাই নয়, বরং ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানও খুব একটা সুবিধার নয়।

এ পর্যন্ত পাকিস্তানের বিপক্ষে ছয়টি টি-২০ ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ দল। তাতে ব্যাটসম্যানদের ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র চারটি ফিফটি। ২০০৭ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত দলে ওপেনার হিসেবে নাজিমউদ্দিন আর জুনায়েদ সিদ্দিকী আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিলেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে এই দুইজনই পঞ্চাশের বেশি রান করেছেন। এরপর আশরাফুল আর তারপর সাকিব পঞ্চাশ পার করেন। আর বর্তমানে যারা দলে আছেন, তাদের কেউই পাকিস্তানের বিপক্ষে সফল নন। বিশেষ করে তামিম আর মুশফিকের ব্যাট পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-২০ ম্যাচে ভালোই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তাই রোববারের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই পাকিস্তান দলে বিপক্ষে স্বাগতিক দলের ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান শুধু হতাশাই জাগায়।

বর্তমান দলের বড় তারকা তামিম, সাকিব আর মুশফিক কেউই পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্যাট হাতে সফল নন। ২০০৭ সালে ওপেনার হিসাবে নাজিমউদ্দিন ৫০ বলে করেছিলেন ৮১ রান। আর ২০০৮ সালে করেছেন ৪২ রান। পরে তিনি দল থেকে বাদ পড়েন। জুনায়েদ সিদ্দিকী ২০০৭ সালের টি-২০ বিশ্বকাপে এক ম্যাচ খেলে করেছেন ৪৯ বলে ৭১ রান। তিনিও দল থেকে বাদ। ছিলেন আশরাফুল, ২০১৩ সালে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগে তিনিও বহিষ্কৃত হলেন। এরপর ২০১১ সালে পাকিস্তানের বাংলাদেশ সফরের সময় খেলা একটি টি-২০ ম্যাভে ছিলেন না আশরাফুল-মাশরাফি-তামিম।

কিন্তু দলের তিন কান্ডারি তামিম, সাকিব আর মুশফিক আগামীকালের ম্যাচে থাকছেন। তবে তাদের রেকর্ডও পাকিস্তানের বিপক্ষে আহামরি কিছু নয়। তামিম ঘরের মাঠে ২০১১ সালের টি-২০ ম্যাচে খেলতে পারেননি। পাকিস্তানের বিপক্ষে তামিমের মোট রান পাঁচ ম্যাচে মোট (১+৩+২৩+১৯+২৪) ৭০! মুশফিক ২০০৮ সালে করাচির ম্যাচে প্রথম একাদশে ছিলেন না। তিনি পাঁচ ম্যাচে রান করেছেন মোট (১+৬+৪+১০+২৫) ৪৬! সাকিব ২০০৭ সালের টি-২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সামনে ছিলেন একেবারেই নতুন মুখ। তাই দলের একাদশেও ঠাঁই পাননি। কিন্ত ঠাঁই পাওয়ার পর যে তিনি বিশেষ কিছু করে ফেলেছেন তাও নয়। পরের পাঁচ ম্যাচে সাকিব করেছেন মোট (১+০+৪৭+৭+৮৪) ১৩৯ রান। আর আশরাফুল পাঁচ ম্যাচে করেছেন (৭+৫+৬৫+১৩+১৪) ১০৪ রান।

এছাড়াও বোলিংয়েও উল্লেখযোগ্য কিছুই করা সম্ভব হয়নি। ফলে টি-২০’র ছয়টি ম্যাচে একবারও পাকিস্তানকে অলআউট করা সম্ভব হয়নি। ২০১১ সালে মিরপুরের উইকেটে খেলা ম্যাচে দুই ছিলেন বোলার সাকিব আর অলক কাপালি। এখন সাকিব আছেন, কিন্তু অলক নেই। সাকিব-অলক দু’জনই দুটি করে উইকেট পেয়েছিলেন। কিন্তু মোট পরিসংখ্যান ঘাটতে গেলে বাংলাদেশী বোলাদের করুণ চেহারাটাই বের হয়ে আসে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্যক্তিগতভাবে কিছুটা সফল এখন পর্যন্ত রাজ্জাক আর সাকিব। পাঁচটি করে উইকেট পকেটে জমা করেছেন দু’জনই। পাকিস্তানের বিপক্ষে এর চাইতে বেশি উইকেট শিকার করতে পারেননি আর কোনো বোলার।

পেসার মাশরাফি পাঁচ ম্যাচ খেলে মাত্র দুই উইকেট শিকার করতে পেরেছেন। আর মাহমুদুল্লাহ চার ম্যাচ খেলে উইকেট পেয়েছেন মাত্র একটি!

দ্বায়ীত্ব কাঁধে নিচ্ছেন এনামূল

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ছন্দে আছেন কেবল এনামুল হক। তাই পরের ম্যাচগুলোতে আরো বেশি দায়িত্ব নিয়ে খেলতে চান উদ্বোধনী এই ব্যাটসম্যান।
শনিবার অনুশীলনের ফাঁকে এনামুল বলেন, “রান পাচ্ছি এটাকে আমি বড় করে দেখছি না। ৪০ না করে ৭০ করতে পারলে দলের রান আরো বাড়তো। আমার মনে হয়, যে রানে থাকে তার ওপর দায়িত্ব একটু বেশি থাকে। আমি এখন রানে আছি তাই আমার একটু বেশি দায়িত্ব নেয়া উচিৎ।” মিরপুরের উইকেটে এসেই রান করা সম্ভব নয়। উইকেটে সেট হয়ে গেলে ‘শট’ খেলা অনেক সহজ হয়ে যায়। সেট হতে পারলে ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে বড় ইনিংস চান অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমও। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান এনামুল।
পাঁচ ম্যাচে তার রান ৪৪*, ৪২, ২৬, ১০ ও ৪৪।
তবে ইনিংসগুলোকে আরো বড় করতে না পারার আক্ষেপও আছে তার। “হয়তো এই জায়গায় তামিম ভাই বা সাকিব ভাই থাকলে বড় ইনিংস খেলে আসতেন। রানে থাকায় আমাকেও তা করতে হবে। পরের দুটি ম্যাচে সেট হতে পারলে যতটা সম্ভব বড় ইনিংস খেলার চেষ্টা করবো,” যোগ করেন তিনি।
তামিম ইকবালের সঙ্গে এনামুলের উদ্বোধনী জুটিই টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সেরা। কিন্তু হঠাৎ করেই খেই হারিয়ে ফেলেছেন তারা। সম্ভাবনা জাগিয়েও বড় হচ্ছে না উদ্বোধনী জুটি। “তামিম ভাই অনেক পরিশ্রম করছে। তিনি ‘গ্রেট’ খেলোয়াড়দের একজন। এখন ‘কমিউনিকেশন’ টা খুবই প্রয়োজন। সেটা হলে হয়তো বাংলাদেশের জন্য ভালো ফল আসবে।
”দুই ম্যাচের হতাশা কাটিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভালো খেলার প্রত্যাশা জানিয়ে এনামুল বলেন, “আমাদের এখনও কিছু করার মতো সুযোগ আছে। কালকের ম্যাচ আমাদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হলেও আমাদের এখনও অর্জন করার মতো কিছু রয়েছে। আমাদের মূল লক্ষ্য দল হিসেবে ফিরে আসা।

দলে ফিরছেন জিয়া

অবশেষে টি-টোয়েন্টির বিশ্ব আসরের দলে ফিরছেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার জিয়াউর রহমান।
এশিয়া কাপে ভালো পারফরম্যান্সের পরও টি-টোয়েন্টিতে তাঁকে না দেখায় হতাশ
হয়েছিলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। যদিও এ ক্ষেত্রে তাঁকে দুর্ভাগাই বলা যায়, কারণ
টি-টোয়েন্টির বিশ্ব আসরের জন্য নির্বাচকদের দল যে দিতে হয়েছিল এশিয়া কাপের
আগেই! রুবেল হোসেনের চোটে জাতীয় দলের দরজা খুলে গেছে জিয়ার। খেলোয়াড়
পরিবর্তনে আইসিসির টেকনিক্যাল কমিটির অনুমোদনের আনুষ্ঠানিকতার অংশটুকু বাদ
দিলে দলে ফিরছেন জিয়া। গতকাল বিকেলে খবর পেয়ে ঢাকার পথে খুলনা থেকে রওনা
দেন জিয়া, আজ সকালে ফতুল্লায় দলের অনুশীলনে যোগ দেবেন তিনি। চোট আছে
মাশরাফি বিন মর্তুজারও, আজ সকালে হবে তাঁর ফিটনেস টেস্ট। যদি ফিটনেস টেস্ট
উতরে যেতে না পারেন নড়াইল এক্সপ্রেস, তাহলে পেসার তাসকিন আহমেদের দলে ঢুকে
পড়ার সম্ভাবনা জোরালো।

Conduit

Powered by Conduit

adsvert

CHITIKA

clicksor

adsgem