google

Loading

facebook

CHITIKA

বিপিএলের ম্যাচের সময় পরিবর্তন

আগেই ধারণা করা হচ্ছিল ২৪ তারিখ খুলনায় বিপিএলের ম্যাচ না-ও হতে পারে। কারণ সেইদিন খুলনাতে অবস্থান করবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর সেই কারণেই এমনটা হতে পারে। কিন্তু সেই আশঙ্কা এখন আর নেই। কারণ গতকালই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে জরুরি পরিস্থিতির কারণে ২৪শে জানুয়ারিতে খুলনায় ম্যাচের সময় পরিবর্তন করা হয়েছে। ঐ দিন  দুপুর দুইটা পূর্ব সময়ানুযায়ী বরিশাল বার্নার্স ও চিটাগাং কিংসের ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা পরিবর্তন হয়ে একই দিন সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। তবে ঐ দিন খুলনা রয়েল বেঙ্গল ও দুরন্ত রাজশাহীর ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে পূর্বনির্ধারিত সময়ে সন্ধ্যা ছয়টায়ই। কমলো টিকিটের দাম
অবশেষে মাঠে দর্শক টানতে টিকিটের দাম কমলো বিপিএলের দ্বিতীয় আসরের। আর এই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্টের দর্শকদের জন্য এটি সুখবর হতে পারে। কমানো হয়েছে গ্যালারির টিকিটের দাম। এই সুযোগ সাধারণ গ্যালারির দর্শকদের জন্য।  ৩৫০ টাকার টিকিট পাওয়া যাবে ২০০ টাকায় এবং উত্তর ও দক্ষিণ গ্যালারির ৫০০ টাকা দামের টিকিট পাওয়া যাবে ৩০০ টাকায়। খুলনা  শেখ আবু নাসের  স্টেডিয়ামের পশ্চিম ও পূর্ব গ্যালারির টিকিটও ২০০ টাকায় এবং চট্টগ্রাম এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের সাধারণ গ্যালারির টিকিট ২০০ টাকা করে বিক্রি হবে। এরপর ঢাকার রাউন্ড শেষ করে বিপিএল আজ থেকে শুরু হচ্ছে খুলনায়। খুলনার দর্শকরাই প্রথম গ্যালারির মূল্য ছাড়ের সুবিধা পাচ্ছেন। এরপর খুলনা পর্ব শেষ করে বিপিএল চলে যাবে চট্টগ্রামে। আর সেখান থেকেই আবারও ঢাকায় বিপিএল শেষ হবে ১৯শে ফেব্রুয়ারির ফাইনাল দিয়ে।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ-বিপিএল শুরুর পর তিনদিনে মাত্র ৬টি ম্যাচ হয়েছে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের ছাড়াই আশরাফুল, নাসির আর সোহাগ গাজীরা উপহার দেন মাঠে জমজমাট লড়াই। এ পর্যন্ত মাঠের লড়াই জমজমাট হলেও টিকিটের উচ্চমূল্য থেকেছে দর্শকশূন্য গ্যালারি। আর দর্শকশূন্যতায় খুব বেশি উত্তেজনা ছড়াতে পারেনি এ ম্যাচগুলো। তবে আজ থেকে খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম কিছুটা ভিন্ন চিত্র প্রত্যাশা করছে সবাই। আর এজন্য সাধারণ গ্যালারির টিকিটের দাম কমিয়ে করা হয়েছে ২০০ টাকা। আজ চিটাগাং কিংস ও রংপুর রাইডার্স মুখোমুখি হবে প্রথম ম্যাচে দুপুর দু’টায়। আর সদ্ধ্যা ৬টা ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের মুখোমুখি হবে দুরন্ত রাজশাহী। আজ থেকে আগামী চারদিনে হবে ৮টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে। গত আসরে এখানে বিপিএলের কোন ম্যাচ হয়নি এ স্টেডিয়ামে।
সাকিবকে তামিমের চ্যালেঞ্জ
প্রথমবারের মতো খুলনায় বিপিএল উত্তেজনা শুরু হচ্ছে আজ থেকেই। ইতিমধ্যেই খুলনায়  পৌঁছে গেছে চারটি দল-রংপুর রাইডার্স, ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স, চিটাগাং কিংস ও দুরন্ত রাজশাহী।  এ চার দলের মধ্যে গত আসরের চ্যাম্পিয়ন ঢাকা সবচেয়ে ভাল অবস্থান নিয়েই খুলনায় নিজেদের মিশন শুরু করবে আজ। মিরপুরে দুই ম্যাচ খেলে দুটিতেই দারুণ জয় তুলে নিয়েছে তারা। খুলনায় পৌঁছে গতকাল অনুশীলন করছে ঢাকা। আর ঢাকার তারকা ক্রিকেটার নিজেদের এগিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে বলেছেন না না কথাও। নিজের রানে ফেরা নিয়ে কথা বলেছেন আশরাফুল। আজ দুরন্তের বিপক্ষে ম্যাচে নিয়ে তিনি বলেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে কোন দলকে ছোট করে দেখার কিছুই নেই। এখানে দুরন্ত রাজশাহী বা রংপুর রাইডার্স কাউকে হালকা ভাবে নেয়ার প্রশ্নই আসেনা।’ এছাড়াও নিজের রানে ফেরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আসলের এটা আমার জন্য আনেক চ্যালেঞ্জ ছিল। রানে ফিরতে পেরে ভাল লাগছে। আর দলের জন্য অবাদান রাখতে পেরেছি সে হিসেবেও ভাল লাগছে। আর একটি দলে একজন ব্যাটসম্যান শুরুতে পঞ্চাশের ওপর রান করলে সেই দলের জন্য লড়াইটাও ভাল হয়।’ তবে আশরাফুল নিজেদের জয়ের ধরা ধরে রাখার কথাও বলেছেন জোরালোভাবেই। এছাড়াও আজ ঢাকার হয়ে মাঠে নামছেন দক্ষিণ আফ্রিকার পেস বোলার আলফেন্সো থমাস। তবে তিনি কার পরিবর্তে মাঠে নামবেন তা এখনও নিশ্চিত হয়নি। অন্যদিকে প্রথম দুরন্ত রাজশাহী প্রথম ম্যাচে ৯৯ রানে আল আউট হওয়ার পরও তামিম ইকবালের নেতৃত্বে চিটাগাং কিংসের বিপক্ষে ২ রানের দুর্দান্ত জয় তুলে নেয়। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে পেসারদের ব্যর্থতায় আর নাজমুল মিলন ও চিগুম্বুরার অসাধারণ অপরাজিত ৭০ রানের জুটিতে সিলেটের বিপক্ষে ৪ উইকেটে হেরে যায়। প্রথম দু’ম্যাচে দুরন্ত অধিনায়ক ছিলেন তামিম ইকবাল। কিন্তু আগেই ঘোষণা ছিল দুরন্তর অধিনায়ক হবেন সাইমন ক্যাটিচ। আর গতকালই দলের সঙ্গে এ অস্ট্রেলিয়ান খুলনাতে পৌঁছে গেছেন। আর সেখানে তিনি বাংলাদেশের উইকেট ও নিজের দল সম্পর্কে ধারা নিয়েছেন। আর বলেন, ‘আমি এ প্রথম বাংলাদেশে। তবে আমি এখানকার কন্ডিশন সম্পর্কে শুনেছি। এখানে স্পিনারা বেশি সহায়তা পায় উইকেট থেকে। তবে দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে আশা করি জয়ের ধারায় ফিরতে পারবো।’ এছাড়াও তার সঙ্গে দুরন্ত রাজশাহীর দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন আরেক অস্ট্রেলিয়ান ড্যান এডমেন্সনও। আজ দু’জনকে মাঠে দেখা যেতে পারে বলে জানা গেছে। ঘুরে দাঁড়াতে চায় চিটাগাং কিংস . প্রথম আসরে দুরন্ত রাজশাহীকে হারিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল চিটাগাং কিংস। কিন্তু দ্বিতীয় আসরে সে দুরন্তর বিপক্ষে হেরেই যাত্রা করে। এছাড়া এবার বিপিএলের ৭ম দল হিসেব যুক্ত হওয়ার রংপুর রাইডার্সও ঢাকার বিপক্ষে দুর্দান্ত এক ম্যাচ দিয়ে শুরু করে। কিন্তু রংপুরে দেশীয় তারকা নাসির হোসেনের ৪৬ বলে করা ৮০ রান ঢাকার কাঁপন ধরিয়ে দেয়। সাকিব আল হসানের বলে আউট না হলে হয়তো রংপুরকে ঢাকার সঙ্গে ৩৫ রানে হারতে হতো না। নাসির হাঁকিয়েছেন ৫টি চার ও ৬টি ছয়ের মার। এছাড়াও রংপুরের বিদেশী তারকা নীল ও’ব্রেন ও কেবিন ও’ব্রেন। এর মধ্যে প্রথম ম্যাচে নীল ও’ব্রেন করেছেন অপরাজিত ৪০ রান। তাই দলটি নতুন হলেও কারও হালকাভবে নেয়ার মতো না। তবে রংপুর ও চিটাগাং একটি করে ম্যাচ খেলে পরাজয় নিয়েই ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়  নিয়েই আজ মিশন শুরু খুলনায়। রংপুর প্রথম ম্যাচে হারলেও খুলনায় শুরু করতে চায় জয় দিয়ে। এ বিষয়ে দলের উপদেষ্টা ফারুক আহমেদ বলেন, ‘সবে টুর্নামেন্ট শুরু হয়েছে। আমরা একটা ম্যাচ হারলেও সামনে অনেক ম্যাচ পড়ে আছে। আমরা খুলনা থেকে জয় দিয়ে পরবর্তী মিশন শুরু করতে চাই।’ অপরদিকে, চিটাগাং কিংসের শুরুটা হয়েছে নাটকীয় এক পরাজয় দিয়ে। শনিবার নিজেদের প্রথম ম্যাচে দুরন্ত রাজশাহীর বিরুদ্ধে ৯৯ রান তাড়া করতে ব্যর্থ হয়েছে দলটি। তবে চিটাগাংয়ের কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন আত্মবিশ্বাসী ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য। তিনি বলেন, ‘আমাদের দল অনেক ভাল। কিন্তু সেটা আমরা প্রথম ম্যাচে হয়তো করে দেখাতে পারিনি। তবে আমাদের স্থানীয় ক্রিকেটাররা অনেক ভাল করেছে। আশা করছি সেটা তারা ধরে রাখবে এবং বিদেশী ক্রিকেটাররাও নিজেদের সেরাটা দেখাবে। আমরা খুলনায় নতুন করে শুরু করতে চাই।’

বিপিএলের প্রথম আসরেও ব্যাট হাতে উজ্জ্বল ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ব্র্যাড হজ। ঘরোয়া ক্রিকেট লীগ বিগ-ব্যাশে ব্যস্ত থাকায় বরিশাল বার্নার্সের হয়ে দ্বিতীয় আসরের প্রথম ম্যাচ খেলতে পারেননি তিনি। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে খেলতে নেমেই ব্যাট হাতে ঝলক দেখিয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী হজ।  ৪০ বলে ৫৩ রানের ঝকমকে ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরার পুরস্কারও পান তিনি। তাই বিগ-ব্যাশের সঙ্গে বিপিএলে খেলার অনুভূতি জানাতে গিয়ে হজ বলেন, ‘অবশ্যই অস্ট্রেলিয়ার উইকেট অনেক বেশি দ্রুতগতির। ঢাকার উইকেট অনেক স্লো। ওখানে খেলার অভিজ্ঞতাটা অনেক বেশি তাই সহজেই নিজেকে সেখানে মানিয়ে নেয়া যায়। তবে এখানকার উইকেটে সেট হতে কিছুটা সময় লাগে। তারপরও ভাল খেলতে পারায় আমি সন্তুষ্ট।’

দ্বিতীয় ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়ালো বরিশাল

দ্বিতীয় ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়ালো বরিশাল। গতকাল খুলনাকে ৮ উইকেটে হারিয়ে বরিশাল প্রথম জয় তুলে নিয়েছে। প্রথম আসরে ক্রিস গেইলকে নিয়ে শক্তিশালী দল ছিল বরিশাল। তারা রার্নাসআপও। কিন্তু দ্বিতীয় আসরে পাকিস্তান খেলোয়াড় না ছাড়ায় দলটির একাদশ গড়াই কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু বিদেশী খেলোয়াড় ভিড়িয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দলটি। অন্যদিকে গতবার আইকন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে নিয়ে খুলনা রয়েল বেঙ্গলও ছিল প্রচণ্ড শক্তিশালী দল। কিন্তু দ্বিতীয় আসরে তাদের ছিটেফোঁটাও খুঁজে পাওয়া মুশকিল। দল গঠনেও তাদের মধ্যে প্রথম আসরের উত্তেজনা খুঁজে পাওয়া যায়নি। আর পাকিস্তানি ক্রিকেটার না আসায় খুলনাই বিপিএলের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দল। অবশ্য তারা গতকাল তিনজন বিদেশী ক্রিকেটার দলে ভিড়িয়েছে। তবুও দল জয়ের মুখ দেখেনি। গতকাল টসে জিতে শাহরিয়ার নাফীস ও রিকি ওয়েসেলসের ব্যাটে ভর করে সংগ্রহ করে ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৮ রান। এর জবাবে অধিনায়ক ব্রাড হজের ফিফটিতে ১৮.৩ ওভারেই জয় তুলে নেয় বরিশাল বার্নাস।
১৪৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুর্দান্ত জুটি গড়ে তোলেন ফিল মাস্টার্ড ও ব্রাড হজ। দুই ওপেনার ৫৩ বলে ৭৮ রানের জুটি গড়ে। এর মধ্যে ফিলের অবদান ৩১ রান আর হজের ৪১। তবে ফিল ২৭ বলে ৫৫ রান করে আউট হন। কিন্তু অধিনায়ক হজ ফিফটি তুলে নেন। আউট হওয়ার আগে করেন ৪০ বলে ৫৩ রান। তবে তারা দুজন আউট হলেও এই দু’জনের গড়ে দেয়া ভিতে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নেন জো ডেনলি ও আজহার মেহেমুদ। তারা গড়ে তোলেন অপরাজিত ৪৫ রানের জুটি। আজহার করেন ১৬ বলে ২৫ রান। ডেনলি করেন ২৮ বলে ৩০ রান। ব্যাটিংয়ে বরিশালের দেশী কোন ব্যাটসম্যানকেই নামতে হয়নি। সানজামুল ও ডলার একটি করে উইকেট পান। এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলেই রয়েল বেঙ্গলস ওপেনার নাজিমউদ্দিনকে সাজঘরে ফেরান শফিউল ইসলাম। শুরুর ধাক্কাটা সামলে উঠতে তৃতীয় উইকেট জুটিতে শাহরিয়ার নাফীস ও রিকি ওয়েসেলস ৫৮ রান করেন। ২৮ বলে ৯ চারে ৪৩ রানের ঝড়ো ইনিংস  খেলেন নাফীস। এর পরই সাব্বির রহমান রানআউট করে নাফীসকে সাজঘরের পথ দেখান। নাফীসের আউটের পর অন্যপ্রান্ত আগলে রাখা চেষ্টা করেন রিকি। তবে ৪৪ বলে তিন চার ও দুই ছয়ে সর্বোচ্চ ৪৮ রানে আজহার মাহমুদের শিকার হন ওয়েসেলস। মূলত এ দুই ব্যাটসম্যান বাদে আর কেউই বড় সংগ্রহ করতে পারেননি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১ রান করেন দলের নতুন সংযোজন ড্যানিয়েল হ্যারিস ও ফরহাদ রেজা। আর ডলার মাহমুদ ৭ রানে অপরাজিত থাকেন। মাঠে নেমে কোন বলই মোকাবিলা করতে পারেননি অপর প্রান্তে থাকা আফগান ক্রিকেটার শাপুর জারদান। রয়েল বেঙ্গলসের তিন ব্যাটসম্যান রান আউটের শিকার হন। একটি করে উইকেট দখল করেছেন বার্নার্সের শফিউল ইসলাম, আজহার মাহমুদ, কবির আলী, ইলিয়াস সানি ও অলক কাপালি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
খুলনা রয়েল বেঙ্গলস ইনিংসঃ ২০ ওভারে ১৪২/৮; (ওয়েসেলস ৪৮, শাহরিয়ার ৪৩, ফরহাদ ১১, হ্যারিস ১১; শফিউল ১/১৩, কাপালী ১/১৮)।
বরিশাল বার্নার্স ইনিংসঃ ১৮.৩ ওভারে ১৪৬/২; (হজ ৫৩, মাস্টার্ড ৩৫, ডেনলি ৩০*, আজহার ২৫*; ডলার ১/২২)।
ফলঃ বরিশাল বার্নার্স ৮ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচ সেরাঃ  ব্রেড হজ (বরিশাল বার্নার্স)।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ টি-টোয়েন্টিতে ফাঁকা গ্যালারি

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের এই ক্ষুদ্র সংস্করণ মানে ব্যাটে-বলে টানটান উত্তেজনা। আর সেই উত্তেজনা দর্শকদের মুহুর্মুহু করতালিতে আর বাঁধভাঙা উল্লাসে মুখর হয়ে উঠবে গ্যালারি। আইপিএল বা ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে যা নিয়মিত চিত্র। বাংলাদেশেও সেই আইপিএলের অনুকরণে হচ্ছে বিপিএল বা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ টি-টোয়েন্টি। প্রথম আসরে অনেক আবেদন সৃষ্টিকারী এই টুর্নামেন্টটি দ্বিতীয় আসরে এসে মুখ থুবড়ে পড়েছে। আর সবচেয়ে বেশি দৃষ্টিকটু বিষয় আসরে প্রথম দু’দিনে ফাঁকা গ্যালারি। ২৫ হাজার ধারণ ক্ষমতার স্টেডিয়ামে এক হাজারের বেশি দর্শক হওয়াও যেন কষ্টকর। কি এর কারণ? কারণটা সরাসরি বলে দিলেন বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক। তিনি বলেন, ‘টিকিটের অতিরিক্ত দামের কারণেই দর্শকরা মাঠ-বিমুখ। আর আমরা বার বার বলেও টিকিটের স্বত্ব কিনে নেয়া প্রতিষ্ঠান একটিভ সার্ভিসকে এর দাম কমাতে পারছি না।’ প্রথম আসরেও টিকিটের অতিরিক্ত মূল্য থাকায় দর্শকরা এভাবে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। পরে বিসিবির অনুরোধে সেই মূল্য কমানোর পরই দর্শক ভরপুর হয়ে উঠে মাঠ। এবার সাধারণ গ্যালারির সর্বোনিম্ন টিকিটের মূল্য রাখা হয়েছে ৩৫০ টাকা। আর এই টিকিট এয়ার টেল গ্রাহক আর ছাত্র-ছাত্রীরা পাবেন ৩০ শতাংশ ছাড়ে। তখন এই মূল্য দাঁড়াবে ২৪৫ টাকা। কিন্তু এয়ার টেল এই ছাড়া দিয়েছেন নানা প্যাকেজ, শর্ত আর বান্ডলের ওপর, যা দর্শকদের জন্য ভীষণ ভোগান্তির। আর ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ৩০ শতাংশ ছাড়ে টিকিট কিনতে হবে মিরপুর ম্যাচ ভেন্যু থেকে, যা ছাত্র-ছাত্রীদের অনেক বিড়ম্বনার। আর দর্শকরা অভিযোগ করেছেন টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না ব্যাংকেও। এছাড়াও গ্রান্ড স্ট্যান্ডের টিকিট ধরা হয়েছে ২১০০ টাকা। এক দর্শক অভিযোগ করে বলেন, দেখেন আমরা মাঠে খেলা দেখতে আসি পরিবার বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে। কিন্তু একটি টিকিটের দাম যদি হয় ২১০০ টাকা, সেই ক্ষেত্রে পরিবারের ৩ জন লোক নিয়ে কিভাবে আসবো? আর এখানে খাবারের যে দাম তার জন্যও প্রয়োজন অনেক টাকা। তাই অনেকের স্বাদ থাকলেও সাধ্য নেই। অন্যদিকে বাংলাদেশে দর্শকরা আন্তর্জাতিক ম্যাচে সর্বোনিম্ন ৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকার টিকিটে বেশি অভ্যস্ত। আর পাকিস্তান বা বিদেশী তারকা ক্রিকেটার ছাড়া বিপিএলের ম্যাচ দেখতে সাধারণ দর্শকরা  কেন মাঠে আগ্রহ বোধ করবেন? তবে মল্লিক বলেছেন ‘আমরা চেষ্টা করছি। গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান আফজালুর রহমান সিনহাও বলেছেন এই টিকিটের মূল্য কমাতে আজই (গতকাল) আমরা টিকিটের ওদের সঙ্গে বসবো। তবে আমরা ওদের অনুরোধই করতে পারি জোড় করতে পারবো না। কারণ এই টিকিটের চুক্তি হয়েছে গেম অন স্পোর্টের সঙ্গে। আর গেম অনের সঙ্গে আমাদের। আর সেই চুক্তিতে কোথাও লেখা নেই যে আমরা বিসিবি চাইলে এই মূল্য পরিবর্তন করতে পারবো।’ কিন্তু এই চুক্তি আপনারা কি ভাবে করলেন? আর এই প্রশ্ন সামনে আসতেই মল্লিক বলেন, ‘এটা আমাদের বোর্ডের করা চুক্তি না। এই চুক্তি করেছে পুরো বোর্ড। তাই আমরা ভাবছি এবার গেম অন স্পোর্টের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করবো। এছাড়াও ওদের আগের অনেক মালিকও এখন নেই। নতুন করে অনেক মালিক হয়েছে। তাই আমাদের চিন্তায় আছে গেম অন স্পোর্টের সঙ্গে নতুন ভাবে চুক্তি করার।’

খুলনা-বরিশালের ফেরার লড়াই

বরিশাল বার্নাস প্রথম বিপিএলের প্রথম আসরে যাত্রা ছিল জয় নিয়ে। আর  সিলেট রয়্যালসের বিপক্ষেই ছিল সেই ১০ উইকেটের জয়। কিন্তু এবার তারা সেই সিলেটের বিপক্ষেই ৩৩  রানে হেরে যাত্রা শুরু করে। অন্যদিকে খুলনা গ্লাডিয়েটর্সের বিপক্ষে জয় দিয়ে শুরু করেছিল প্রথম আসর। এবার পরাজয় দিয়ে। আজ বিপিএলের তৃতীয় দিন বরিশাল মুখোমুখি হবে খুলনার। আর দুই দলই পরাজয়ের আগুনে উত্তপ্ত। তাই দুই দলেরই টার্গেট থাকবে বিপিএলের দ্বিতীয় আসরে জয় তুলে নেয়া। তাই মিরিপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে দুপুর দুইটায় খুলনা ও বরিশাল বার্নার্সের অন্যতম টার্গেট যে কোন মূল্যে জয়। যদিও কাগজে কলমে খুলনার চেয়ে অনেক শক্তিশালী দল বরিশাল।
পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের না আসায় সব চেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দল খুলনা। তাদের অধিনায়ক শাহরিয়ার নাফীস প্রথম ম্যাচ পরাজয়ের পর বলেছিলেন, ‘আমাদের ১১ জনের একাদশ গঠনই মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছিল। তবে দলে ভালমানের বিদেশী ক্রিকেটার আসলে দল আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।’ আর গতকাল তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথম ম্যাচটি দেশের স্বার্থে খেলেছিলাম। আশা করি আজ আমরা ভাল খেলা দর্শকদের উপহার দিবো।’ এছাড়া খুলনার ম্যানেজার রনি জানিয়েছেন, আজ মাঠে তাদের বিদেশী ক্রিকেটার থাকার বেশি সম্ভাবনা রয়েছে। কাল রাতে তাদের দুই/একজন বিদেশী ক্রিকেটার অসার কথা তিনি জানালেও নিশ্চিতভাবে আসছেন কিনা বা কে আসছেন তা তিনি বলতে পারেননি।
অন্যদিকে বরিশালের মিডিয়া ম্যানেজার রাজীব জানিয়েছেন, ‘আজ তাদের দলে যুক্ত হচ্ছে আরও দু’জন বিদেশী ক্রিকেটার। একজন তাদের পুরনো সদস্য অস্ট্রেলিয়ার ব্রড হজ আরেকজন ইংলিশ ক্রিকেটার জো-ডেনলী। এছাড়া দলের কোচ সরোয়ার ইমরান বলেন, ‘আমাদের দলে দেশী ও বিদেশী ক্রিকেটারের সমন্বয় ছিল না বলেই প্রথম ম্যাচে ভাল করতে পারিনি। কিন্তু কাল (আজ) আমাদের দলের দুজন  বিদেশী ক্রিকেটার আসছে। সেই হিসেবে বলতে পারি দলের পারফরমেন্স আগের তুলনায় ভাল হবে।’

কম বলে ফিফটির রেকর্ডে আশরাফুলের

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির দ্রুততম (কম বলে) ফিফটির রেকর্ডে আশরাফুলের স্থান দ্বিতীয়। আর মিনিটের দিক দিয়ে তার স্থান সবার ওপরে। ২৪ বলে ফিফটি হাঁকিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাক ক্যালিস। আর ২৬ বলে দুজন। একজন বাংলাদেশের আশরাফুল। আরেক জন পাকিস্তানের শহীদ আফ্রিদি। আর আর সবচেয়ে কম সময় ২৭ মিনিটে ফিফটির রেকর্ডে আশরাফুল শীর্ষে। গতকাল ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে তিনি রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে হাঁকালেন ৩০ বলে ফিফটি। তাই তার জন্য এতো কম বলে ফিফটি কোন ব্যতিক্রম কিছু নয়। বলাচলে চেনা রূপেই ফিরলেন এই ব্যাটসম্যান। আশরাফুলের এমন দূরদান্ত দিনে ঢাকা আবারও দু’শ’ ছাড়ানো স্কোর গড়লেন। বিপিএলে ঢাকার সর্বোচ্চ স্কোর ছিল প্রথম আসরে ২০৮/৫ বরিশালের বিপক্ষে, দ্বিতীয় আসরে প্রথম ম্যাচে ২০৪/৪ খুলনা রয়েল বেঙ্গলের বিপক্ষে আর দ্বিতীয় ম্যাচে সংগ্রহ করে ২০২/৫ রান রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে। আর এইটি আশরাফুলের ক্যারিয়ার সেরা ব্যাটিং। আশরাফুল এই পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ২২টি। তার মধ্যে ফিফটি হাঁকিয়েছেন ২টি। আর ৫০টি ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ফিফটি হাঁকিয়েছেন ৪টি। গতকাল রংপুরের বিপক্ষে তিনি শুধু ফিফটিই হাঁকাননি, তিনি করেছেন ৬৮ বলে ৭৩। আর এই ইনিংস সাজিয়েছেন ৮টি চার ও ৩টি ছয়ের মারে। বিপিএলের প্রথম আসরে আশরাফুল ১১ ইনিংসে ২৫৮ রান সংগ্রহ করেছিল ১টি ফিফটিতে ভর করে। আর দ্বিতীয় আসে প্রথম ম্যাচে ব্যাট করতে নেমে ১১ বলে ২২ আর দ্বিতীয় ম্যাচে ৭৩ করে রান মো. আশরাফুল। আনামুল হক বিজয়কে নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন ২৩ বলে ৫৭ রানের জুটি। আর এই জুটিই ঢাকা গ্ল্যাডয়েটর্সকে দ্বিতীয় বারের মতো ২শ’ ছাড়ানো ইনিংস গড়তে বড় ভূমিকা রাখে।

বিপিএলের দ্বিতীয় আসরে প্রথম ম্যাচে চিটাগাং কিংসের প্রতিপক্ষ দুরন্ত রাজশাহী

প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় আসরেও প্রথম ম্যাচে চিটাগাং কিংসের প্রতিপক্ষ দুরন্ত রাজশাহী। প্রথম দেখায় ৫৩ রানের জয় দিয়ে যাত্রা করেছিল কিংসরা। তাই দ্বিতীয় আসরের প্রথম দেখাতেও সেই সুখস্মৃতি কিংসদের বেশ এগিয়েই রাখছে। এবার আরেকটি পার্থক্য দুই দলের মধ্যে। তিনি তামিম ইকবাল। গতবার তিনি ছিলেন কিংসদের আইকন ক্রিকেটার। আর আজ ঘরের ছেলে প্রতিপক্ষের অধিনায়ক হয়ে মাঠে নামবেন। তামিম ইকবালের জন্য তাই ম্যাচটি সব দিক থেকে অগ্নিপরীক্ষার। গতবার কিংসের সঙ্গে তিক্ত সম্পর্কের রেশ ধরে শেষ পর্যন্ত দুটি ম্যাচে মাঠে নেমেছিলেন তামিম। গতবারের প্রসঙ্গ নিয়ে অবশ্য ভাবছেন না তিনি। বলেন, ‘আসলে আমি খেলাকে খেলা হিসেবেই দেখতে চাই। কিংসদের বিপক্ষে অতীত নিয়ে ভাবার কিছু নেই। মাঠে লড়াইটা হবে ব্যাট-বলে। অন্যদিকে চিটাগাং কিংসের অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ বলেন, ‘প্রথম ম্যাচ সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রথম ম্যাচ হালকাভাবে নেয়ার কিছুই নেই। আমাদের দল দেশী-বিদেশী নিয়ে বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। তাই ভাল একটি শুরু পেলে দল জয়ের পথেই হাঁটবে।’ আজ দুপুর দুইটায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে চিটাগাং কিংস ও দুরন্ত রাজশাহী। দুই দলের জন্যই সমস্যা পাকিস্তানি ক্রিকেটার দলে না পাওয়া। তবে চিটাগাং কিংসের মালিক সামির কাদের ও অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ যতটা চিন্তা মুক্ত তার উল্টো চিত্র দুরন্ত রাজশাহীর। পাকিস্তানের আব্দুর রাজ্জাকসহ মোট চারজন ক্রিকেটার ছিল দুরন্ত রাজশাহীতে। চিটাগাং কিংসে ছিল ইমরান নাজিরসহ তিনজন। প্রথম ম্যাচের জন্য গতকাল পর্যন্ত দুরন্ত রাজশাহীর ২ জন বিদেশী ক্রিকেটার ছিল বাংলাদেশে। তারা হলেন- শন আরভিন ও মঈন আলী। আর দুরন্ত রাজশাহীর দেশী ক্রিকেটাররা হলেন- তামিম ইকবাল, জিয়াউর রহমান, জহুরুল ইসলাম, আবুল হাসান, ফরহাদ হোসেন, মুক্তার আলী, তাইজুল ইসলাম, শাকের আহমেদ ও মনির হোসেন। তাই শক্তিশালী চিটাগাং কিংসের বিপক্ষে এবারও প্রথম ম্যাচে তাদের ভয় রয়ে যাচ্ছে। রবি বোপারা, জেসন রয় আর ব্রেন্ডন টেইলরদের সঙ্গে নিয়ে দল বেশ শক্তিশালী বলে দাবি করেছেন কিংসের অধিনায়ক রিয়াদ। সেই সঙ্গে তাদের দলে আছেন এবার জাতীয় লীগ ও বিসিএলের ব্যাট হাতে সেরা স্কোরার  মার্শাল আইউব। নাঈম ইসলাম, রুবেল  হোসেন, আরাফাত সানি, আফতাব আহমেদ ও  নুরুল হাসান, এমনকি রেকর্ড জুটি গড়া মেহরাবও রয়েছেন।  ব্যাটসম্যান ছাড়াও অধিনায়ক ভরসা রাখছেন বোলার এনামুল হক জুনিয়রের ওপরই। তিনি বলেন, ‘ওর স্পিন আমাদের বেশ উপকারে আসবে।’ 
ওপরদিকে শক্তিশালী ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সের বিপক্ষে বিপিএল যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে নবাগত রংপুর রাইডার্স। পাকিস্তানি ক্রিকেটার না আসায় নিয়ে বিপদে পড়েছে এই দলটিও। শারজিল খান, আনোয়ার আলী, রাজা আলী দার ও জোহাইব খান এই চার পাকিস্তানির পরিবর্তে এখনও কোন বিদেশী ক্রিকেটার যুক্ত হয়নি। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য রংপুরের কোন কর্মকর্তাকে মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি। তবে তাদের দলে দু’জন বিদেশী ক্রিকেটার খেলবে বলে জানিয়েছেন দলটির অধিনায়ক আবদুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, ‘আমাদের দলে বেশ কয়েকজন ভাল অলরাউন্ডার আছেন। তাদের সমন্বয়ে বলতে পারি দলটি বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। এছাড়াও বিদেশী ক্রিকেটারদের মধ্যে কেভিন ও নীল  ও’ব্রায়েন ভাল ক্রিকেটার। আশা করি ভাল ম্যাচ উপহার দিতে পারবো।’ অন্যদিকে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্স তাদের দলের শক্তির প্রমাণ রেখেছে প্রথম ম্যাচেই। তাদের বিপক্ষে রংপুরের দেশীয় খেলোয়াড়রা কতটুকু সফল হবে তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
রংপুর রাইডার্স: নাসির হোসেন, আবদুর রাজ্জাক, জুনায়েদ সিদ্দিক, ইমরুল কায়েস,  মেহেদি হাসান, শামসুর রহমান, তাপস ঘোষ, ধীমান ঘোষ, মোহাম্মদ শরীফ,  কেভিন ও নীল ও’ব্রায়েন। (চার পাকিস্তানি ছাড়া)

প্রথম আসরে চিটাগাং কিংসের বিপক্ষে হারের প্রতিশোধ নিল দুরন্ত রাজশাহী দ্বিতীয় আসরে

বিপিএলের দ্বিতীয় আসর যেন প্রতিশোধ নিতেই মাঠে নামছে দল গুলো। প্রথম আসরে চিটাগাং কিংসের বিপক্ষে হারের প্রতিশোধ নিল দুরন্ত রাজশাহী দ্বিতীয় আসরে। বিপিএলের প্রথম দেখায় দুরন্ত রাজশাহী কিংসদের সঙ্গে হেরেছিল ৫৩ রানে। আর দ্বিতীয় আসরে প্রথম দেখায় তারা জয় তুলে নিল ২ রানে। পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের হারিয়ে বিপদে পড়া দুরন্ত রাজশাহী দুর্দান্ত এক জয় দিয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) শুভ সূচনা করছে গতকাল মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে। আর প্রথম আসরে খুলনার সঙ্গে হারা ঢাকা ও বরিশালের সঙ্গে হারা সিলেট এই আসরে জয় তুলে নিয়েছে প্রতিশোধ। গতকাল চরম উত্তেজনা লো-স্কোরিং ম্যাচে তামিম ইকবালের চ্যালেঞ্জেরই জয় হয়েছে। প্রথম আসরে চিটাগাং কিংসের অবহেলিত আইকন ক্রিকেটার তামিম ইকবাল এবার রাজশাহীর অধিনায়ক। প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেট ৯৯ রান করতে সমর্থ হয় তামিমের রাজশাহী। আর দুরন্ত রাজশাহীর দুরন্ত বোলিং ফিল্ডিংয়ে তিন বল আগেই ৯৭ রানে অলআউট হয়ে যায় মাহমুদুল্লাহ’র চিটাগাং কিংস।  
জয়ের জন্য ১০০ রানের সহজ লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে চিটাগাং কিংস। ২৫ রানের মধ্যে উপরের সারির তিন সেরা ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন টেইলর জেসন রয় ও রাবি বোপারাকে হারায় তরা। এরপর বেশ দক্ষতার সঙ্গেই টেনে তুলেন অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ ও মেহরাব হোসেন জুনিয়র। কিন্তু জুটিটাকে খুব বেশি বড় করতে পারেননি তারা। ব্যক্তিগত ১৮ রানে মেহরাব ফিরে গেলে জুটি ভাঙ্গে ৩৯ রানের। তার বিদায়ের কিছুক্ষন পরই নাইম ইসলাম আউট হলে চাপ বেড়ে যায় চট্রগ্রামের। সেই চাপ আরো বড় আকার ধারন করে নিউজল্যান্ডের অলরাউন্ডার জ্যাকব ওরামের বিদায়ে। সেই জমে উঠা ম্যাচে আরও উত্তেজনা ছড়িয়েছেন মাহমুদুল্লাহ। দলীয় ৮৭ রানে চট্রগ্রামের সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন তিনি। আবুলের তৃতীয় শিকার হবার আগে ৪০ রান করেন জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক।  অষ্টম উইকেটে জুটি বেঁেধ ধীরে ধীরে দলকে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন মার্শাল ও আরাফাত সানি। জয় থেকে ৬ রান দূরে থাকতে ক্যাচও দিয়েছিলেন মার্শাল। কিন্তু সেই ক্যাচ হাত ফসকে যায় জিয়াউর রহমানের। ফলে বড় বিপদ থেকেই রক্ষা পায় চিটাগাং। কিন্তু তখনও যে নাটকের বেশ কিছু কাহিনী বাকী। আর তা করে দেখাল রাজশাহী দূরন্ত ভাবেই। জয়ের জন্য শেষ ওভারে ৩ রান দরকার ছিল চিটাগাং কিংসের। আর বল হাতে ছিলেন রাজশাহীর আরভিন। আর ঐ ওভারে প্রথম বলেই মার্শালকে ফিরিয়ে দেন আরভিন। আর পরের  বলে দুর্দান্ত ফিল্ডিং-এ এনামুল হককে রান আউটের করে সাজ ঘরে  ফেরান তামিম। ফলে প্রথম দুই বল থেকে কোন রান সংগ্রহ করতে পারেনি চট্রগ্রাম। আর শেষ বেলায় বাজিমাত করেন আরভিন। নিজের করা তৃতীয় বলে আরাফাত সানিকে বোল্ড করে দলকে স্মরনীয় জয় এনে দেন আরভিনই। রাজশাহীর পক্ষে ২০ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন আবুল হাসান। ম্যাচের সেরা হয়েছেন রাজশাহীর শন আরভিন। এর আগে মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে কিংসের  বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্বান্ত নেয় দুরন্ত রাজশাহী। কিন্তু দুই ওপেনারের কাছ থেকে শুরুটা ভালো পায়নি রাজশাহী। দ্রুত ২ উইকেট হারিয়ে বেকাদায় পড়া রাজশাহীকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন তামিম। ২টি বাউন্ডারির সহায়তায় ১৬ বলে ১৭ রান করেন তামিম। তামিমকে ফিরিয়ে দেবার পরের বলেই জিম্বাবুয়ের শন আরভিনকে আউট করে রাজশাহীকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেন মাহমুদুল্লাহ। জিয়াউর ১৩ ও ফরহাদ ৬ রানে ফিরেন। ফলে বড় স্কোর গড়ার পথ একেবারেই বন্ধ হয়ে যায় রাজশাহীর। তারপরও শেষদিকে মুক্তার আলীর অপরাজিত ২২ রানে সম্মানজনক স্কোর গড়তে সমর্থ হয় রাজশাহী। এছাড়া অতিরিক্তর খাতায় যোগ হয়েছে ১৬ রান। চট্রগ্রামের পক্ষে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন মাহমুদুল্লাহ ও বোপারা।

Conduit

Powered by Conduit

adsvert

CHITIKA

clicksor

adsgem