google

Loading

facebook

CHITIKA

আমার বিশ্বাস সঠিক পথে পরিচালিত করলে এ দলই বিশ্বকাপ জিততে পারে। জেমি সিডন্স !!!!!!!

বিদায় শব্দটির অন্তরালে সব সময়ই লুকিয়ে থাকে কষ্ট, বেদনা আর যন্ত্রণা। যেকোনো বিদায়ই কাঁদায়। বিদায় মানেই হৃদয়ে রক্তক্ষরণ। তবে কাল বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে কাঁদেননি কোচ জেমি সিডন্স। কিন্তু তার চোখ ছলছল করছিল, আর তা দেখে বোঝার বাকি থাকে না। বাংলাদেশ দলের সঙ্গে সাড়ে তিন বছরের স্মৃতি কী সহজেই ভোলা যায়। তাই তো বিদায় বেলায় সিডন্স বললেন, 'আমি এই দেশ এবং এখানকার সাধারণ মানুষকে ভালবেসে ফেলেছি।' গতকাল এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সিডন্সের হাতে একটি ক্রেস্ট তুলে দেন বিসিবি প্রেসিডেন্ট আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ সময় তিনি বলেন, 'সিডন্স অনেক ভালো কোচ। তার দ্বারা দলের অনেক উন্নতি হয়েছে। তাকে পেয়ে আমরা গর্বিত। চুক্তি শেষ। আমি অনেক ভাগ্যবান। দলের এমন পর্যায়ে বিসিবি প্রধানের পদে আছি। এখন নতুন কোচ আসবে। তবে সিডন্সের অবদান ভোলার মতো নয়।' অনুষ্ঠানে ছিলেন বিসিবির মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন চেয়ারম্যান জালার ইউনুস এবং বিসিবির সিইও মঞ্জুর আহমেদ ছাড়াও অন্যান্য বোর্ড কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তবে ছিলেন না কোনো ক্রিকেটার। এ সময় গাজী আশরাফ হোসেন লিপু বলেন, 'সিডন্স দলকে একটি নির্দিষ্ট মজবুত অবস্থানে নিয়ে গেছে। ক্রিকেটাররা এখন মানসিক দিক দিয়ে অনেক শক্ত হয়েছে।' ভাগ্যই বটে সিডন্সের! কেননা এই প্রথম বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের কোচ আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায়ী সংবর্ধনা পেলেন তিনি। এর আগে মুদাচ্ছের নজর, মহিন্দর অমরনাথ, গর্ডন গ্রিনিজ, এডি বার্লো, ট্রেভার চ্যাপেল, মহসিন কামাল ও ডেভ হোয়াটমোর বিদায়ী সংবর্ধনার পরিবর্তে তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়েই দেশে ফিরেছেন। তাই বিদায়বেলায় বিসিবির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন তিনি। সিডন্স বলেন, 'বাংলাদেশে আমি অসাধারণ সময় কাটিয়েছি। আন্তর্জাতিক দলের কোচ হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বিসিবির কাছে আমি কৃতজ্ঞ।' তবে সিডন্স চুম্বক কথাটি বলেছেন কয়েকদিন আগে। তিনি বাংলাদেশ দল সম্পর্কে বলেছেন, 'বর্তমানে এই দলের ক্রিকেটারদের গড় বয়স ২২-২৩। আগামী চার বছরে এই দল আরও পরিণত হবে। আমার বিশ্বাস সঠিক পথে পরিচালিত করলে এ দলই বিশ্বকাপ জিততে পারে।' হোয়াটমোরের বিদায়ের পর ২০০৭ সালের অক্টোবরে দায়িত্ব নেন সিডন্স। তার তত্ত্বাবধানে ৮৪ ওয়ানডে খেলেছে বাংলাদেশ। ৩১টি ম্যাচে জয়, আর হার ৫৩। ১৯ টেস্টে জয় ২টি। বাংলাদেশের মতো তরুণ দলের জন্য এই সাফল্য ছোট করে দেখার উপায় নেই। আগামী শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিবেন সিডন্স। এখনো নতুন চাকরি ঠিক হয়নি। তবে বিদায়বেলায় জানালেন নিউজিল্যান্ড নতুন ঠিকানা হয়ে যেতে পারে।

বাংলাদেশের মান বাঁচানোর লড়াই !!!!

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে মান বাঁচাতে হলে বুধবার তৃতীয় ও শেষ একদিনের খেলায় ঘুরে দাঁড়াতেই হবে বাংলাদেশকে। আর অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য বিশ্বকাপের পর নিজেদের প্রথম একদিনের সিরিজে শতভাগ সাফল্য নিয়ে দেশে ফেরা। প্রথম দুই খেলায় জিতে এরই মধ্যে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া। শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খেলা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা আড়াইটায়। মান বাঁচাতে হলে একসঙ্গে জ্বলে উঠতে হবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যান, বোলার ও ফিল্ডারদের। তিন বিভাগে এক সঙ্গে ভালো করতে পারলেই কেবল একদিনের র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দলকে দেশের কন্ডিশনে চাপে ফেলা সম্ভব। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েস বিশ্বকাপে রান পেলেও এবার দুই খেলাতেই ব্যর্থ হয়েছেন। প্রথম খেলায় অর্ধশতক পেলেও পরের ম্যাচে ব্যর্থ অপর উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল। শাহরিয়ার নাফীস দ্বিতীয় খেলায় রান পেয়েছেন ঠিকই কিন্তু নিজের ইনিংসকে বড় করতে পারেননি। রানের মধ্যে আছেন কেবল মুশফিকুর রহীম ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। দুই খেলাতেই ষষ্ঠ উইকেটে ভালো জুটি গড়েছেন তারা। উপরের সারির আরেক ব্যাটসম্যান রকিবুলের ব্যাটেও হাসি নেই। তাই বুধবারের ম্যাচে তার জায়গায় অলক কাপালী কিংবা শুভগত হোম চৌধুরীর মধ্যে যে কোনো একজনকে দলে দেখা যেতে পারে। প্রথম খেলায় অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ও তামিম অর্ধশতক হাঁকালেও তা কার্যকর ছিল না। দ্বিতীয় খেলায় নাফীস ও মুশফিক অর্ধশতক পেয়েছেন। কিন্তু অন্যরা তেমন কোনো অবদান রাখতে না পারায় বেশি দূর এগোয়নি বাংলাদেশের ইনিংস। বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ সেই তুলনায় কিছুটা ভালো। তবে দ্বিতীয় খেলায় শেন ওয়াটসন ঝড়ের পর তৃতীয় খেলায় বোলারদের ফিরে আসা বেশ কঠিন হতে পারে। প্রথম খেলায় ২৭০ ও পরের খেলায় মাত্র ২৬ ওভারে ২৩২ রান করার পর অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদের আত্মবিশ্বাস থাকবে তুঙ্গে। তার পরেও নিজেদের দিনে যে কোনো ব্যাটিং লাইন গুড়িয়ে দেয়ার ক্ষমতা রাখেন স্বাগতিক স্পিনাররা। তৃতীয় খেলায়ও বাংলাদেশকে আলাদাভাবে ভাবতে হবে ফিল্ডিং নিয়ে। প্রথম দুই খেলায় বেশ কিছু সহজ ক্যাচ ছেড়েছেন ফিল্ডাররা। প্রথম ম্যাচে অধিনায়ক ক্লার্ক ও দ্বিতীয় ম্যাচে সহ-অধিনায়ক ওয়াটসন দুজনই 'ভাগ্যে'র সঙ্গে থাকার কথা বলেছেন। অস্ট্রেলিয়ার পেসার ব্রেট লি, মিচেল জনসন ও জন হেস্টিংস স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারেন। জাভিয়ের ডোয়ার্টি, ক্লার্ক ও স্মিথ দলে থাকায় স্পিন বৈচিত্র্যও কম নয় অস্ট্্েরলিয়ার। এর বাইরেও অনেক কিছুর সঙ্গেই লড়তে হবে বাংলাদেশ দলকে। বিশ্বকাপের '৫৮' ও '৭৮' রানের দুঃস্বপ্ন এখনো হয়তো দলকে তাড়া করে। অন্যদিকে বোলাররাও স্বস্তিতে নেই। বিশ্বকাপে ভারত ও গত ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মোটেও ভালো করতে পারেননি তারা। এ সবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ হারের শঙ্কা। বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই খেলায় অসহায় আত্মসমর্পণ। সব মিলিয়ে বেশ চাপে বাংলাদেশ।

একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেশের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে দেড় শ' উইকেট শিকারের মাইলফলক টপকে গেলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা ।

একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেশের দ্বিতীয় বোলার হিসেবে দেড় শ' উইকেট শিকারের মাইলফলক টপকে গেলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। বাংলাদেশের পক্ষে এর আগে দেড় শ' উইকেট শিকারের মাইলফলক অতিক্রম করেন বাঁহাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক। ১২০ খেলায় রাজ্জাকের উইকেট ১৭৩টি। সমান খেলায় ১৫১টি উইকেট নিয়ে তার ঠিক পরেই আছেন মাশরাফি। তার সেরা বোলিং ৬/২৬। ৪ উইকেট নিয়েছেন ৪ বার। ৫ কিংবা তার বেশি উইকেট নিয়েছেন ১ বার। গড় ৩০.৮৬। ওভার প্রতি রান দিয়েছেন ৪.৬৭। স্ট্রাইক রেট ৩৯.৬। একদিনের ক্রিকেটে মাশরাফি প্রথম মাঠে নামেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০০১ সালের ২৩ অক্টোবর। বারবার চোটের কারণে দল থেকে সরে দাঁড়াতে হলেও লড়াই থামাননি তিনি। প্রতিবারই ফিরে এসেছেন তার চির চেনা রূপে। এবারের বিশ্বকাপেও খেলা হয়নি চোটের কারণে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৩ ম্যাচের সিরিজে দলে ফিরেই দারুণ খেলেছেন। ২ খেলায় ২৯ গড়ে নিয়েছেন ৫ উইকেট। তৃতীয় খেলাতেও নেন ৩ উইকেট। ৯ ওভার বল করে দিয়েছেন ৮০ রান। তবে ফিরিয়ে দিয়েছেন মাইকেল ক্লার্ক, ক্যালাম ফার্গুসন ও মিচেল জনসনকে। ফার্গুসনকে ফিরিয়ে দিয়ে নিজের ১৫০তম উইকেট নেন মাশরাফি।

নাফিসের কণ্ঠে দৃঢ়তার সুর

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম বিশ্বকাপকে পিছনে ফেলে আবার সামনে নিয়ে এসেছে ক্রিকেটীয় উন্মাদনা। সবুজ চত্বরের উপর আগামী ৯ এপ্রিল তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া। শক্তির বিচারে বড্ড বেমানান। তুলনা দেওয়ার ক্ষেত্রটাও ক্ষুদ্র। কিন্তু এই ক্ষুদ্র ক্ষেত্রের মাঝেও স্বপ্নের জাল বুনতে পারেন একজন ভক্ত। শাহরিয়ার নাফিসের কথা শুনে হয়তো সেই ভক্তের স্বপ্নের পরিধিটা আরও একটু বিস্তৃত হবে। গতকাল বাংলাদেশ দল সকালে অনুশীলন সেরে নিয়েছে। বিকালে অস্ট্রেলিয়ার দলের অনুশীলনের কথা থাকলেও তারা আসেনি। দীর্ঘ আকাশ পথে ভ্রমণ শেষে অস্ট্রেলিয়া দল বিশ্রাম নিয়েই কাটিয়েছে গতকাল। বাংলাদেশ দলের অনুশীলনের ফাঁকে কথা বললেন শাহরিয়ার নাফিস। বিশ্বকাপে দুই ম্যাচ থেকে ৪২ রান সংগ্রাহী এই ব্যাটসম্যান জানালেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজেদের লক্ষ্যের কথা। 'আমরা বিশ্বকাপ শেষে দশ দিন বিশ্রাম নিয়েছি। এরপর আবারও অনুশীলন শুরু হয়েছে। সবার মাঝেই ভালো ক্রিকেট উপহার দেওয়ার মানসিকতা সৃষ্টি হয়েছে এই কয়দিনে। অস্ট্রেলিয়াকে আমরা ভালোভাবেই মোকাবিলা করতে চাই।' শাহরিয়ার নাফিস অস্ট্রেলিয়ার দুর্বলতার কথাও বললেন। 'অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা তাদের দলে অনেক ক্রিকেটারই নতুন। ওয়াটসন, ক্লার্কের মতো কিছু ক্রিকেটার ছাড়া বাকিরা মাত্র শুরু করেছে বলা যায়। সে হিসেবে আমরা অনেক এগিয়ে আছি।' শহারিয়ার নাফিস অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে নিজেদেরকে কিছুটা এগিয়েই রাখছেন। সেই সঙ্গে তিনি জানালেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সতর্কও থাকতে হবে। 'বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া নিজেদের প্রত্যাশা অর্জন করতে পারেনি। সেই হিসেবে তারা চাপেই থাকবে। এবং ভালো ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করবে। সে জন্য আমাদেরকেও সতর্ক হয়েই খেলতে হবে।' বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল ভালোই করেছে বলে মনে করেন নাফিস। 'ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আমাদের পরাজয় দুটোকে বাদ দিলে বিশ্বকাপে আমরা ভালোই খেলেছি। বিশেষ করে গত বছরের ছয়-সাত মাস তো আমাদের ক্রিকেটের সবচেয়ে ভালো সময় কেটেছে।' মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে উইকেট একটি বড় বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। শাহরিয়ার নাফিসও স্বীকার করলেন কথাটি। 'এই উইকেটে বড় স্কোর করা কঠিন। ২৩০ রানই অনেক ভালো স্কোর এখানে। প্রথমে ব্যাট করে ২৩০ রানের উপরে যেতে পারলে সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।' শাহরিয়ার নাফিস সবচেয়ে বেশি বললেন স্পিনারদের কথা। অস্ট্রেলিয়া স্পিনে কিছুটা দুর্বল। শেন ওয়ার্ন চলে যাওয়ার পর তাদের তেমন ভালো কোনো স্পিনারও আসেনি। সেই হিসেবে বাংলাদেশ তো কিছুটা এগিয়ে থাকবেই। 'আমাদের দলে তিনজন বিশ্ব মানের স্পিনার আছেন। তারা যে কোনো সময়ই দলের পক্ষে জ্বলে উঠে বিজয় ছিনিয়ে আনতে সক্ষম।' অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশ দল কেমন করবে তা এখনই বলা মুশকিল। তবে একটি দৃপ্ত বাংলাদেশকেই দেখতে চাইবেন ভক্তরা।

ক্ষুব্ধ অস্ট্রেলিয়া, সতর্ক বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘদিনের রাজত্ব শেষ হয়েছে ঠিক শুরুর বিন্দুটিতে এসে। যে পাকিস্তানকে দিয়ে শুরু করেছিল তারা সেই পাকিস্তানই থামিয়ে দিল অসিদের। এরপর ভারতের কাছে ৫ উইকেটে পরাজিত হয়ে বিশ্বকাপ থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল অস্ট্রেলিয়াকে। এশিয়ানরাই অস্ট্রেলিয়ার জয় রথ থামিয়ে দিয়েছে। এশিয়ানদের বিপক্ষে মাইকেল ক্লার্কের ক্ষোভ তো জন্ম নিতেই পারে। বাংলাদেশের মাটিতে সেই ক্ষোভ কি সঙ্গে নিয়ে এসেছেন অসি অধিনায়ক? কিছুদিন আগে অ্যাশেজ সিরিজে ইংল্যান্ডের কাছে হেরেছিলেন রিকি পন্টিং। কিন্তু ওয়ানডে সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে নেতৃত্ব দিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬-১ ব্যবধানে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলেন ক্লার্ক। যেন ইট মারার পর পাটকেল খাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। পন্টিংয়ের ইচ্ছেটাই পূরণ করেছিলেন ক্লার্ক? অস্ট্রেলিয়াকে অনেকদিন নেতৃত্ব দিলেন পন্টিং। ১৯৯৫ সাল থেকে যাত্রা শুরু করে পন্টিং প্রায় দেড় যুগ ক্রিকেট বিশ্বে চালিয়েছেন তার রাজত্ব। কখনো শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে। আবার কখনো অধিনায়ক হিসেবে। পন্টিং অধিনায়কত্ব থেকে আনুষ্ঠানিকভাবেই বিদায় নিলেন এবার। বরং বলা যায় তাকে অব্যাহতি দিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। এবার কি মাইকেল ক্লার্ক যুগের শুরু? বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে ঢাকায় উপস্থিত ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। এশিয়ার কাছ থেকে বিশ্বকাপে আঘাত পেয়ে অসিরা এখন আহত ব্যাঘ্রের মতোই! ঢাকায় কি তারই প্রতিফলন দেখা যাবে? মাইকেল ক্লার্ক এক নতুন দিগন্তের ইঙ্গিত দিচ্ছেন অসি ক্রিকেটের। সেই নতুন দিগন্ত কি বাংলাদেশ থেকেই উন্মোচন করতে চান তিনি? সতর্কই থাকতে হবে সাকিবদের। আহত অস্ট্রেলিয়ার ভয়ঙ্কর ক্রিকেটের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রস্তুত করেই মাঠে নামতে হবে টাইগারদের। আর যেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ (৫৮ রান) কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকা (৭৮ রান) ঘটনার মতো বিপর্যয় না ঘটে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে ভয়ঙ্কর অস্ট্রেলিয়া!কিন্তু বাংলাদেশেরও যে কিছু করার আছে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশের জয় পরাজয়ের অনুপাত প্রায় সমান। ৩৮ ম্যাচের ১৮টিতেই জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এই মাঠে বাংলাদেশকে পয়মন্ত হিসেবেই দেখা হতো এতদিন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুটি 'মাসাকার' হওয়ার পর এখন ফিরে আসার দাবি জানাতেই পারে তারা। পয়মন্ত মাঠটিকে আগের অবস্থানে নিয়ে আসাই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ লক্ষ্য। গতকাল অনুশীলনের ফাঁকে তাই জানালেন বিশ্বকাপ দলে থাকা শাহরিয়ার নাফিস। তিনি বলেন, 'অস্ট্রেলিয়া দলটি নতুন তারকা দিয়ে ভরপুর। তাদের বিরুদ্ধে খেলা কঠিন হলেও আমাদের সেরা ক্রিকেটটাই আমরা খেলব।' সেই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আরও একটি কারণে খেলা সহজ হবে বলে মনে করেন নাফিস। বর্তমান অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে নিজেদের চাওয়ার পূর্ণ করতে পারেনি। সে কারণে তারাই চাপে থাকবে। সেই চাপ থেকে বাংলাদেশ সুবিধা নিতে পারবে বলে মনে করেন শাহরিয়ার নাফিস।বাংলাদেশ দল কতটুকু সুবিধা পাবে তার চেয়েও বড় কথা হয়ে উঠছে মিরপুরের উইকেট কতটা সহায়তা দিবে টাইগারদের? বিশ্বকাপে নিজেকে একেবারেই মেলে ধরেনি মিরপুর। যেমনটি দেখা গিয়েছিল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে। দেখা গিয়েছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজেও। সেই মিরপুর কি এবারে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও নিজেকে মেলে ধরবে না টাইগারদের জন্য?অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক কার্ডিফ স্মৃতি নিয়েই এখনো হেসে ওঠেন ভক্তরা। মিরপুর নিয়েও হেসে ওঠার উপলক্ষ এবারই সৃষ্টি করে দিতে পারেন সাকিবরা। শাহরিয়ার নাফিসের কণ্ঠে কি সেই সুরই শোনা গেল না? 'আমাদের বিশ্ব সেরা তিন জন স্পিনার আছে। যারা যে কোনো সময়ই দলকে বৃহৎ বিজয় উপহার দিতে পারেন।' সাকিবদের অতীত বলে শাহরিয়ার নাফিসের কথা মিথ্যে নয়। এবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজের দলকে বিজয় উপহার দেওয়ার প্রত্যাশায়ই থাকবেন তারা। এমন অপেক্ষায় থাকবেন ভক্তরাও। তবে টাইগারদেরকে সতর্কতার মধ্য দিয়েই খেলতে হবে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে।

Conduit

Powered by Conduit

adsvert

CHITIKA

clicksor

adsgem